করোনা বিস্তার রোধে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আজ শনিবার থেকে পাটুরিয়া ও মাওয়া ফেরি ঘাটে দিনের বেলায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। শুধু রাতের বেলায় পণ্যবাহী পরিবহন পারাপারের জন্য ফেরি চলাচল করবে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি।
শনিবার (৮ মে) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঈদ উপলক্ষে বাড়ির দিকে ছুটছে মানুষ। কারোই এখন করোনার ঝুকির কথা মাথায় নেই। স্বাস্থ্য সতর্কতা, মাস্ক ও সামাজিক দূরত্ব মানার কথা যেনো কারোই মনে নেই। এমন দৃশ্যই দেখা যাচ্ছে, সারা দেশের বিভিন্ন বাসস্টেশন, লঞ্চঘাট ও ফেরিঘাটে। যখন করোনার নতুন ধরণ আরও প্রাণসংহারক রূপ নিয়েছে, তখন মানুষের এই সব ভিড় দেশকে আরো বেশি ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, মানুষের চলাচল, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট ও ফেরিঘাটে স্বাস্থ্য বিধি না মানার ফলে দেশে করোনা ঝুঁকি বাড়ছে।
জানা গেছে, শুক্রবার এবং শনিবার সরকারি ছুটি। এরপর ১০ তারিখ শব ই কদরের ছুটি। ১১ এবং ১২ তারিখ অনেকই ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন। আবার অনেকে ৯ তারিখ ছুটি কাটাবেন বলে স্থির করেছেন। এর ফলে একটানা কেউ পাবেন ৯ দিনের ছুটি, আবার কেউ পাবেন সাত দিনের ছুটি। ঈদের সময় সাধারণত এত লম্বা ছুটি পাওয়া যায় না। তাই দূরপাল্লার বাস চলাচল না করলেও সেদিকে তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সবাই ঈদ সামনে রেখে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে মরিয়া হয়ে পথে নেমেছেন।
সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী এলাকায় মানুষের ভিড় শুরু হয়। সকাল ৯টার দিকে এই ভিড় ব্যাপক আকার ধারণ করে। নগরীতে গণপরিবহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করে বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবার নিয়ে লোকজন গাবতলী এসে নামছেন। এরপর তারা পায়ে হেঁটে ব্রিজ পার হয়ে আমিন বাজারের দিকে চলে যাচ্ছেন। সেখানে গিয়ে আবার প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মিনি ট্রাক, সিএনজিসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে লোকজন ভেঙে ভেঙে সরাসরি পাটুরিয়া ঘাটে পৌঁছে যাচ্ছে। আবার অনেকে আমিনবাজার থেকে মানিকগঞ্জ এলাকায় প্রবেশ করার পরে লোকাল বাসে পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে পৌঁছে যাচ্ছে। এরপর ফেরি পার হয়ে ওপারে গিয়ে আবার তারা একইভাবে বিভিন্ন যানবাহন এবং জেলার ভেতরে চলাচলরত গণপরিবহনে গন্তব্যে ফিরছে।
এদিকে দৌলোদিয়া- পাটুরিয়া, ও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে ছোট যানবাহনের ভিড় বেড়েছে। স্বাস্থ্যবিধির কোনো ধরনের তোয়াক্কা না করেই লোকজন ঘরে ফিরছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই ফেরি ঘাটে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। মানুষ ও যানবাহনের চাপের কারণে আজ থেকে আরো দুটি ফেরি বাড়ানো হয়েছে। এতদিন এখানে চারটি ফেরির মাধ্যমে পণ্যবাহী ও জরুরি যানবাহন পারাপার করা হতো। মানুষের চাপের কারণে ফেরি পারাপারের সময় গাদাগাদি করে লোকজন অবস্থান নেয়। স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রতি কারও কোনো খেয়াল নেই।
শিমুলিয়া ফেরিঘাটে কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবস্থান নিয়েছে। এ কারণে এই ঘাটে স্পিড বোটে পদ্মা নদী পারাপার পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বড় যানবাহন না থাকলেও ফেরিগুলোতে ছোট যানবাহন এবং মানুষের ভিড় আজ সকাল থেকেই বেড়েছে। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে ফেরিগুলো চলাচলও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, শুধু রাতে পণ্যবাহী পরিবহন পারাপারের জন্য ফেরি চলাচল করবে। ঈদকে সামনে রেখে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট দিয়ে ঘরে ফিরছে মানুষ। ভোর থেকে এ নৌরুটে মানুষ ও যানবাহনের ভিড় বাড়তে থাকে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘাট এলাকায় যানবাহন ও যাত্রীর চাপ আরও বেড়ে যায়।
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা কাজির হাট নৌরুটে ২০টি ফেরি রয়েছে। যানবাহন ও যাত্রীর চাপ থাকায় ৬টি ছোট ফেরির পাশাপাশি ৪টি বড় ফেরি পারাপারে নিয়োজিত রাখে ঘাট কর্তৃপক্ষ। সরকারে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা নিয়ে গাদাগাদি করে ঘরে ফিরছেন যাত্রীরা।পরিস্থিতি দেখে করোনা সংক্রমণ আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ অবস্থায় নির্দেশনা দিলো বিআইডব্লিউটিসি।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নজর এড়িয়ে কোনো কোনো জেলা থেকে কিছু আন্তঃজেলা রুটের বাস চলাচল করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইল ময়মনসিংহসহ কয়েকটি জেলায় ভোরের দিকে এবং সন্ধ্যার পরে আন্তঃজেলা বাস চলাচল করছে। আবার নরসিংদী থেকেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাজীপুর, জামালপুর ও ও কুমিল্লা শহরের আন্তঃজেলা বাস চলাচল করছে বলে জানা গেছে।
অনলাইন ডেস্ক 























