লণ্ডভণ্ড শিক্ষাপ্ঞ্জুীতে বিপাকে শিশু শিক্ষার্থীরা। অনেকেই এখনো স্কুল আঙ্গিনার বাইরে। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে যেসব শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিল মাত্র এক মাসের ব্যবধানে স্কুল বন্ধ হওয়ায় সরাসরি ক্লাস থেকে ছিটকে পড়ে তারা। একইভাবে প্রাকল্প্রাথমিকের (শিশু শ্রেণী) শিক্ষার্থীরাও স্কুল চেনার আগেই করোনায় ঘরবন্দী হয়। ২০২১ সালের নতুন শিক্ষাবর্ষেও প্রথম শ্রেণী এবং প্রাকল্প্রাথমিকের কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারেনি। ফলে এই দুই শ্রেণী মিলে দুই বছরে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী স্কুলের চৌহদ্দিতেই ঢুকেনি বলা যায়। প্রিয় স্কুলের আঙিনা এখনো তাদের অচেনা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্র জানায়, প্রতি বছর নতুন শিক্ষাবর্ষে শুধু প্রথম শ্রেণীতেই ৩৭-৩৮ লাখ শিশু শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। এদের প্রত্যেকেরই বয়স ৬ বছর। আর সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ বছর বয়সের শিশুরা ভর্তি হয় শিশু শ্রেণী বা প্রাক-প্রাথমিকে। প্রাক-প্রাথমিকের শিশুদের সংখ্যাও কমবেশি ১৮ থেকে ২০ লাখ। অর্থাৎ ডিপিইর দেয়া তথ্যমতেই প্রতি বছর প্রাক-প্রাথমিক আর প্রথম শ্রেণী মিলে দুই শ্রেণীতে নতুনভাবে স্কুলে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৭ থেকে ৫৮ লাখ। যেহেতু করোনার কারণে দুই বছর শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ ছিল তাই স্বাভাবিকভাবেই গত দুই বছরে এক কোটির বেশি শিশু স্কুলের আঙ্গিনার ভেতরে প্রবেশই করতে পারেনি। নতুন শিক্ষাবর্ষ চালু হলে স্কুলে ভর্তির আশায় রয়েছে তারা।
শিক্ষার্থীদের পাঠকার্যক্রম জানুয়ারি থেকে নতুন গতিতে চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি। গত ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী মাসে (নভেম্বর) এসএসসি এবং পরের মাসে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পাঠদান শুরু করা হবে। অর্থাৎ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রথম ও প্রাক-প্রাথমিকে নতুন করে বয়স অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। তখন কোনো শিক্ষার্থী আর স্কুলের বাইরে থাকার সুযোগ নেই। সব শিশুকেই স্কুলে ফিরিয়ে আনা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সচল হওয়ার পর কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা মূল্যায়ন করে ইতোমধ্যে দুই দফায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি রিভিও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ উভয় মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার কারণে নতুন করে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ ও ঝুঁকি তৈরি করা হবে না। এ দুই পরীক্ষা শেষ হলে আগামী বছরের শুরু থেকে সব শ্রেণীর ক্লাসে পাঠদান স্বাভাবিক করা হবে।
অনলাইন ডেস্ক 
























