ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলের উপর গত শনিবার নজিরবিহীন এক আক্রমণ করেছে। হামাস যোদ্ধারা অভিনব এক কৌশলে ঘুণাক্ষরেও কাউকে টের পেতে না দিয়ে এক প্রকার আকস্মিকভাবেই গাজা উপত্যকার কাছাকাছি ইরায়েলি বসতিগুলোতে ঢুকে পড়ে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। আর এতে বহু ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হয় এবং অনেককে জিম্মি করে হামাস। কে বা কারা এই ‘হামাস’?
কে এই হামাস?
১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের এক ভোটাভুটিতে যখন ফিলিস্তিনকে দুই টুকরো করে দুটি পৃথক ইহুদী এবং আরব রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়। তখন আরব নেতারা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশরা ফিলিস্তিন ছাড়ার পর থেকেই উড়ে এসে জুড়ে বসা ইহুদী নেতারা ফিলিস্তিনে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো শুরু করে। শুরু হয় যুদ্ধ।
আমন্ত্রণ বিহীন অতিথি হয়ে মাটি গেড়ে বসে থাকা অনাহুত ইসরায়েলরা যখন অত্যাচার অবিচারের সকল সীমানা পার করে ফিলিস্তিনিদের পূর্ব জেরুজালেমসহ বেশ কিছু অঞ্চল দখল করে নিয়ে পুরো জেরুজালেম নগরীকেই তাদের রাজধানী বলে দাবী করা শুরু করলো ঠিক সেসময়ই তাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনে শুরু হয় গণজাগরণ। যার ফলে রক্তাক্ত ফিলিস্তিনে জন্ম নেয় এক স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘হামাস’।
১৯৮৭ সালের দিকে সেসময় হামাসের দাবী ছিল পশ্চিম তীর এবং অবরুদ্ধ গাজাকে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করা। এ প্রয়াস সফল করতেই কট্টর ইসরায়েল বিরোধী দুই নেতা শেখ আহমেদ ইয়াসিন ও আবদেল আজিজ রানতেসী চিন্তা করেন একটি স্বাবলম্বী দল তৈরি করার। আর এ উদ্দেশ্যেই তৈরি হয় আজকের ইসরায়েলের আতঙ্ক ‘হামাস’ নামক সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।
হামাসের একটি অংশের নাম ইজ্জেদিন আল কাশেম বিগ্রেডস। আর এ শাখার কাজ হলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম গড়ে তোলা। এর উদ্দেশ্যে বর্তমান ইসরায়েল, গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে একটি একক মুসলিম রাষ্ট্র গড়ে তোলা। তবে এর বাকি শাখাগুলোর মূল এজেন্ডা ইসরায়েলি হামলা থেকে ফিলিস্তিনিদের পূর্নবাসন ও নানা জনকল্যাণমূলক কাজ। ইসরায়েলে হামলার পর বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশ ‘হামাস’ কে একটি জঙ্গি বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যা দেয়। কিন্তু আসলেও কি তারা তাই?
জবাব নাকি সন্ত্রাসবাদ?
রাজনীতিতে ‘হামাস’ যুক্ত হয় ২০০৫ সালে। পরের বছর মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাত্তাহকে হারিয়ে ফিলিস্তিনি আইন পরিষদে জয় পায় তারা। করে সরকার গঠন। সেই থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ দলটির হাতে, এরপরও সেসময় থেমে ছিল না ইসরায়েল বিরোধী সংগ্রাম। ২০০৮ সালে বেড়ে যায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি। ঐ বছর দলটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। একই বছর ডিসেম্বরে হামাসের বিরুদ্ধে আগ্রাসী আক্রমণ শুরু করে তেলআবীব। ২০০৯ সাল পর্যন্ত গড়ায় সেবারের যুদ্ধ। এ সময় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় সংগঠনটির। এরপর থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের সাথে চারটি বড় যুদ্ধে জড়িয়েছে হামাস। এ দীর্ঘ সংগ্রামে মূলত ইরান, সিরিয়া ও লেবাননের হিজবুল্লাহ’র গোপন কিংবা প্রকাশ্য সমর্থন পেয়েছে গোষ্ঠীটি।
বিগত কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। সবচাইতে বেশি ভয়ংকর হামলায় জর্জরিত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যাকার মানুষগুলোর ভাষ্যমতে তারা শেষ কবে একটু শান্তিতে ঘুমোতে পেরেছেন, সেটা তাদের মনে পড়ে না। নিজেদের বাড়িঘর ফেলে উদ্বাস্তুর মত শুধু প্রাণ বাঁচানোর আশায় ছুটে চলা। দশকের পর দশক ধরে ইসরায়েলি বর্বরতায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের ঘরবাড়ি ফেলে পালাতে বাধ্য হয়েছে। গত ৫০ বছর ধরে ইসরায়েল ফিলিস্তিনে তাদের দখলীকৃত জায়গায় ইহুদী বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে। আর এদিকে ফিলিস্তিনের বাসিন্দাদের নিজেদের রাষ্ট্রেই নেই নিজেদের কোনো দখল। ইসরায়েলি দখলদারীত্বের আগ্রাসনে তারা শুধু প্রাণ বাঁচাতে পালিয়েই বেড়াচ্ছে।
দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে প্রতিরোধ আসবেই। আর বিগত ৭৫ বছর ধরে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর চলা ইসরায়েলিদের বর্বরতার কঠিন জবাব দিতে হামাস যে হামলা চালিয়েছে তাতে তাদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আখ্যা দেবার যৌক্তিকতা কোথায়?
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দুর্ভেদ্য প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এবার বড় পরিসরে হামলা চালিয়েছে হামাস। দশকের পর দশক ধরে ইসরায়েলি আগ্রাসন আর বর্বরতার জবাব দিতেই তাদের এ হামলা।
হামাস কী চায়, তাদের সমর্থক কারা?
১৯৪৮ সাল থেকেই ফিলিস্তিন দখল করতে শুরু করে ইসরাইল। এর আগে থিউডোর হার্জেল সুলতান আব্দুল হামিদের কাছে ফিলিস্তিনের ভূমি চেয়ে কোনো ফল পায়নি। এরপর থেকেই তারা দখলদারিত্ব, অন্যায়ভাবে হত্যা, খুন-গুমের মাধ্যমে ফিলিস্তিন দখল করার চেষ্টা শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতা এখনও চলছে।
আর ইসরাইলের এই আগ্রাসের বিরুদ্ধে একচেটিয়া ও নির্লজ্জ সমর্থন ও সহায়তা দিয়ে আসছে আমেরিকা ও পশ্চিমারা। এই দখলদারিত্বের প্রতিবাদেই প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করে ফিলিস্তিন। ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাজেশন- পিএলও এই যুদ্ধ শুরু হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের ফিলিস্তিন নামের যে এলাকা, সেটি ছিলো অটোমান সাম্রাজ্যের অধীন। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমানদের পরাজয়ের পর ব্রিটেন ফিলিস্তিনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন ফিলিস্তিনে যারা থাকতো তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল আরব, সেই সঙ্গে কিছু ইহুদী, যারা ছিল সংখ্যালঘু।
কিন্তু এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করলো যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্রিটেনকে দায়িত্ব দিলো ইহুদী জনগোষ্ঠীর জন্য ফিলিস্তিনে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার। ইহুদীরা এই অঞ্চলকে তাদের পূর্বপুরুষদের দেশ বলে দাবি করে। কিন্তু আরবরাও দাবি করে এই ভূমি তাদের।
১৯২০ থেকে ১৯৪০ দশকের মধ্যে ইউরোপ থেকে দলে দলে ইহুদীরা ফিলিস্তিনে যেতে শুরু করে এবং তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ইউরোপে ইহুদী নিপীড়ন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভয়ংকর ইহুদী নিধনযজ্ঞের পর সেখান থেকে পালিয়ে এরা নতুন এক মাতৃভূমি তৈরির স্বপ্ন দেখছিল।
ফিলিস্তিনে তখন ইহুদী আর আরবদের মধ্যে সহিংসতা শুরু হলো, একই সঙ্গে সহিংসতা বাড়ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধেও। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘে এক ভোটাভুটিতে ফিলিস্তিনকে দুই টুকরো করে দুটি আলাদা ইহুদী এবং আরব রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হলো।
জাতিসংঘের ঘোষণায় বলা হলো, জেরুজালেম থাকবে একটি আন্তর্জাতিক নগরী হিসেবে। ইহুদী নেতারা এই প্রস্তাব মেনে নেন, কিন্তু আরব নেতারা প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে জাতিসংঘের এই পরিকল্পনা কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি। ব্রিটিশরা এই সমস্যার কোনো সমাধান করতে ব্যর্থ হয়ে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ছাড়ে।
ইহুদী নেতারা এরপর ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। বহু ফিলিস্তিনি এর প্রতিবাদ জানান এবং এরপর যুদ্ধ শুরু হয়। প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সৈন্যরাও যেখানে যায় যুদ্ধ করতে। হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে তখন হয় তাদের ঘরবাড়ি ফেলে পালাতে হয় অথবা চলে যেতে বাধ্য করা হয়।
ফিলিস্তিনিরা এই ঘটনাকে ‘আল নাকবা’ বা ‘মহা-বিপর্যয়’ বলে থাকে। পরের বছর এক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে যখন যুদ্ধ শেষ হলো, ততদিনে ইসরাইল ফিলিস্তিনের বেশিরভাগ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। জর্ডান দখল করেছিল একটি অঞ্চল, যেটি এখন পশ্চিম তীর বলে পরিচিত। আর মিশর দখল করেছিল গাজা।
জেরুজালেম নগরী ভাগ হয়ে যায়, ইসরাইলি বাহিনী দখল করে নগরীর পশ্চিম অংশ, আর জর্ডানের বাহিনী পূর্ব অংশ। দুই পক্ষের মধ্যে যেহেতু কখনোই কোনো শান্তি চুক্তি হয়নি, তাই উভয় পক্ষই অপর পক্ষকে দোষারোপ করতে থাকে। দুই পক্ষের মধ্যে পরের দশকগুলোতে এরপর আরও বহু যুদ্ধ হয়েছে।
১৯৬৭ সালে আরেকটি যুদ্ধে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীর, সিরিয়ার গোলান মালভূমি, গাজা, এবং মিশরের সিনাই অঞ্চল দখল করে নেয়। বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি শরণার্থী থাকে গাজা এবং পশ্চিম তীরে।
প্রতিবেশী জর্ডান, সিরিয়া এবং লেবাননেও আছে অনেক ফিলিস্তিনি। ইসরাইল এই ফিলিস্তিনি এবং তাদের বংশধরদের কাউকেই আর তাদের বাড়িঘরে ফিরতে দেয়নি। ইসরাইল বলে থাকে, এদের ফিরতে দিলে সেই চাপ ইসরাইল নিতে পারবে না এবং ইহুদী রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। ইসরাইল এখনও পশ্চিম তীর দখল করে আছে। গাজা ছেড়ে দিয়েছে।
গত ৫০ বছর ধরে ইসরাইল এসব দখল করা জায়গায় ইহুদী বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে। ছয় লাখের বেশি ইহুদি এখন এসব এলাকায় থাকে। ফিলিস্তিনিরা বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে এগুলো অবৈধ বসতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায়। তবে ইসরাইল তা মনে করে না।
পূর্ব জেরুজালেম, গাজা এবং পশ্চিম তীরে যে ফিলিস্তিনিরা থাকেন, তাদের সঙ্গে ইসরাইলিদের উত্তেজনা প্রায়ই চরমে ওঠে। গাজা শাসন করে কট্টরপন্থি ফিলিস্তিনি দল হামাস। ইসরাইলের সঙ্গে তাদের অনেকবার যুদ্ধ হয়েছে। গাজার সীমান্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ইসরাইল এবং মিশর।
ইসরাইল-ফিলিস্তিনের মধ্যে অনেক বিষয় নিয়ে এখনও বিরোধ চলছে। এর মধ্যে আছে ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু, পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতির ইস্যু, জেরুজালেম নগরী কি ভাগাভাগি হবে- এসব প্রশ্ন। আর সবচেয়ে জটিল ইস্যু হচ্ছে- ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্ন।
হামাস কিন্তু ফিলিস্তিনের মূল কর্তৃপক্ষ নয়। হামস মূলত গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ করে। হামাস প্রথমে একটি রাজনৈতিক সংগঠন ছিল। কিন্তু শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলনেও ইসরাইলি দমন-পীড়ন এবং হত্যাযজ্ঞের জন্য হামাস বিকল্প পন্থা ভাবতে থাকে। তখন হামাস মনে করে, সামরিক প্রতিরোধেই ফলপ্রসূ কিছু সম্ভব।
তাই তারা সামরিক শাখা চালু করে, যা ‘কাসসাম ব্রিগেড’ নামে পরিচিত। হামাস শব্দটির অর্থ হলো, আশা বা উদ্দীপনা। ফিলিস্তিনের কট্টর ইসলামপন্থি সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হামাস।
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে ইসরায়েলি দখলদারির অবসানের দাবিতে ‘ইন্তিফাদা’ বা ফিলিস্তিনি গণজাগরণ শুরু হলে ১৯৮৭ সালে গঠিত হয় হামাস। সংগঠনের সনদ অনুযায়ী তারা ইসরাইলকে ধ্বংস করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আর তাদের দাবি, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হবে বর্তমান ইসরাইল, গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে।
এআহমেদ ইয়াসিন এবং আবদেল আজিজ আল-রান্টিসি মিশরীয় মুসলিম ব্রাদারহুডের একটি অঙ্গসংগঠন হিসাবে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। হামাস মানে, হরকাত আল-মুকাওয়ামাহ আল-ইসলামিয়া, যার অর্থ- ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন।
গোষ্ঠীটি বলছে, ইসরাইল ১৯৬৭ সাল আগের সীমান্তে পিছু হটলে, ক্ষতিপূরণের সঙ্গে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিলে একটি যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে। আরও বলেছে, তারা মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে সম্পর্ক শেষ করবে। ইসরাইল অবশ্য হামাসের এসব দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে।
হামাসের রয়েছে একটি সাংস্কৃতিক শাখা- দাওয়াহ এবং একটি সামরিক শাখা- ইজ আদ-দিন আল-কাসাম ব্রিগেড। হামাস ইরান সমর্থিত এবং সিরিয়া ও লেবাননের ইসলামপন্থি দল হিজবুল্লাহ নিয়ে গঠিত একটি ব্লকের অংশ। ব্লকের সব সদস্য এই অঞ্চলে মার্কিন নীতির বিরোধিতা করে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, শনিবারে হামাসের হামলা দখলকারীদের বিপক্ষে ফিলিস্তিনি জনগণের আস্থার প্রমাণ। ফিলিস্তিন অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশে হামাসের সমর্থক রয়েছে। এই অঞ্চলে, ইরান, সিরিয়া এবং ইয়েমেন হামাসকে ‘বীরত্বপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করে হামলায় সমর্থন দিয়েছে।
কাতার পরিস্থিতির জন্য একমাত্র ইসরাইলকে দায়ি করেছে। আরব লীগ এবং জর্ডানও ইসরাইলের নীতি এবং বর্তমান সংঘাতের সঙ্গে এর যোগসূত্রকে দায়ি করেছে। মিশর, মরক্কো ও সৌদি আরব সংযমের আহবান জানিয়েছে। আর আমেরিকার যথারীতি ইসরাইলের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয় ইউনিয়ন, কানাডা, মিশর এবং জাপান হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে দেখে থাকে। ২০১৮ সালে হামাসের কার্যকলাপের নিন্দা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাতিল করা হয়। সেই প্রস্তাবে রাশিয়া ও চীন ভেটো দিয়েছিলো।
ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে হামাসের উত্থান, ইয়াসির আরাফাতের দল ফাতাহ-এর সঙ্গে সংঘর্ষে নিয়ে আসে। ১৯৯০ দশকে একটি আধা-সামরিক সংস্থা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ফাতাহ। পরে সশস্ত্র প্রতিরোধ ছেড়ে দেয় এবং ইসরাইলের সঙ্গে ১৯৬৯ সালের সীমানা অনুযায়ী একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে রাজি হয়।
২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর পর ফাতাহ নেতৃত্বে শূন্যতার সৃষ্টি হয়, শক্তিশালী হয়ে ওঠে হামাস। ২০০৭ সালে ফাতাহর সঙ্গে গৃহযুদ্ধের পর গোষ্ঠীটি গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়। অন্যদিকে ফাতাহ পশ্চিম তীরে ক্ষমতা ধরে রাখে। হামাস নিজেদের ইসলামপন্থি হিসেবে পরিচয় দিলেও ফাতাহ ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে।
তথ্য সূত্র: বিবিসি, আজ জাজিরা, এনডিটিভি
আন্তজার্তিক ডেস্ক 





















