ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু রামিসার মতো অপ্রতিমের হত্যার বিচারও দ্রুত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুমিল্লায় অপ্রতিমকে যেভাবে হত্যা করা হয়, জানাল পুলিশ বাবা-মায়ের পরে এবার জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশে ১৫৫ জন শিশুকে হত্যা, এখনও নিখোঁজ ২ হাজারের বেশি সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, সবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত অপ্রতিম আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে দুটি সামরিক অভিযান চালানোর দাবি হুতি বিদ্রোহীদের অপ্রতিমকে নিজ বাড়ির পাশের কবরস্থানে দাফন করা হবে

নিখোঁজ হওয়া ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৩০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ Time View

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক শিক্ষকের নিখোঁজ হওয়া ১৩ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাসা থেকে বের হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর সানন্দা গ্রামে অবস্থিত লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানা-পুলিশ।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত এবং বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতিম। তবে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এলেও সে আর বাসায় ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে ও স্বজনদের বাসায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে শুক্রবার রাতেই অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন।

এদিকে সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আকুল আকুতি জানিয়ে একটি পোস্ট দেন মা ড. নাহিদা বেগম। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আমার ছেলেকে আমি বিকেল তিনটা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতিম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোর করছি, আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি।’

সন্তানের জন্য মায়ের এই আকুল আকুতি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে কোটবাড়ি ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর আজ দুপুরে লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জায়গায় এক কিশোরের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও অপ্রতিমের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার ও শনাক্ত করেন।

নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। সদর দক্ষিণ থানা-পুলিশ জানায়, এই ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। কিশোর অপ্রতিমের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনেরা এই নিদারুণ হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

নিখোঁজ হওয়া ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

Update Time : ১০:৩০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক শিক্ষকের নিখোঁজ হওয়া ১৩ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাসা থেকে বের হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর সানন্দা গ্রামে অবস্থিত লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানা-পুলিশ।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত এবং বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতিম। তবে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এলেও সে আর বাসায় ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে ও স্বজনদের বাসায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে শুক্রবার রাতেই অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন।

এদিকে সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আকুল আকুতি জানিয়ে একটি পোস্ট দেন মা ড. নাহিদা বেগম। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আমার ছেলেকে আমি বিকেল তিনটা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতিম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোর করছি, আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি।’

সন্তানের জন্য মায়ের এই আকুল আকুতি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে কোটবাড়ি ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর আজ দুপুরে লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জায়গায় এক কিশোরের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও অপ্রতিমের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার ও শনাক্ত করেন।

নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। সদর দক্ষিণ থানা-পুলিশ জানায়, এই ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। কিশোর অপ্রতিমের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনেরা এই নিদারুণ হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।