ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আন্দোলন কতদিন চলবে, যা বলছে ককরোচ পার্টি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে হোটেলকক্ষের গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করুন মোবাইল দিয়েই গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত ফরিদপুরে যাত্রা শুরু করল ‘পেয়ালা ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ ফরিদপুরে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য: সচেতনতা, সহমর্মিতা ও করণীয় বিষয়ক নন্দিতা সুরক্ষার কর্মশালা অনুষ্ঠিত মেসিকে নিয়ে আবারও নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করলেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় তিন ধাপ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ আমূল বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট

ইরান যুদ্ধের সব লক্ষ্য ‘প্রায় অর্জিত’: ট্রাম্প

ইরানে সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জনের প্রায় সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং এই অভিযান শেষ পর্যায়ে আছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

স্থানীয় সময় বুধবার জাতির উদ্দেশে টেলিভিশন ভাষণে তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর হামলা চালিয়ে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করা হবে।

২০ মিনিটের এই ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের নৌবাহিনী, ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে। তবে যুদ্ধ শেষের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি উল্লেখ করেননি।

ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, যদি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না আসে, তবে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে একযোগে হামলা চালানো হবে। যদিও এখনও ইরানের তেল খাতে আঘাত হানা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে সাহস দেখিয়ে প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

ভাষণের আগে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলার থাকলেও ভাষণের পর তা বেড়ে ১০৫ ডলারে পৌঁছায়, যা বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ দাবি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে ট্রাম্পের ভাষণকে তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম বড় নীতিগত ভুল হিসেবে বিবেচিত হবে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ১২ হাজার ৩০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে ট্রাম্পের বিজয় দাবি সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

একটি জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে, এমনকি ট্রাম্পের লক্ষ্য পূরণ না হলেও। জরিপে ৬০ শতাংশ মানুষ ইরানে সামরিক হামলার বিরোধিতা করেছেন।

Tag :
জনপ্রিয়

নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

ইরান যুদ্ধের সব লক্ষ্য ‘প্রায় অর্জিত’: ট্রাম্প

Update Time : ০৮:০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

ইরানে সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জনের প্রায় সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং এই অভিযান শেষ পর্যায়ে আছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

স্থানীয় সময় বুধবার জাতির উদ্দেশে টেলিভিশন ভাষণে তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর হামলা চালিয়ে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করা হবে।

২০ মিনিটের এই ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের নৌবাহিনী, ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে। তবে যুদ্ধ শেষের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি উল্লেখ করেননি।

ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, যদি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না আসে, তবে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে একযোগে হামলা চালানো হবে। যদিও এখনও ইরানের তেল খাতে আঘাত হানা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে সাহস দেখিয়ে প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

ভাষণের আগে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলার থাকলেও ভাষণের পর তা বেড়ে ১০৫ ডলারে পৌঁছায়, যা বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ দাবি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে ট্রাম্পের ভাষণকে তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম বড় নীতিগত ভুল হিসেবে বিবেচিত হবে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ১২ হাজার ৩০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে ট্রাম্পের বিজয় দাবি সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

একটি জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে, এমনকি ট্রাম্পের লক্ষ্য পূরণ না হলেও। জরিপে ৬০ শতাংশ মানুষ ইরানে সামরিক হামলার বিরোধিতা করেছেন।