ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলকে দ্বিতীয় বারের মতো থাড ব্যাটারি দিলো যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলে দ্বিতীয় থাড ব্যাটারি হস্তান্তর করেছে। রোববার (৬ মার্চ) সৌদি আল-হাদাত চ্যানেলের সূত্রে টাইমস অফ ইসরাইল এই তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রে বলা হয়েছে, ব্যাটারিটি গতকাল সরবরাহ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোতে দেখা গেছে, মার্কিন বিমান বাহিনীর বৃহত্তম পরিবহন বিমান সি-৫এম সুপার গ্যালাক্সি দক্ষিণ ইসরাইলের নেভাটিম বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে এবং পুনরায় উড্ডয়নের আগে প্রায় আট ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে।

থাড -টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স সিস্টেম- একটি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইসরাইলে মোতায়েন এই থাড সিস্টেমটি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেন থেকে ইরান-সমর্থিত হাউছি গোষ্ঠীর নিক্ষিপ্ত বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়েছে।

গত সপ্তাহে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে চুক্তিতে না আসে, তবে ইরানকে ‘বোমা হামলা’ এবং সেকেন্ডারি ট্যারিফের মুখোমুখি হতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত বছর ইসরাইলে প্রথম থাড ব্যাটারি পাঠানো হয়। এই ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এটি প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের পরিপূরক হিসেবে কাজ করলেও বৃহত্তর এলাকাজুড়ে সুরক্ষা দিতে সক্ষম এবং ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার (৯৩–১২৪ মাইল) দূরত্বে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

গত বছর, তেহরানের পক্ষ থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলে ইসরাইল পাল্টা প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা চালায়। এই হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, কারখানা, গুদাম, লঞ্চার এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এর মধ্যে এমন একটি স্থাপনাও ছিল, যেটিকে শাসকগোষ্ঠীর সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেখা হয়।

বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে ব্যাপকভাবে উচ্চ ঝুঁকির আওতায় বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ তেহরানের অনেক আঞ্চলিক মিত্র এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইসরাইলের অস্তিত্ব ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি দিলেও ইরান পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে। তবে দেশটি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়িয়েছে-যা বিশ্বের মধ্যে একমাত্র উদাহরণ, যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও এই মাত্রায় সমৃদ্ধকরণ চালানো হয়েছে। একইসাথেদ, ইরান আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

সূত্র : টাইমস অফ ইসরাইল

Tag :

ইসরাইলকে দ্বিতীয় বারের মতো থাড ব্যাটারি দিলো যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : ০৬:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলে দ্বিতীয় থাড ব্যাটারি হস্তান্তর করেছে। রোববার (৬ মার্চ) সৌদি আল-হাদাত চ্যানেলের সূত্রে টাইমস অফ ইসরাইল এই তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রে বলা হয়েছে, ব্যাটারিটি গতকাল সরবরাহ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোতে দেখা গেছে, মার্কিন বিমান বাহিনীর বৃহত্তম পরিবহন বিমান সি-৫এম সুপার গ্যালাক্সি দক্ষিণ ইসরাইলের নেভাটিম বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে এবং পুনরায় উড্ডয়নের আগে প্রায় আট ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে।

থাড -টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স সিস্টেম- একটি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইসরাইলে মোতায়েন এই থাড সিস্টেমটি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেন থেকে ইরান-সমর্থিত হাউছি গোষ্ঠীর নিক্ষিপ্ত বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়েছে।

গত সপ্তাহে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে চুক্তিতে না আসে, তবে ইরানকে ‘বোমা হামলা’ এবং সেকেন্ডারি ট্যারিফের মুখোমুখি হতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত বছর ইসরাইলে প্রথম থাড ব্যাটারি পাঠানো হয়। এই ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এটি প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের পরিপূরক হিসেবে কাজ করলেও বৃহত্তর এলাকাজুড়ে সুরক্ষা দিতে সক্ষম এবং ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার (৯৩–১২৪ মাইল) দূরত্বে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

গত বছর, তেহরানের পক্ষ থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলে ইসরাইল পাল্টা প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা চালায়। এই হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, কারখানা, গুদাম, লঞ্চার এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এর মধ্যে এমন একটি স্থাপনাও ছিল, যেটিকে শাসকগোষ্ঠীর সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেখা হয়।

বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে ব্যাপকভাবে উচ্চ ঝুঁকির আওতায় বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ তেহরানের অনেক আঞ্চলিক মিত্র এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইসরাইলের অস্তিত্ব ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি দিলেও ইরান পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে। তবে দেশটি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়িয়েছে-যা বিশ্বের মধ্যে একমাত্র উদাহরণ, যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও এই মাত্রায় সমৃদ্ধকরণ চালানো হয়েছে। একইসাথেদ, ইরান আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

সূত্র : টাইমস অফ ইসরাইল