কুমিল্লার জের ধরে নোয়াখালীর বানিজ্যিক শহর চৌমুহনীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে প্রান্ত চন্দ্র দাস (২৫) নামের এক ভক্তের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
শনিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিছিলটি চৌমুহনীর কলেজ রোড়স্থ ইসকন মন্দির থেকে বের হয়ে হোসেন মার্কেটের সামনে এসে শেষ হয়। তারপর হোসেন মার্কেটের সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। দুপুর পর্যন্ত বিক্ষোভ অব্যাহত ছিলো। এসময় মিছিলকারীদের লাঠি চার্জ করেও থামাতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
এরআগে সকাল ৭টার দিকে ইসকন মন্দিরের পুকুর থেকে প্রান্ত চন্দ্র দাস নামের ইসকন মন্দিরের এক ভক্তের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ওই লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। দুপুরের দিকে নিহতের লাশ পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
নিহত প্রান্ত চন্দ্র দাস চাটখিল উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের নকুল চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি চৌমুহনীর কলেজ রোড়স্থ ইসকন মন্দিরের সদস্য ছিলো।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান শিকদার বলেন, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল ও বিক্ষোভ করছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। তারা এখনও সড়কে অবস্থান করছে।
এদিকে শনিবার বেলা ১২টার দিকে চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রাপ্ত) আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপির নেতৃত্বে এ প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক খায়রুল আনম সেলিম, যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন ও শহিদ উল্যাহ খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। তিনি সনাতন নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস প্রদান করেন।
নোয়াখালী পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কিশোর চন্দ্র শীল জানান, সম্প্রীতি বজায় রাখতে বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল, ডিআইজি, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতবৃন্দের ব্যাপক আলোচনা হয়।
ইসকন মন্দিরের প্রভু গোবিন্দ দাস বলেন, গতকাল যে হামলা চালানো হয়েছে তখন প্রান্ত চন্দ্র দাসকে মেরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা রাত ১২ টার পর পুকুরে তাকে অনেক খোঁজাখুজি করেছি। কিন্তু সকাল ৭ টার দিকে তার মরদেহ ভেসে উঠে।
হিন্দু- বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট নোয়াখালীর সভাপতি রনি চৌধুরী ইমন জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনের দায়ের করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ইসকন ভক্ত প্রান্ত চন্দ্র দাসের লাশ নিয়ে নোয়াখালী-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার সুষ্ঠ বিচার না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার পূজামন্ডপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার জের ধরে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে বেশ কয়েকটি মন্দিরে এবং বাড়িঘরে হামলা ও পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আতংকিত হয়ে হার্ড এ্যাটাক করে যতন কুমার সাহা (৪২) নামের একজন নিহত হন। পুলিশ সদস্যসহ আহত হয় অর্ধশতাধিক লোক।
অনলাইন ডেস্ক 
























