ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ব্যতীত আন্দোলন থামবে না: ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, সেটি তাদের জন্য ‘খুবই খারাপ’ হবে: ট্রাম্প আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৫ জুলাই ২০২৬ দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল: হোয়াইট হাউস ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র অধিকৃত পশ্চিম তীরের গাজার মতো সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান ইসরায়েলি নিরাপত্তামন্ত্রী কে হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি আগামী রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলায় জামাই-শ্বশুরদের বড় মাছ কেনার প্রতিযোগিতা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:৫৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২২
  • ২৮০ Time View

গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইল গ্রামে একটা মাছকে ঘিরে শুক্রবার ক্রেতা জামাইদের জটলা লেগে ছিল। বিশাল আকৃতির এ মাছের নাম বাঘা আইড়। বিক্রেতা ৪০ কেজি ওজনের এ মাছের দাম হেঁকেছেন ৬৫ হাজার টাকা। ক্রেতাদের মধ্যে স্থানীয় কাপাইশ এলাকার জামাই মোহাম্মদ হোসেন আলী মাছটির দাম সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা বলছেন।

কিন্তু বিক্রেতা আরো বেশি দাম পাওয়ার আশায় মাছটি ছাড়ছেন না। চলছে দরকষাকষি। যত না ক্রেতা তার চেয়ে অনেক বেশি উৎসুক জনতা ভিড় জমিয়েছেন মাছটি দেখার জন্য। পৌষ মাসের শেষ দিন শুক্রবার কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ত্রিমোহনার বিনিরাইল গ্রামে ঐতিহ্যবাহী আড়াই শ’ বছরের পুরনো মাছের মেলায় দেখা গেছে এই দৃশ্য।

গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইল গ্রামের মাছের মেলাকে ঘিরে আশপাশের কয়েক জেলায় দিনভর চলে আনন্দ-উৎসব। মূলত এটা জামাই মেলা। কিন্তু সবাই এটাকে বলে মাছের মেলা। আর এই দিনটিকে ঘিরেই এখানে দিনব্যাপী চলে আনন্দ-উৎসব। এ দিনটির জন্য সারাটি বছর অপেক্ষায় থাকেন স্থানীয়রা। এক টিকিটে দুই ছবি! বলাটা খুব বেশি অযৌক্তিক হবে না, এই মেলায় আছে একের ভেতর দুই। এক কথায় রথ দেখা আর কলা বেচা। কারণ এটা মাছের মেলা হলেও, এখানে চলে এলাকার জামাইদের মাছসহ সবকিছু বড় কেনার প্রতিযোগিতা। বিনিরাইল এবং এর আশপাশের গ্রামে যারা বিয়ে করেছেন, সেসব এলাকার জামাইরা হচ্ছে ওই মেলার মূল ক্রেতা ও দর্শণার্থী। তা ছাড়া এই মেলাকে ঘিরে এলাকার শ্বশুরদের মধ্যেও চলে এক নীরব প্রতিযোগিতা। আর এই প্রতিযোগিতাটি হচ্ছে কোন জামাই সবচেয়ে বড় মাছটি ক্রয় করে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যেতে পারে। আবার শ্বশুররাও চান কোন শ্বশুর সবচেয়ে বড় মাছটি ক্রয় করে জামাই আপ্যায়ন করতে পারে। বিনিরাইলের মাছের মেলা যেন জামাই-শ্বশুরের বড় মাছ কেনার প্রতিযোগিতার মাঠ।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন তো এসেছেনই। এর বাইরে থেকেও অনেকে এসেছেন উপজেলার সর্ববৃহৎ এই মাছের মেলায়। গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ থেকে অনেক মানুষ কেবল এই মেলা উপলক্ষেই কালীগঞ্জে এসেছেন। প্রতি বছর পৌষ-সংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত হয় এ মেলা। এবারের মেলায় প্রায় তিন শতাধিক মাছ ব্যবসায়ী বাহারি মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। মেলায় মাছ ছাড়াও আসবাবপত্র, খেলনা, মিষ্টি ইত্যাদির পসরাও বসেছে। মাছের মেলায় সামুদ্রিক চিতল, বাঘাড়, আইড়, বোয়াল, কালী বাউশ, পাবদা, গুলসা, গলদা চিংড়ি, বাইম, কাইকলা, রূপচাঁদা মাছের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে নানা রকমের দেশী মাছও। বিনিরাইলের মাছের মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য কিশোর আকন্দ জানান, এই মেলাটি প্রথম অনুষ্ঠিত হতো খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে এটি অগ্রহায়ণের ধান কাটা শেষে পৌষ-সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবে আয়োজন করা হতো। প্রায় ২৫০ বছর ধরে মেলাটি আয়োজন হয়ে আসছে। সময়ের সাথে সাথে এ মেলাটি একটি সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে।
মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানান, ব্রিটিশ শাসনামল থেকে বিনিরাইলের মাছের মেলা এখন ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে। এ মেলা কালীগঞ্জের সবচেয়ে বড় মাছের মেলা হিসেবে স্বীকৃত। এলাকার জামাইরা বলেন, শ্বশুরবাড়িতে মাছ নিয়ে যাওয়া বলে কথা। তাই এলাকার সব জামাইদের নজর বিনিরাইলের মাছের মেলার বড় মাছটার দিকেই। তাই স্থানীয় বড় মাছ ব্যবসায়ীরা সপ্তাহখানেক ধরে বড় বড় মাছ সংগ্রহ করে থাকেন। সেই অনুযায়ী মাছের দামও হাঁকানো হয়।
বিনিরাইলের মাছের মেলা নিয়ে মেলাসংলগ্ন জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইস গ্রামের জামাই মো: হোসেন আলী বলেন, শ^শুরবাড়িতে মাছ নিয়ে যাওয়া বলে কথা। তাই এলাকার সব জামাইদের নজর বিনিরাইলের মাছের মেলার বড় মাছটার দিকেই। স্থানীয় বড় মাছ ব্যবসায়ীরা সপ্তাহখানেক ধরে বড় বড় মাছ সংগ্রহ করে থাকেন। সেই অনুযায়ী মাছের দামও হাঁকানো হয়। তিনি জানান, এবার সাড়ে ১৭ হাজার টাকার চিতল, বোয়াল, আইড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কিনেছেন শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

তিনি আরো জানান, শুরুতে এ মেলা শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য হলেও, বর্তমানে এটা সব ধর্মের মানুষের কাছে ঐতিহ্যর উৎসবে পরিণত হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ মেলা সম্পর্কে জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান জানান, মাছের মেলাটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্যের ধারক। মেলায় বেচাকেনা যতই হোক, এ মেলা আমাদের ঐতিহ্য আর কৃষ্টি-কালচারকে বহন করছে এটাই সবচেয়ে বড় কথা। তাই এখানে কোনো প্রকার দাঙ্গা-হাঙ্গামা নেই।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা থেকে মেলায় আসা মাছ ব্যবসায়ী নয়ন কুমার দাস জানান, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে এই মেলায় দোকান করেন। বিনিরাইলের পাশেই চুপাইর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বসে তিন দিনব্যাপী মাছের এ মেলা। ইতিহাস ঐতিহ্যের কারণে বিনিরাইলে কেনার চেয়ে দেখতে আসা মানুষের ভিড় এখন বেশি। তা ছাড়া স্থানীয় মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক স্থাপন হওয়াতে প্রতি বছর এ মেলায় যোগ দেন। এখানে বেচাকেনাকে মুখ্য মনে করেন না বলে জানান তিনি। এবার মেলায় প্রচুর দেশী রুই, কাতল, বোয়াল, আইড়, বাঘাইর, চিতল, কালিবাউশ ও রিটা মাছের সমাগম হয়েছে। এ ছাড়া কার্পজাতীয় নানা মাছের আমদানি হয়েছে। এক কেজি থেকে শুরু করে বিশ কেজি পর্যন্ত এসব মাছের দাম হাঁকা হচ্ছে ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর। সামর্থ্য অনুযায়ী ক্রেতারা এসব মাছ কিনছেন। বড় মাছ কেনার জন্য বিনিরাইলের মাছের মেলাই সবচেয়ে উত্তম জায়গা। তবে সরকারের বিধিনিষেধের কারণে এবার তুলনামূলক ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কম।

উল্লেখ্য শুক্রবার ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলায় স্বাস্থবিধি উপেক্ষা করে দিনভর হাজারো মানুষের ঢল লক্ষ্য করা গেছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের এই বিষয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। এ আয়োজনে ছিলোনা কোনো পারমিশনও।

সরকার করোনা মহামারীর পর ওমিক্রনের ক্রমবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ১১দফা স্বাস্থ্যবিধি জারি করলেও শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বিনিরাইলে ওই মেলা চলছে। অধিকাংশ মানুষের মধ্যেই কোন স্বাস্থ্য সচেতনতা নেই, নেই কোন মাস্কেরও ব্যবহার। মাছের মেলাকে ঘিরে সেখানে বস্ত্র, হস্ত, চারু-কারু, প্রসাধনী, ফার্নিচার, খেলনা, তৈজসপত্র, মিষ্টি ও কুটির শিল্পের নানা পণ্যের দোকান বসে। ওই এলাকায় মানুষ যেন উৎসবে মেতে ওঠেছেন।

Tag :
জনপ্রিয়

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ব্যতীত আন্দোলন থামবে না: ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলায় জামাই-শ্বশুরদের বড় মাছ কেনার প্রতিযোগিতা

Update Time : ০৩:৫৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২২

গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইল গ্রামে একটা মাছকে ঘিরে শুক্রবার ক্রেতা জামাইদের জটলা লেগে ছিল। বিশাল আকৃতির এ মাছের নাম বাঘা আইড়। বিক্রেতা ৪০ কেজি ওজনের এ মাছের দাম হেঁকেছেন ৬৫ হাজার টাকা। ক্রেতাদের মধ্যে স্থানীয় কাপাইশ এলাকার জামাই মোহাম্মদ হোসেন আলী মাছটির দাম সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা বলছেন।

কিন্তু বিক্রেতা আরো বেশি দাম পাওয়ার আশায় মাছটি ছাড়ছেন না। চলছে দরকষাকষি। যত না ক্রেতা তার চেয়ে অনেক বেশি উৎসুক জনতা ভিড় জমিয়েছেন মাছটি দেখার জন্য। পৌষ মাসের শেষ দিন শুক্রবার কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ত্রিমোহনার বিনিরাইল গ্রামে ঐতিহ্যবাহী আড়াই শ’ বছরের পুরনো মাছের মেলায় দেখা গেছে এই দৃশ্য।

গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইল গ্রামের মাছের মেলাকে ঘিরে আশপাশের কয়েক জেলায় দিনভর চলে আনন্দ-উৎসব। মূলত এটা জামাই মেলা। কিন্তু সবাই এটাকে বলে মাছের মেলা। আর এই দিনটিকে ঘিরেই এখানে দিনব্যাপী চলে আনন্দ-উৎসব। এ দিনটির জন্য সারাটি বছর অপেক্ষায় থাকেন স্থানীয়রা। এক টিকিটে দুই ছবি! বলাটা খুব বেশি অযৌক্তিক হবে না, এই মেলায় আছে একের ভেতর দুই। এক কথায় রথ দেখা আর কলা বেচা। কারণ এটা মাছের মেলা হলেও, এখানে চলে এলাকার জামাইদের মাছসহ সবকিছু বড় কেনার প্রতিযোগিতা। বিনিরাইল এবং এর আশপাশের গ্রামে যারা বিয়ে করেছেন, সেসব এলাকার জামাইরা হচ্ছে ওই মেলার মূল ক্রেতা ও দর্শণার্থী। তা ছাড়া এই মেলাকে ঘিরে এলাকার শ্বশুরদের মধ্যেও চলে এক নীরব প্রতিযোগিতা। আর এই প্রতিযোগিতাটি হচ্ছে কোন জামাই সবচেয়ে বড় মাছটি ক্রয় করে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যেতে পারে। আবার শ্বশুররাও চান কোন শ্বশুর সবচেয়ে বড় মাছটি ক্রয় করে জামাই আপ্যায়ন করতে পারে। বিনিরাইলের মাছের মেলা যেন জামাই-শ্বশুরের বড় মাছ কেনার প্রতিযোগিতার মাঠ।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন তো এসেছেনই। এর বাইরে থেকেও অনেকে এসেছেন উপজেলার সর্ববৃহৎ এই মাছের মেলায়। গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ থেকে অনেক মানুষ কেবল এই মেলা উপলক্ষেই কালীগঞ্জে এসেছেন। প্রতি বছর পৌষ-সংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত হয় এ মেলা। এবারের মেলায় প্রায় তিন শতাধিক মাছ ব্যবসায়ী বাহারি মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। মেলায় মাছ ছাড়াও আসবাবপত্র, খেলনা, মিষ্টি ইত্যাদির পসরাও বসেছে। মাছের মেলায় সামুদ্রিক চিতল, বাঘাড়, আইড়, বোয়াল, কালী বাউশ, পাবদা, গুলসা, গলদা চিংড়ি, বাইম, কাইকলা, রূপচাঁদা মাছের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে নানা রকমের দেশী মাছও। বিনিরাইলের মাছের মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য কিশোর আকন্দ জানান, এই মেলাটি প্রথম অনুষ্ঠিত হতো খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে এটি অগ্রহায়ণের ধান কাটা শেষে পৌষ-সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবে আয়োজন করা হতো। প্রায় ২৫০ বছর ধরে মেলাটি আয়োজন হয়ে আসছে। সময়ের সাথে সাথে এ মেলাটি একটি সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে।
মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানান, ব্রিটিশ শাসনামল থেকে বিনিরাইলের মাছের মেলা এখন ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে। এ মেলা কালীগঞ্জের সবচেয়ে বড় মাছের মেলা হিসেবে স্বীকৃত। এলাকার জামাইরা বলেন, শ্বশুরবাড়িতে মাছ নিয়ে যাওয়া বলে কথা। তাই এলাকার সব জামাইদের নজর বিনিরাইলের মাছের মেলার বড় মাছটার দিকেই। তাই স্থানীয় বড় মাছ ব্যবসায়ীরা সপ্তাহখানেক ধরে বড় বড় মাছ সংগ্রহ করে থাকেন। সেই অনুযায়ী মাছের দামও হাঁকানো হয়।
বিনিরাইলের মাছের মেলা নিয়ে মেলাসংলগ্ন জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইস গ্রামের জামাই মো: হোসেন আলী বলেন, শ^শুরবাড়িতে মাছ নিয়ে যাওয়া বলে কথা। তাই এলাকার সব জামাইদের নজর বিনিরাইলের মাছের মেলার বড় মাছটার দিকেই। স্থানীয় বড় মাছ ব্যবসায়ীরা সপ্তাহখানেক ধরে বড় বড় মাছ সংগ্রহ করে থাকেন। সেই অনুযায়ী মাছের দামও হাঁকানো হয়। তিনি জানান, এবার সাড়ে ১৭ হাজার টাকার চিতল, বোয়াল, আইড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কিনেছেন শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

তিনি আরো জানান, শুরুতে এ মেলা শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য হলেও, বর্তমানে এটা সব ধর্মের মানুষের কাছে ঐতিহ্যর উৎসবে পরিণত হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ মেলা সম্পর্কে জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান জানান, মাছের মেলাটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্যের ধারক। মেলায় বেচাকেনা যতই হোক, এ মেলা আমাদের ঐতিহ্য আর কৃষ্টি-কালচারকে বহন করছে এটাই সবচেয়ে বড় কথা। তাই এখানে কোনো প্রকার দাঙ্গা-হাঙ্গামা নেই।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা থেকে মেলায় আসা মাছ ব্যবসায়ী নয়ন কুমার দাস জানান, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে এই মেলায় দোকান করেন। বিনিরাইলের পাশেই চুপাইর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বসে তিন দিনব্যাপী মাছের এ মেলা। ইতিহাস ঐতিহ্যের কারণে বিনিরাইলে কেনার চেয়ে দেখতে আসা মানুষের ভিড় এখন বেশি। তা ছাড়া স্থানীয় মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক স্থাপন হওয়াতে প্রতি বছর এ মেলায় যোগ দেন। এখানে বেচাকেনাকে মুখ্য মনে করেন না বলে জানান তিনি। এবার মেলায় প্রচুর দেশী রুই, কাতল, বোয়াল, আইড়, বাঘাইর, চিতল, কালিবাউশ ও রিটা মাছের সমাগম হয়েছে। এ ছাড়া কার্পজাতীয় নানা মাছের আমদানি হয়েছে। এক কেজি থেকে শুরু করে বিশ কেজি পর্যন্ত এসব মাছের দাম হাঁকা হচ্ছে ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর। সামর্থ্য অনুযায়ী ক্রেতারা এসব মাছ কিনছেন। বড় মাছ কেনার জন্য বিনিরাইলের মাছের মেলাই সবচেয়ে উত্তম জায়গা। তবে সরকারের বিধিনিষেধের কারণে এবার তুলনামূলক ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কম।

উল্লেখ্য শুক্রবার ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলায় স্বাস্থবিধি উপেক্ষা করে দিনভর হাজারো মানুষের ঢল লক্ষ্য করা গেছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের এই বিষয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। এ আয়োজনে ছিলোনা কোনো পারমিশনও।

সরকার করোনা মহামারীর পর ওমিক্রনের ক্রমবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ১১দফা স্বাস্থ্যবিধি জারি করলেও শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বিনিরাইলে ওই মেলা চলছে। অধিকাংশ মানুষের মধ্যেই কোন স্বাস্থ্য সচেতনতা নেই, নেই কোন মাস্কেরও ব্যবহার। মাছের মেলাকে ঘিরে সেখানে বস্ত্র, হস্ত, চারু-কারু, প্রসাধনী, ফার্নিচার, খেলনা, তৈজসপত্র, মিষ্টি ও কুটির শিল্পের নানা পণ্যের দোকান বসে। ওই এলাকায় মানুষ যেন উৎসবে মেতে ওঠেছেন।