ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবার শুরু হলো প্রথম ডোজের টিকাদান

ফের শুরু হচ্ছে করোনা টিকার প্রথম ডোজ দেয়ার কার্যক্রম। উপহার হিসেবে চীন সরকারের দেয়া সিনোফার্মের টিকা দেয়ার মধ্য দিয়ে আজ শনিবার থেকে সারাদেশে এই কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে।

এ টিকা দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সরকারি জেনারেল হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে দেয়া হবে। তবে এই টিকা সবার জন্য নয়। ১০ ক্যাটাগরির মানুষকে এই টিকা দেয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ৬ ক্যাটাগরির মানুষকে এ টিকা দিতে বিরত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডাইরেক্টর (এমএমসি এন্ড এ এইচ) ও করোনা টিকা ব্যবস্থাপনা কমিটি সদস্য সচিব ডা. মো. শামসুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

উপহার হিসেবে চীন সরকারের পক্ষ থেকে গত ১২ মে ৫ লাখ এবং ১৩ জুন ৬ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়।

যারা টিকা পাবেন: চিঠিতে বলা হয়, করোনা টিকা পাওয়ার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রে যারা ইতোমধ্যে নিবন্ধন করেছেন কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো টিকা পাননি তাদেরকে টিকা দেয়া হবে। আগে যারা টিকা নেননি এমন সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ সদস্যরাও টিকা পাবেন। বিদেশগামী বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী, সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে শিক্ষার্থী, সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি সরকারি ম্যাটস ও সহকারী আইএসটি শিক্ষার্থীরা এ টিকায় অগ্রাধিকার পাবেন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরাও এ টিকা পাবেন।বিডার আওতাধীন ও অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক সরকারি প্রকল্প কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী (যেমন পদ্মা সেতু প্রকল্প, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প, মেট্রোরেল প্রকল্প, এক্সপ্রেস হাইওয়ে প্রকল্প, রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প ও রংপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প ইত্যাদি), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সারাদেশে করোনা রোগীর মৃতদেহ সৎকার কাজে নিয়োজিত ওয়ার্ড পৌরসভার কর্মী এবং বাংলাদেশে বসবাসরত চীনা নাগরিক।

টিকা দেয়ার জন্য প্রতি জেলায় (ঢাকা জেলা বাদে) একটি করে টিকা কেন্দ্র হবে এবং প্রতি কেন্দ্রে দুইটি করে বুথ থাকবে। ঢাকা জেলায় চারটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) প্রতিটিতে একটি করে টিকা কেন্দ্র হবে। আর প্রতিটি কেন্দ্রে দুটি করে বুথ থাকবে। যে সব জেলায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেই সেসব জেলায় সিভিল সার্জন জেলা করোনা টিকা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে সদর হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের যে কোনো একটিকে নির্বাচিত করে টিকা কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা দেয়া হবে এবং ওই কেন্দ্রে দুইটি করে বুথ থাকবে।

প্রতিদিন (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) টিকাদান কেন্দ্র সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। টিকা গ্রহীতার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে বুথ চালু করতে হবে (যেমন ১৫০ থেকে ২০০ জনের জন্য একটি বুথ, ২০০ জনের বেশি হলে দুইটি বুথ)। প্রতিটি বুথে দুই জন টিকাদানকারী ও তিনজন স্বেচ্ছাসেবী থাকবেন। প্রথম ডোজ নেয়ার ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। সংযুক্ত ফরমেট অনুযায়ী টিকা গ্রহীতাদের তালিকাভুক্ত করে টিকা দিতে হবে। প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্রে একটি নির্দিষ্ট মেডিকেল টিম থাকতে হবে যাদের এইএফআই ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকবে।

টিকা যারা পাবেন না: অনূর্ধ্ব ১৮ বছর বয়সি জনগোষ্ঠী, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা, টিকা নেয়ার সময় জ্বরাক্রান্ত বা অসুস্থ ব্যক্তি। টিকা নেয়ার পর অ্যালার্জির পূর্ব ইতিহাস থাকলে, প্রথম ডোজ নেয়ার পর মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে। অনিয়ন্ত্রিত দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক বা শ্বাসকষ্ট, কিডনি রোগ, ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন এমন ব্যক্তি, ক্যানসার আক্রান্ত এবং স্বল্প রোগ-প্রতিরোধক্ষমতা জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

Tag :

আবার শুরু হলো প্রথম ডোজের টিকাদান

Update Time : ০৩:১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১

ফের শুরু হচ্ছে করোনা টিকার প্রথম ডোজ দেয়ার কার্যক্রম। উপহার হিসেবে চীন সরকারের দেয়া সিনোফার্মের টিকা দেয়ার মধ্য দিয়ে আজ শনিবার থেকে সারাদেশে এই কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে।

এ টিকা দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সরকারি জেনারেল হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে দেয়া হবে। তবে এই টিকা সবার জন্য নয়। ১০ ক্যাটাগরির মানুষকে এই টিকা দেয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ৬ ক্যাটাগরির মানুষকে এ টিকা দিতে বিরত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডাইরেক্টর (এমএমসি এন্ড এ এইচ) ও করোনা টিকা ব্যবস্থাপনা কমিটি সদস্য সচিব ডা. মো. শামসুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

উপহার হিসেবে চীন সরকারের পক্ষ থেকে গত ১২ মে ৫ লাখ এবং ১৩ জুন ৬ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়।

যারা টিকা পাবেন: চিঠিতে বলা হয়, করোনা টিকা পাওয়ার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রে যারা ইতোমধ্যে নিবন্ধন করেছেন কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো টিকা পাননি তাদেরকে টিকা দেয়া হবে। আগে যারা টিকা নেননি এমন সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ সদস্যরাও টিকা পাবেন। বিদেশগামী বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী, সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে শিক্ষার্থী, সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি সরকারি ম্যাটস ও সহকারী আইএসটি শিক্ষার্থীরা এ টিকায় অগ্রাধিকার পাবেন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরাও এ টিকা পাবেন।বিডার আওতাধীন ও অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক সরকারি প্রকল্প কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী (যেমন পদ্মা সেতু প্রকল্প, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প, মেট্রোরেল প্রকল্প, এক্সপ্রেস হাইওয়ে প্রকল্প, রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প ও রংপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প ইত্যাদি), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সারাদেশে করোনা রোগীর মৃতদেহ সৎকার কাজে নিয়োজিত ওয়ার্ড পৌরসভার কর্মী এবং বাংলাদেশে বসবাসরত চীনা নাগরিক।

টিকা দেয়ার জন্য প্রতি জেলায় (ঢাকা জেলা বাদে) একটি করে টিকা কেন্দ্র হবে এবং প্রতি কেন্দ্রে দুইটি করে বুথ থাকবে। ঢাকা জেলায় চারটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) প্রতিটিতে একটি করে টিকা কেন্দ্র হবে। আর প্রতিটি কেন্দ্রে দুটি করে বুথ থাকবে। যে সব জেলায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেই সেসব জেলায় সিভিল সার্জন জেলা করোনা টিকা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে সদর হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের যে কোনো একটিকে নির্বাচিত করে টিকা কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা দেয়া হবে এবং ওই কেন্দ্রে দুইটি করে বুথ থাকবে।

প্রতিদিন (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) টিকাদান কেন্দ্র সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। টিকা গ্রহীতার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে বুথ চালু করতে হবে (যেমন ১৫০ থেকে ২০০ জনের জন্য একটি বুথ, ২০০ জনের বেশি হলে দুইটি বুথ)। প্রতিটি বুথে দুই জন টিকাদানকারী ও তিনজন স্বেচ্ছাসেবী থাকবেন। প্রথম ডোজ নেয়ার ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। সংযুক্ত ফরমেট অনুযায়ী টিকা গ্রহীতাদের তালিকাভুক্ত করে টিকা দিতে হবে। প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্রে একটি নির্দিষ্ট মেডিকেল টিম থাকতে হবে যাদের এইএফআই ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকবে।

টিকা যারা পাবেন না: অনূর্ধ্ব ১৮ বছর বয়সি জনগোষ্ঠী, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা, টিকা নেয়ার সময় জ্বরাক্রান্ত বা অসুস্থ ব্যক্তি। টিকা নেয়ার পর অ্যালার্জির পূর্ব ইতিহাস থাকলে, প্রথম ডোজ নেয়ার পর মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে। অনিয়ন্ত্রিত দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক বা শ্বাসকষ্ট, কিডনি রোগ, ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন এমন ব্যক্তি, ক্যানসার আক্রান্ত এবং স্বল্প রোগ-প্রতিরোধক্ষমতা জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।