ঢাকা ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী নন ট্রাম্প, ফের বাজবে যুদ্ধের দামামা? এক নজরে বিশ্ব সংবাদ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৮ আগস্ট ২০২৬ দেশে গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া চার্জ দিলে অটোরিকশার নিবন্ধন নয়, থাকছে জরিমানাও মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা ইরানের ইরানের ওপর ট্রাম্প চাপিয়ে দিতে চান ‘নতুন যুদ্ধ’ ৩০ দিনের মধ্যে চিকিৎসকদের বায়োমেট্রিক চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পবিত্র মেরাজের রাতে কী ঘটেছিল?

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:১২:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫
  • ১৬৭ Time View

মালেক ইবনে সা’সাআহ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, মেরাজের রাতে কী ঘটেছিল সে প্রসঙ্গে আল্লাহর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, এক রাতে আমি কাবার হাতিম অংশে কাত হয়ে শুয়েছিলাম। এমন সময় হঠাৎ একজন আগন্তুক আমার কাছে এলেন। তিনি আমার কণ্ঠনালীর নিম্নভাগ থেকে নাভির উপরিভাগ পর্যন্ত বিদীর্ণ করলেন। তারপর ইমানে পরিপূর্ণ একটি স্বর্ণের থালা আমার কাছে আনা হলো এবং আমার অন্তরকে ধৌত করা হলো। তারপর তা ইমানে পরিপূর্ণ করে আবার পূর্বের জায়গায় রাখা হলো।

তারপর আকারে খচ্চরের চেয়ে ছোট এবং গাধার চেয়ে বড় এক সাদা বর্ণের বাহন আমার সম্মুখে উপস্থিত করা হয়। তাকে বলা হয় ‘বোরাক’। তার দৃষ্টি যত দূর যেত, সেখানে তার পা সেখানে রাখত। আমাকে তার ওপরে আরোহণ করানো হলো। জিবরাইল (আ.) আমাকে সাথে নিয়ে যাত্রা করলেন এবং নিকটতম আকাশে পৌছে দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিবরাইল। আবার প্রশ্ন করা হলো, আপনার সাথে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। পুনরায় প্রশ্ন করা হলো, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হলো, তাকে স্বাগতম! তার আগমন অত্যন্ত শুভ। তারপর দরজা খুলে দেয়া হলো। ভেতরে প্রবেশ করে সেখানে দেখতে পেলাম ইয়াহইয়া ও ঈসাকে (আ.)। তারা দুইজন পরস্পর খালাতো ভাই। জিবরাইল (আ.) বললেন, ইনি হলেন ইয়াহইয়া (আ.) আর উনি ঈসা (আ.)। আপনি তাদের সালাম করুন। যখন আমি সালাম করলাম, তারা উভয়ে সালামের জবাব দিয়ে বললেন, নেককার ভাই ও নেককার নবিকে স্বাগতম।

জিবরাইল (আ.) আমাকে নিয়ে তৃতীয় আকাশে উঠলেন এবং দরজা খুলে দিতে বললেন। প্রশ্ন করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিবরাইল। আবার প্রশ্ন করা হলো, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। পুনরায় প্রশ্ন করা হলো, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তাকে স্বাগতম। তার আগমন খুবই কল্যাণকর। তারপর দরজা খুলে দেয়া হলো। ভেতরে প্রবেশ করে আমি সেখানে ইউসুফকে (আ.) দেখতে পেলাম। জিবরাইল (আ.) বললেন, ইনি হলেন ইউসুফ (আ.)। তাকে সালাম করুন। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, নেককার ভাই ও নেককার নবিকে স্বাগতম।

জিবরাইল (আ.) আমাকে নিয়ে আরো ওপরে উঠলেন এবং চতুর্থ আকাশে গিয়ে এসে দরজা খুলে দিতে বললেন। জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিবরাইল। আবার প্রশ্ন করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। পুনরায় প্রশ্ন করা হলো, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তাকে স্বাগতম। তার আগমন বড়ই শুভ! তারপর দরজা খুলে দেয়া হলো। ভেতরে প্রবেশ করে দেখলাম, সেখানে ইদরীস (আ.)। জিবরাইল (আ.) বললেন, ইনি ইদরীস (আ.) তাকে

জিবরাইল (আ.) আমাকে নিয়ে আরও ঊর্ধ্বে আরোহণ করলেন এবং পঞ্চম আকাশে গিয়ে দরজা খুলে দিতে বললেন। প্রশ্ন করা হলো, কে? বললেন, জিবরাইল। প্রশ্ন করা হলো, আপনার সাথে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। প্রশ্ন করা হলো, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তাকে স্বাগতম! তার আগমন খুবই কল্যাণকর! তারপর দরজা খুলে দিলে আমি ভেতরে ঢুকলাম। সেখানে হারুনকে (আ.) দেখতে পেলাম। জিবরাইল (আ.) বললেন, ইনি হারুন (আ.) তাকে সালাম করুন। আমি তাকে সালাম করলে তিনি উত্তর দিয়ে বললেন, নেককার ভাই ও নেককার নবিকে স্বাগতম।

জিবরাইল (আ.) আমাকে সাথে নিয়ে আরো ঊর্ধ্বে উঠলেন। ষষ্ঠ আকাশে গিয়ে তিনি দরজা খুলে দিতে বললে প্রশ্ন করা হলো, কে? তিনি বললেন, জিবরাইল। প্রশ্ন করা হলো, আপনার সাথে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। প্রশ্ন করা হলো তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তাকে স্বাগতম। তারা আগমন কতই না উত্তম! তারপর দরজা খুলে দিলে আমি ভেতরে প্রবেশ করলাম। সেখানে মুসাকে (আ.) দেখতে পেলাম। জিবরাইল (আ.) সালাম বললেন, ইনি হলেন, মুসা (আ.) তাকে সালাম করুন। আমি তাকে সালাম করলে তিনি তার জবাব দিয়ে বললেন, নেককার ভাই ও নেককার নবিকে স্বাগতম। আমি যখন তাঁকে অতিক্রম করে অগ্রসর হলাম, তিনি কেঁদে ফেললেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, আমি এ জন্য কাঁদছি যে, আমার পরে এমন একজন যুবককে নবি হিসেবে পাঠানো হলো, যার উম্মত আমার উম্মতের চেয়ে বেশি সংখ্যায় জান্নাতে প্রবেশ করবে।

জিবরাইল (আ.) আমাকে নিয়ে সপ্তম আকাশে আরোহণ করলেন। দরজা খুলতে বললে আগের মতোই প্রশ্ন করা হলো, কে? তিনি বললেন, জিবরাইল। আবার প্রশ্ন করা হলো, আপনার সাথে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। প্রশ্ন করা হলো, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর বলা হলো, তাকে স্বাগতম! তার আগমন কতই না উত্তম! আমি যখন ভেতরে প্রবেশ করলাম সেখানে ইবরাহিমকে (আ.) দেখতে পেলাম। জিবরাইল (আ.) বললেন, ইনি হলেন আপনার বাবা ইবরাহিম (আ.) তাকে সালাম করুন। তখন আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, নেককার পুত্র ও নেককার নবিকে স্বাগতম।

তারপর আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা (সপ্তম আকাশে অবস্থিত একটি কুল গাছ) পর্যন্ত ওঠানো হলো। আমি দেখতে পেলাম, তার ফল হাজার নামক অঞ্চলের মটকার মতো এবং তার পাতা হাতির কানের মতো। জিবরাইল (আ.) বললেন, এটাই সিদরাতুল মুনতাহা। আমি সেখানে আরো দেখতে পেলাম চারটি নহর। দুটি নহর অপ্রকাশ্য, আর দুটি প্রকাশ্য। আমি জিজ্ঞেস করলাম, জিবরাইল! এ নহরের তৎপর্য কি? তিনি বললেন, অপ্রকাশ্য দুটি হলো জান্নাতে প্রবাহিত দুটি নহর। আর প্রকাশ্য দুটি হলো (মিশরের) নীল নদ (ইরাকের) ফোরাত নদী।

আমাকে বায়তুল মা’মূর দেখানো হলো। তারপর আমার সামনে হাজির করা হলো এক পাত্র মদ, এক পাত্র দুধ ও এক পাত্র মধু। আমি দুধ গ্রহণ করলাম এবং তা পান করলাম। জিবরাইল (আ.) বললেন, এটা ফিতরাতের (স্বভাব-ধর্মের) নিদর্শন। আপনি এবং আপনার উম্মত সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবেন।

তারপর আমার ওপর দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হলো। আমি তা গ্রহণ করে ফিরছিলাম। মুসার (আ.) সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বললেন, আপনাকে কী করতে আদেশ করা হয়েছে? আমি বললাম, দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজের সালাতের আদেশ করা হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারবে না। আল্লাহর শপথ! আপনার আগে আমি মানুষকে পরখ করে দেখেছি। বনি ইসরাইলের হেদায়াতের জন্য আমি যথাসাধ্য পরিশ্রম করেছি। তাই আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের পক্ষে নামাজ আরো কমিয়ে দেওয়ার আবেদন করুন। আমি ফিরে গেলাম এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রার্থনা করলাম। আল্লাহ তাআলা আমার ওপর থেকে দশ ওয়াক্ত নামাজ কমিয়ে দিলেন। আমি মুসার (আ.) কাছে ফিরলে তিনি আবারও অনুরূপ কথা বললেন। আমি আবার আল্লাহর কাছে ফিরে গেলাম। তিনি আমার ওপর থেকে আরো দশ ওয়াক্ত নামাজ কমিয়ে দিলেন। আবার আমি মুসার (আ.) কাছে ফিরলে তিনি অনুরূপ কথাই বললেন। আমি আবার ফিরে গেলাম। তখন আল্লাহ তা’আলা আরো দশ ওয়াক্ত নামাজ মাফ করে দিলেন। আমি মুসার (রা.) কাছে ফিরলে তিনি আবারও ওই কথাই বললেন। আমি আবার ফিরে গেলাম। আল্লাহ তাআলা আমার জন্য দশ ওয়াক্ত নামাজ কম করে দিলেন এবং আমাকে প্রত্যেক দিন দশ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিলেন। আমি মুসার কাছে ফিরলে এবারও তিনি অনুরূপ কথাই বললেন। ফলে আমি পুনরায় ফিরে গেলে আমাকে প্রত্যেক দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হলো।

আমি মুসার (আ.) কাছে ফিরলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনাকে কী করতে আদেশ করা হলো? আমি বললাম, আমাকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবারও তিনি বললেন, আপনার উম্মত প্রত্যেক দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারবে না। আপনার আগে আমি মানুষদের পরখ করে দেখেছি এবং বনি ইসরাইলের হেদায়াতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা ও কষ্ট স্বীকার করেছি। আপনি আবার আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো কম করার জন্য প্রার্থনা করুন। আমি বললাম, আমি আমার রবের কাছে এত বেশি আবেদন করেছি যে আবার ফিরে যেতে লজ্জাবোধ করছি, বরং আমি আল্লাহর এ নির্দেশের ওপর সন্তুষ্ট এবং আমি আমার ও আমার উম্মতের ব্যাপার আল্লাহর ওপর অর্পণ করছি। যখন আমি মূসা আলায়হিস সালাম-কে অতিক্রম করে সামনে অগ্রসর হলাম, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিলেন, আমার অবশ্য পালনীয় আদেশটি আমি জারি করে দিলাম এবং বান্দাদের জন্য সহজ করে দিলাম।

মেরাজের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দেখতে পেলেন আদম (আ.)-কে ঘিরে আছে অনেক লোক। তিনি ডানে তাকালে হাসছেন আর বাঁ তাকালে কাঁদছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ সম্পর্কে জানতে চাইলে, বলা হলো—এরা সবাই আদমের বংশধর। আদম (আ.) তাঁর নেক বংশধরদের দেখলে হাসতেন আর অসৎ বংশধরদের দেখলে কাঁদতেন।

এরপর নবী (সা.)-কে বিস্তারিত দেখার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হয়।১. এক স্থানে তিনি দেখলেন কিছু লোক ফসল কাটছে, যত কাটছে ততই বাড়ছে। মহানবী (সা.) জিবরাইল (আ.)-কে প্রশ্ন করলেন—ভাই, এরা কারা? এ প্রশ্নের জবাবে জিবরাইল (আ.) বলেন, এরা আল্লাহর পথে জিহাদকারী।

২. এরপর দেখলেন কিছু লোকের মাথা পাথর মেরে চূর্ণ করা হচ্ছে।

এদের পরিচয় সম্পর্কে বলা হল এরা ওই সব লোক, যাদের অনীহা ও অসন্তোষ তাদের নামাজের জন্য উঠতে দিত না।৩. এরপর তিনি এমন কিছু লোক দেখতে পেলেন, যাদের কাপড়ের আগে-পিছে তালি দেওয়া। আর তারা পশুর মতো ঘাস খাচ্ছে। এদের পরিচয় সম্পর্কে বলা হলো, এরা তাদের সম্পদের জাকাত আদায় করত না, দান-খয়রাতও করত না।

৪. এরপর তিনি এমন একজন লোক দেখলেন, যে ব্যক্তি কাঠ জমা করে বোঝা হিসেবে ওঠানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও আরো বেশি কাঠ তার বোঝার সঙ্গে যোগ করছে।

এই লোকটির পরিচয় জানতে চেয়ে উত্তর পেলেন, এ ব্যক্তির ওপর এত বেশি দায়িত্বের বোঝা ছিল যে সে বহন করতে পারত না। তা সত্ত্বেও বোঝা কমানোর পরিবর্তে আরো অতিরিক্ত দায়িত্বের বোঝা নিজের কাঁধে চাপিয়ে নিত।৫. এর পরের দৃশ্যে তিনি দেখলেন, কিছু লোকের ঠোঁট ও জিহ্বা কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছে। এদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে বলা হলো, এরা ছিল কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তা। মুখে যা আসত তাই বলত। এই সমাজে ফিতনা সৃষ্টি করত।

৬. তারপর এক স্থানে একটি পাথর দেখা গেল, যার মধ্যে ছিল সামান্য ফাটল। তার মধ্য থেকে একটা মোটাসোটা বলদ বেরিয়ে এলো। পরে এর মধ্যে ঢুকতে চেয়ে পারল না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বলা হলো, এটা হলো এমন দায়িত্বহীন ব্যক্তির দৃষ্টান্ত যে ফিতনা সৃষ্টি করার মতো উক্তি করে লজ্জিত হয়ে প্রতিকার করতে চায়, কিন্তু পারে না।

৭. এক স্থানে রাসুলুল্লাহ (সা.) দেখলেন, কিছু লোক তাদের নিজেদের গোশত কেটে কেটে খাচ্ছে। তাদের পরিচয় বলা হলো, এরা অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারোপ ও কটূক্তি করত।

৮. তাদের পাশেই এমন কিছু লোক ছিল, যাদের হাতে নখ ছিল তামার তৈরি, তা দিয়ে তারা তাদের মুখ ও বুক আঁচড়াচ্ছিল। এদের পরিচয় সম্পর্কে বলা হলো, এরা মানুষের অসাক্ষাতে তাদের নিন্দা চর্চা করত। তাদের সম্মানে আঘাত করত।

৯. কিছু লোকের ঠোঁট দেখা গেল উঠের ঠোঁটের মতো এবং তারা আগুন খাচ্ছে। তাদের সম্পর্কে বলা হলো, এরা এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করত।

১০. এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন কিছু লোক দেখতে পেলেন, যাদের পেট ছিল অসম্ভব বড় এবং বিষাক্ত সাপে পরিপূর্ণ। লোকজন তাদের দলিত-মথিত করে তাদের ওপর দিয়ে যাতায়াত করছে; কিন্তু তারা কিছু করতে পারছে না। এদের পরিচয় সম্পর্কে বলা হলো এরা ছিল সুদখোর।

১১. এরপর আল্লাহর নবী এমন কিছু লোক দেখলেন, যাদের একদিকে রাখা ছিল ভালো গোশত। অন্যদিকে রাখা ছিল পচা দুর্গন্ধযুক্ত গোশত। তারা ভালো গোশত রেখে পচা গোশত খাচ্ছিল। তাদের পরিচয়ে বলা হলো, এরা ছিল এমন লোক, যারা নিজেদের হালাল স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে যৌন বাসনা চরিতার্থ করত।

১২. সেই সঙ্গে এমন কিছু স্ত্রীলোক দেখলেন যারা তাদের স্তনের সাহায্যে লটকে ছিল। তাদের সম্পর্কে বলা হলো যে এরা ছিল এমন স্ত্রীলোক, যারা তাদের স্বামীর ঔরসজাত নয়—এমন সন্তানকেও স্বামীর ঔরসজাত হিসেবে দাবি করত।

এসব দৃশ্য পর্যবেক্ষণকালে নবী (সা.)-এর সাক্ষাৎ হয় এমন এক ফেরেশতার সঙ্গে যাকে রুক্ষ ও কাটখোট্টা মেজাজের মনে হচ্ছিল। নবী (সা.) জিবরাইল (আ.)-কে জিজ্ঞেস করলেন এতক্ষণ যত ফেরেশতার সঙ্গে দেখা হলো সবাইকে তো খোশমেজাজে দেখলাম। ইনি এমন কেন? জিবরাইল (আ.) বলেন এর হাসিখুশির কোনো কারবার নেই। এ যে জাহান্নামের দারোগা। এ কথা শুনে আল্লাহর রাসুলুল্লাহ (সা.) জাহান্নাম দেখতে চাইলেন, তাত্ক্ষণিকভাবে তার দৃষ্টির পথ থেকে পর্দা উঠিয়ে দেওয়া হলো এবং জাহান্নাম তার ভয়ংকর রূপে আবির্ভূত হলো।

সূত্র: সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম

Tag :

বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম

পবিত্র মেরাজের রাতে কী ঘটেছিল?

Update Time : ০৩:১২:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫

মালেক ইবনে সা’সাআহ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, মেরাজের রাতে কী ঘটেছিল সে প্রসঙ্গে আল্লাহর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, এক রাতে আমি কাবার হাতিম অংশে কাত হয়ে শুয়েছিলাম। এমন সময় হঠাৎ একজন আগন্তুক আমার কাছে এলেন। তিনি আমার কণ্ঠনালীর নিম্নভাগ থেকে নাভির উপরিভাগ পর্যন্ত বিদীর্ণ করলেন। তারপর ইমানে পরিপূর্ণ একটি স্বর্ণের থালা আমার কাছে আনা হলো এবং আমার অন্তরকে ধৌত করা হলো। তারপর তা ইমানে পরিপূর্ণ করে আবার পূর্বের জায়গায় রাখা হলো।

তারপর আকারে খচ্চরের চেয়ে ছোট এবং গাধার চেয়ে বড় এক সাদা বর্ণের বাহন আমার সম্মুখে উপস্থিত করা হয়। তাকে বলা হয় ‘বোরাক’। তার দৃষ্টি যত দূর যেত, সেখানে তার পা সেখানে রাখত। আমাকে তার ওপরে আরোহণ করানো হলো। জিবরাইল (আ.) আমাকে সাথে নিয়ে যাত্রা করলেন এবং নিকটতম আকাশে পৌছে দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিবরাইল। আবার প্রশ্ন করা হলো, আপনার সাথে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। পুনরায় প্রশ্ন করা হলো, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হলো, তাকে স্বাগতম! তার আগমন অত্যন্ত শুভ। তারপর দরজা খুলে দেয়া হলো। ভেতরে প্রবেশ করে সেখানে দেখতে পেলাম ইয়াহইয়া ও ঈসাকে (আ.)। তারা দুইজন পরস্পর খালাতো ভাই। জিবরাইল (আ.) বললেন, ইনি হলেন ইয়াহইয়া (আ.) আর উনি ঈসা (আ.)। আপনি তাদের সালাম করুন। যখন আমি সালাম করলাম, তারা উভয়ে সালামের জবাব দিয়ে বললেন, নেককার ভাই ও নেককার নবিকে স্বাগতম।

জিবরাইল (আ.) আমাকে নিয়ে তৃতীয় আকাশে উঠলেন এবং দরজা খুলে দিতে বললেন। প্রশ্ন করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিবরাইল। আবার প্রশ্ন করা হলো, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। পুনরায় প্রশ্ন করা হলো, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তাকে স্বাগতম। তার আগমন খুবই কল্যাণকর। তারপর দরজা খুলে দেয়া হলো। ভেতরে প্রবেশ করে আমি সেখানে ইউসুফকে (আ.) দেখতে পেলাম। জিবরাইল (আ.) বললেন, ইনি হলেন ইউসুফ (আ.)। তাকে সালাম করুন। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, নেককার ভাই ও নেককার নবিকে স্বাগতম।

জিবরাইল (আ.) আমাকে নিয়ে আরো ওপরে উঠলেন এবং চতুর্থ আকাশে গিয়ে এসে দরজা খুলে দিতে বললেন। জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি কে? তিনি বললেন, জিবরাইল। আবার প্রশ্ন করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। পুনরায় প্রশ্ন করা হলো, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তাকে স্বাগতম। তার আগমন বড়ই শুভ! তারপর দরজা খুলে দেয়া হলো। ভেতরে প্রবেশ করে দেখলাম, সেখানে ইদরীস (আ.)। জিবরাইল (আ.) বললেন, ইনি ইদরীস (আ.) তাকে

জিবরাইল (আ.) আমাকে নিয়ে আরও ঊর্ধ্বে আরোহণ করলেন এবং পঞ্চম আকাশে গিয়ে দরজা খুলে দিতে বললেন। প্রশ্ন করা হলো, কে? বললেন, জিবরাইল। প্রশ্ন করা হলো, আপনার সাথে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। প্রশ্ন করা হলো, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তাকে স্বাগতম! তার আগমন খুবই কল্যাণকর! তারপর দরজা খুলে দিলে আমি ভেতরে ঢুকলাম। সেখানে হারুনকে (আ.) দেখতে পেলাম। জিবরাইল (আ.) বললেন, ইনি হারুন (আ.) তাকে সালাম করুন। আমি তাকে সালাম করলে তিনি উত্তর দিয়ে বললেন, নেককার ভাই ও নেককার নবিকে স্বাগতম।

জিবরাইল (আ.) আমাকে সাথে নিয়ে আরো ঊর্ধ্বে উঠলেন। ষষ্ঠ আকাশে গিয়ে তিনি দরজা খুলে দিতে বললে প্রশ্ন করা হলো, কে? তিনি বললেন, জিবরাইল। প্রশ্ন করা হলো, আপনার সাথে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। প্রশ্ন করা হলো তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হলো, তাকে স্বাগতম। তারা আগমন কতই না উত্তম! তারপর দরজা খুলে দিলে আমি ভেতরে প্রবেশ করলাম। সেখানে মুসাকে (আ.) দেখতে পেলাম। জিবরাইল (আ.) সালাম বললেন, ইনি হলেন, মুসা (আ.) তাকে সালাম করুন। আমি তাকে সালাম করলে তিনি তার জবাব দিয়ে বললেন, নেককার ভাই ও নেককার নবিকে স্বাগতম। আমি যখন তাঁকে অতিক্রম করে অগ্রসর হলাম, তিনি কেঁদে ফেললেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, আমি এ জন্য কাঁদছি যে, আমার পরে এমন একজন যুবককে নবি হিসেবে পাঠানো হলো, যার উম্মত আমার উম্মতের চেয়ে বেশি সংখ্যায় জান্নাতে প্রবেশ করবে।

জিবরাইল (আ.) আমাকে নিয়ে সপ্তম আকাশে আরোহণ করলেন। দরজা খুলতে বললে আগের মতোই প্রশ্ন করা হলো, কে? তিনি বললেন, জিবরাইল। আবার প্রশ্ন করা হলো, আপনার সাথে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। প্রশ্ন করা হলো, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর বলা হলো, তাকে স্বাগতম! তার আগমন কতই না উত্তম! আমি যখন ভেতরে প্রবেশ করলাম সেখানে ইবরাহিমকে (আ.) দেখতে পেলাম। জিবরাইল (আ.) বললেন, ইনি হলেন আপনার বাবা ইবরাহিম (আ.) তাকে সালাম করুন। তখন আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, নেককার পুত্র ও নেককার নবিকে স্বাগতম।

তারপর আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা (সপ্তম আকাশে অবস্থিত একটি কুল গাছ) পর্যন্ত ওঠানো হলো। আমি দেখতে পেলাম, তার ফল হাজার নামক অঞ্চলের মটকার মতো এবং তার পাতা হাতির কানের মতো। জিবরাইল (আ.) বললেন, এটাই সিদরাতুল মুনতাহা। আমি সেখানে আরো দেখতে পেলাম চারটি নহর। দুটি নহর অপ্রকাশ্য, আর দুটি প্রকাশ্য। আমি জিজ্ঞেস করলাম, জিবরাইল! এ নহরের তৎপর্য কি? তিনি বললেন, অপ্রকাশ্য দুটি হলো জান্নাতে প্রবাহিত দুটি নহর। আর প্রকাশ্য দুটি হলো (মিশরের) নীল নদ (ইরাকের) ফোরাত নদী।

আমাকে বায়তুল মা’মূর দেখানো হলো। তারপর আমার সামনে হাজির করা হলো এক পাত্র মদ, এক পাত্র দুধ ও এক পাত্র মধু। আমি দুধ গ্রহণ করলাম এবং তা পান করলাম। জিবরাইল (আ.) বললেন, এটা ফিতরাতের (স্বভাব-ধর্মের) নিদর্শন। আপনি এবং আপনার উম্মত সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবেন।

তারপর আমার ওপর দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হলো। আমি তা গ্রহণ করে ফিরছিলাম। মুসার (আ.) সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বললেন, আপনাকে কী করতে আদেশ করা হয়েছে? আমি বললাম, দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজের সালাতের আদেশ করা হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারবে না। আল্লাহর শপথ! আপনার আগে আমি মানুষকে পরখ করে দেখেছি। বনি ইসরাইলের হেদায়াতের জন্য আমি যথাসাধ্য পরিশ্রম করেছি। তাই আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের পক্ষে নামাজ আরো কমিয়ে দেওয়ার আবেদন করুন। আমি ফিরে গেলাম এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রার্থনা করলাম। আল্লাহ তাআলা আমার ওপর থেকে দশ ওয়াক্ত নামাজ কমিয়ে দিলেন। আমি মুসার (আ.) কাছে ফিরলে তিনি আবারও অনুরূপ কথা বললেন। আমি আবার আল্লাহর কাছে ফিরে গেলাম। তিনি আমার ওপর থেকে আরো দশ ওয়াক্ত নামাজ কমিয়ে দিলেন। আবার আমি মুসার (আ.) কাছে ফিরলে তিনি অনুরূপ কথাই বললেন। আমি আবার ফিরে গেলাম। তখন আল্লাহ তা’আলা আরো দশ ওয়াক্ত নামাজ মাফ করে দিলেন। আমি মুসার (রা.) কাছে ফিরলে তিনি আবারও ওই কথাই বললেন। আমি আবার ফিরে গেলাম। আল্লাহ তাআলা আমার জন্য দশ ওয়াক্ত নামাজ কম করে দিলেন এবং আমাকে প্রত্যেক দিন দশ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিলেন। আমি মুসার কাছে ফিরলে এবারও তিনি অনুরূপ কথাই বললেন। ফলে আমি পুনরায় ফিরে গেলে আমাকে প্রত্যেক দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হলো।

আমি মুসার (আ.) কাছে ফিরলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনাকে কী করতে আদেশ করা হলো? আমি বললাম, আমাকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবারও তিনি বললেন, আপনার উম্মত প্রত্যেক দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারবে না। আপনার আগে আমি মানুষদের পরখ করে দেখেছি এবং বনি ইসরাইলের হেদায়াতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা ও কষ্ট স্বীকার করেছি। আপনি আবার আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো কম করার জন্য প্রার্থনা করুন। আমি বললাম, আমি আমার রবের কাছে এত বেশি আবেদন করেছি যে আবার ফিরে যেতে লজ্জাবোধ করছি, বরং আমি আল্লাহর এ নির্দেশের ওপর সন্তুষ্ট এবং আমি আমার ও আমার উম্মতের ব্যাপার আল্লাহর ওপর অর্পণ করছি। যখন আমি মূসা আলায়হিস সালাম-কে অতিক্রম করে সামনে অগ্রসর হলাম, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিলেন, আমার অবশ্য পালনীয় আদেশটি আমি জারি করে দিলাম এবং বান্দাদের জন্য সহজ করে দিলাম।

মেরাজের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দেখতে পেলেন আদম (আ.)-কে ঘিরে আছে অনেক লোক। তিনি ডানে তাকালে হাসছেন আর বাঁ তাকালে কাঁদছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ সম্পর্কে জানতে চাইলে, বলা হলো—এরা সবাই আদমের বংশধর। আদম (আ.) তাঁর নেক বংশধরদের দেখলে হাসতেন আর অসৎ বংশধরদের দেখলে কাঁদতেন।

এরপর নবী (সা.)-কে বিস্তারিত দেখার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হয়।১. এক স্থানে তিনি দেখলেন কিছু লোক ফসল কাটছে, যত কাটছে ততই বাড়ছে। মহানবী (সা.) জিবরাইল (আ.)-কে প্রশ্ন করলেন—ভাই, এরা কারা? এ প্রশ্নের জবাবে জিবরাইল (আ.) বলেন, এরা আল্লাহর পথে জিহাদকারী।

২. এরপর দেখলেন কিছু লোকের মাথা পাথর মেরে চূর্ণ করা হচ্ছে।

এদের পরিচয় সম্পর্কে বলা হল এরা ওই সব লোক, যাদের অনীহা ও অসন্তোষ তাদের নামাজের জন্য উঠতে দিত না।৩. এরপর তিনি এমন কিছু লোক দেখতে পেলেন, যাদের কাপড়ের আগে-পিছে তালি দেওয়া। আর তারা পশুর মতো ঘাস খাচ্ছে। এদের পরিচয় সম্পর্কে বলা হলো, এরা তাদের সম্পদের জাকাত আদায় করত না, দান-খয়রাতও করত না।

৪. এরপর তিনি এমন একজন লোক দেখলেন, যে ব্যক্তি কাঠ জমা করে বোঝা হিসেবে ওঠানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও আরো বেশি কাঠ তার বোঝার সঙ্গে যোগ করছে।

এই লোকটির পরিচয় জানতে চেয়ে উত্তর পেলেন, এ ব্যক্তির ওপর এত বেশি দায়িত্বের বোঝা ছিল যে সে বহন করতে পারত না। তা সত্ত্বেও বোঝা কমানোর পরিবর্তে আরো অতিরিক্ত দায়িত্বের বোঝা নিজের কাঁধে চাপিয়ে নিত।৫. এর পরের দৃশ্যে তিনি দেখলেন, কিছু লোকের ঠোঁট ও জিহ্বা কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছে। এদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে বলা হলো, এরা ছিল কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তা। মুখে যা আসত তাই বলত। এই সমাজে ফিতনা সৃষ্টি করত।

৬. তারপর এক স্থানে একটি পাথর দেখা গেল, যার মধ্যে ছিল সামান্য ফাটল। তার মধ্য থেকে একটা মোটাসোটা বলদ বেরিয়ে এলো। পরে এর মধ্যে ঢুকতে চেয়ে পারল না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বলা হলো, এটা হলো এমন দায়িত্বহীন ব্যক্তির দৃষ্টান্ত যে ফিতনা সৃষ্টি করার মতো উক্তি করে লজ্জিত হয়ে প্রতিকার করতে চায়, কিন্তু পারে না।

৭. এক স্থানে রাসুলুল্লাহ (সা.) দেখলেন, কিছু লোক তাদের নিজেদের গোশত কেটে কেটে খাচ্ছে। তাদের পরিচয় বলা হলো, এরা অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারোপ ও কটূক্তি করত।

৮. তাদের পাশেই এমন কিছু লোক ছিল, যাদের হাতে নখ ছিল তামার তৈরি, তা দিয়ে তারা তাদের মুখ ও বুক আঁচড়াচ্ছিল। এদের পরিচয় সম্পর্কে বলা হলো, এরা মানুষের অসাক্ষাতে তাদের নিন্দা চর্চা করত। তাদের সম্মানে আঘাত করত।

৯. কিছু লোকের ঠোঁট দেখা গেল উঠের ঠোঁটের মতো এবং তারা আগুন খাচ্ছে। তাদের সম্পর্কে বলা হলো, এরা এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করত।

১০. এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন কিছু লোক দেখতে পেলেন, যাদের পেট ছিল অসম্ভব বড় এবং বিষাক্ত সাপে পরিপূর্ণ। লোকজন তাদের দলিত-মথিত করে তাদের ওপর দিয়ে যাতায়াত করছে; কিন্তু তারা কিছু করতে পারছে না। এদের পরিচয় সম্পর্কে বলা হলো এরা ছিল সুদখোর।

১১. এরপর আল্লাহর নবী এমন কিছু লোক দেখলেন, যাদের একদিকে রাখা ছিল ভালো গোশত। অন্যদিকে রাখা ছিল পচা দুর্গন্ধযুক্ত গোশত। তারা ভালো গোশত রেখে পচা গোশত খাচ্ছিল। তাদের পরিচয়ে বলা হলো, এরা ছিল এমন লোক, যারা নিজেদের হালাল স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে যৌন বাসনা চরিতার্থ করত।

১২. সেই সঙ্গে এমন কিছু স্ত্রীলোক দেখলেন যারা তাদের স্তনের সাহায্যে লটকে ছিল। তাদের সম্পর্কে বলা হলো যে এরা ছিল এমন স্ত্রীলোক, যারা তাদের স্বামীর ঔরসজাত নয়—এমন সন্তানকেও স্বামীর ঔরসজাত হিসেবে দাবি করত।

এসব দৃশ্য পর্যবেক্ষণকালে নবী (সা.)-এর সাক্ষাৎ হয় এমন এক ফেরেশতার সঙ্গে যাকে রুক্ষ ও কাটখোট্টা মেজাজের মনে হচ্ছিল। নবী (সা.) জিবরাইল (আ.)-কে জিজ্ঞেস করলেন এতক্ষণ যত ফেরেশতার সঙ্গে দেখা হলো সবাইকে তো খোশমেজাজে দেখলাম। ইনি এমন কেন? জিবরাইল (আ.) বলেন এর হাসিখুশির কোনো কারবার নেই। এ যে জাহান্নামের দারোগা। এ কথা শুনে আল্লাহর রাসুলুল্লাহ (সা.) জাহান্নাম দেখতে চাইলেন, তাত্ক্ষণিকভাবে তার দৃষ্টির পথ থেকে পর্দা উঠিয়ে দেওয়া হলো এবং জাহান্নাম তার ভয়ংকর রূপে আবির্ভূত হলো।

সূত্র: সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম