ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে রাজধানীর একটি বাসা থেকে এলএসডি নামক (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড) মাদক জব্দ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগ। দেশে এলএসডি জব্দের ঘটনা এটাই প্রথম বলে জানিয়েছে ডিবি।
বুধবার (২৬ মে) রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে এই ড্রাগ জব্দ করে ডিএমপির গোয়েন্দা রমনা বিভাগের একটি টিম। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ মে) দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।
এলএসডি বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার রাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। তারা হলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র লুপল ও তুর্জ এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র আদিব।
যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন ফার্মাসিউটিক্যাল এনসাইক্লোপিডিয়া ড্রাগস ডটকমের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড (এলএসডি)। এই ড্রাগটি অ্যাসিড প্রকৃতির এক ধরনের সাইকেডেলিক ওষুধ। মানুষের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের বিষয়ে এটি কাজ করে। যা এটি সেবন/ব্যবহারে অবাস্তব চিত্রসমূহ বাস্তব মনে হয়। তবে এটি প্রধানত প্রমোদমূলক ওষধ হিসেবে এবং আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। এলএসডি ড্রাগ সাধারণত জিভের নিচে রাখা হয়। এটি ইনজেকশানের সাহায্যে শরীরে নেওয়া যায়। এটি উত্তেজক, আনন্দদায়ক। মনের ওপরও এর প্রভাব রয়েছে। কখনো কখনো এর প্রভাবে ভীতিকর অনুভূতি তৈরি হয়। এমনটা ঘটলে একে ‘ব্যাড ট্রিপ’ বলা হয়।
ডিবির বলছে, ফেসবুকে ‘আপনার আব্বা’ নামে একটি গ্রুপের মাধ্যমে ওই মাদকের ক্রেতা সংগ্রহ করা হয়। গ্রুপে সদস্যসংখ্যা এক হাজারের বেশি। গ্রেপ্তার লুপল গ্রুপটি পরিচালনা করেন। লুপল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর ছাত্র ছিলেন। ড্রপ আউট হওয়ার পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
ডিবি পুলিশের দাবি, যে তিন বন্ধু হাফিজুর রহমানকে এলএসডি সেবন করিয়েছেন, তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তিনজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
অনলাইন ডেস্ক 























