দক্ষিণ আফ্রিকার সেঞ্চুরিয়ানের আকাশ ছিল মেঘহীন। ছিল রৌদ্রের ঝলকানি। কে ভেবেছিল, এসবের মধ্যে একটি ভয়ানক ঝড় আসবে প্রোটিয়া শিবিরে! টাইগারদের দাপটে টিকতেই পারেনি প্রোটিয়ারা। একের পর এক উইকেটের পতন ঘটেছে। বেশি সময় ক্রিজে থিতু হতে পারেনি প্রোটিয়া ব্যাটাররা। টাইগারদের সামনে ১৫৫ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেট হাতে থাকতেই জয় ছিনিয়ে আনে বাংলার ব্যাটাররা। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ হারে ২-১ ব্যবধানে।
তিন ম্যাচের সিরিজে এর আগে একটি জয় পেয়েছিল টাইগাররা। একটি জয় ছিল প্রোটিয়াদেরও। তৃতীয় ম্যাচটি যেন অঘোষিত ফাইনাল; আর সে ম্যাচেই বাজিমাত করে সিরিজ নিজেদের করে নেয় টাইগাররা।
আর প্রথমবারের মত প্রোটিয়াদের মাটিতে কোনো সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ দল।
বুধবার ১৫৫ রানের লক্ষ্য টপকাতে নেমে তামিমের আর লিটন দাসের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ৯ উইকেট আর ১৪১ বল হাতে থাকতেই বিশাল জয় পেয়েছে টাইগাররা।
সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের এটা সপ্তম সিরিজ জয়। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ২০২১ সালের পর ঘরের মাঠে সিরিজ হারলো।
তাসকিন আহমেদের রেকর্ড বোলিংয়ের পর তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাসের চোখ জুড়ানো ব্যাটিংয়ে পাওয়া ৯ উইকেটের জয়েও রেকর্ড গড়া হয়ে গেছে বাংলাদেশের। বিদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো ৯ উইকেটে জয়ের হাসি হাসলো বাংলাদেশ। স্বভাবতই দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেও এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়।
টস জিতে আগে ব্যাটিং করে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাসকিনের রেকর্ডগড়া বোলিং ও সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমানদের অসাধারণ বোলিংয়ে ৩৭ ওভারে ১৫৪ রানেই অলআউট হয় স্বাগতিকরা। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটাই তাদের সর্বনিম্ন রানের ইনিংস। জবাবে হেসেখেলেই এই রান পাড়ি দেয় বাংলাদেশ, ২৬.৩ ওভারেই।
সহজ জযের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে তামিম ও লিটন ছিলেন এক কথায় অনিন্দ্য সুন্দর। ধীর স্থির ভাবে আগাতে থাকেন দুজন। থিতু হয়ে মারতে থাকেন চার ছক্কা। উদ্বোধনী জুটিতে দুজনে যোগ করেনর ১২৭ রান। ফিফটি থেকে মাত্র দুই রান দূরে থাকতে মাহারাজের বলে আউট হন লিটন (৪৮)। এরপর বাকি কাজটুকু সারেন তামিম ও সাকিব। ৮২ বলে ১৪ চারে ৮৭ রানে অপরাজিত থাকেন তামিম। ২০ বলে ১৮ রানে নট আউট সাকিব।
এর আগে ব্যাট করতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস একাই ধসিয়ে দেন তাসকিন। ৯ ওভারে ৩৫ রান খরচায় নেন ৫ উইকেট। যা তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেরা বোলিং। এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন তাসকিন। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি। সিরিজ সেরাও তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে শেষ ১০ বছরে বিদেশিদের মধ্যে প্রথম বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নিলেন তাসকিন। তার আগে ২০১২ সালে সর্বশেষ ৫ উইকেট নিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি পেসার লাসিথ মালিঙ্গা। এরপর অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও ৫ উইকেটের স্বাদ নেওয়া হচ্ছিল না প্রোটিয়াদের কোনো পতিপক্ষ বোলারের। তাসকিন সেই অপেক্ষাতে ইতি টেনে গাঁথলেন উইকেটের মালা।
অনলাইন ডেস্ক 




















