ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খেলাফত মজলিস বরেণ্য কবি ও সাংবাদিক শেখ শামসুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা: বাংলা একাডেমি থেকে মরণোত্তর সম্মাননার দাবি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ব্যতীত আন্দোলন থামবে না: ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, সেটি তাদের জন্য ‘খুবই খারাপ’ হবে: ট্রাম্প আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৫ জুলাই ২০২৬ দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল: হোয়াইট হাউস ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা শুনতে আট জেলার ৫৮টি উপজেলার মানুষের স্রোত এসে নামে রংপুরে

এক সময়ের মঙ্গাখ্যাত দেশের উত্তরের রংপুর বিভাগ এখন দেশের উন্নত বিভাগ। আর এই উন্নয়নের কারিগর বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এই বঙ্গবন্ধু কন্যার রংপুরের মহাসমাবেশে অংশ নিতে এবং তার কথা শুনতে আট জেলার ৫৮টি উপজেলার মানুষের স্রোত এসে নামে রংপুরে। যারা সকাল ৯-১০টার মধ্যে আসেন, তারা জায়গা পান রংপুর জিলা স্কুল মাঠে। এরপর মানুষের অবস্থান রংপুর শহরের চারদিকে ছাড়াতে থাকে। দুপুর ১টার সময় শেখ হাসিনা যখন ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হন, তখন মানুষের ঢল চলে স্কুল মাঠ থেকে ১০ কিলোমিটারজুড়ে। এই ১০ কিলোমিটার পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহাসমাবেশ আজ বুধবার দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠ করার মধ্য দিয়ে মহাসমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। বেলা ৩টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সমাবেশস্থলে আসেন। রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ডা. দেলোয়ার হোসেন সভাপতিত্ব করেন। মহাসমাবেশে রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন জেলার নেতারা বক্তব্য রাখেন।
এদিকে, সকাল থেকে রংপুর নগরীসহ বিভাগের আট জেলা ও ৫৮টি উপজেলার গ্রাম পর্যায় থেকে নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। দুপুর ১টার আগেই সভাস্থল জিলা স্কুল মাঠ ছাড়িয়ে নগরীর ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। মুহুর্মুহু স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে পুরো রংপুর। মহাসমাবেশে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম হয়।
সকাল থেকেই শহরের তিনটি প্রবেশপথ দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভোর থেকেই ছোট-বড় মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাসে-ট্রাকে এবং হেঁটে মহাসমাবেশস্থলে আসেন। এছাড়া আটটি ট্রেন ভাড়া করে রাজশাহী, জয়পুরহাট, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নেতাকর্মীদের আসার ব্যবস্থা করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকেই রংপুর মহানগরীতে গণমানুষের ঢল নামতে শুরু করে। ‘শেখ হাসিনার আগমন শুভেচ্ছা-স্বাগতম’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। সকাল ৮টা থেকে সমাবেশস্থল রংপুর জিলা স্কুল মাঠে দূর-দূরান্ত থেকে রঙিন টি-শার্ট ও ক্যাপ পরিহিত নেতাকর্মীরা ঢাকঢোল পিটিয়ে আসতে শুরু করেন।
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে শতাধিক তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও পোস্টারে সাজানো হয় পুরো রংপুর শহর। নৌকার আদলে প্রস্তুত করা হয় মঞ্চ। মাঠে প্রবেশের জন্য তিনটি গেটের ব্যবস্থা করা হয়। গেটগুলোতে বাঁশের ব্যারিকেড দেওয়া হয়। একটি গেট দিয়ে লাল ও হলুদ সবুজ কার্ডধারী প্রবেশ করতে পারেন। এছাড়া মঞ্চের সঙ্গেই অপর আরেকটি ভিআইপি গেট রাখা হয়। সেখান দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কেন্দ্রীয় নেতা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা প্রবেশ করেন।
সকাল থেকে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষে ভরে যায় নগরের বিভিন্ন সড়ক, নগর পরিণত হয় উৎসবের নগরে। শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে সকাল থেকে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে দলের নেতাকর্মীরা নগরে আসতে শুরু করেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখর রংপুর জেলা স্কুলের মাঠ। রঙিন টি-শার্ট পরে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে তারা সেখানে বিভিন্ন স্লোগান  দেন।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয় রংপুর নগর। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তাচৌকি বসানো হয়। এক হাজারের বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়। নগরীর ২১টি পয়েন্টে করা হয় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।
ঠাকুরগাঁও থেকে সমাবেশস্থলে আসেন আমিরুল ইসলাম (৫৬)। তিনি বলেন, আমি শেখ হাসিনাকে দেখতে এসেছি। আমার মতো অনেকেই এসেছেন। রংপুরের মিঠাপুকুরের সুরুজ মিয়া (৫০) বলেন, ‘যে ভিড় ভেতরোত যাওয়া যাওচে না। রাস্তাত গাড়ি আর গাড়ি। হাঁটা মুশকিল। হাসিনা হামার রংপুরোত আইসোচে তাতে খুশি। হাসিনা তানে হামরা আজি তিনবেলা ভালো করে ভাত খাচি। শেখের বেটি এইবারও প্রধানমন্ত্রী হবেই।’
Tag :
জনপ্রিয়

অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা শুনতে আট জেলার ৫৮টি উপজেলার মানুষের স্রোত এসে নামে রংপুরে

Update Time : ০৫:২৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অগাস্ট ২০২৩
এক সময়ের মঙ্গাখ্যাত দেশের উত্তরের রংপুর বিভাগ এখন দেশের উন্নত বিভাগ। আর এই উন্নয়নের কারিগর বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এই বঙ্গবন্ধু কন্যার রংপুরের মহাসমাবেশে অংশ নিতে এবং তার কথা শুনতে আট জেলার ৫৮টি উপজেলার মানুষের স্রোত এসে নামে রংপুরে। যারা সকাল ৯-১০টার মধ্যে আসেন, তারা জায়গা পান রংপুর জিলা স্কুল মাঠে। এরপর মানুষের অবস্থান রংপুর শহরের চারদিকে ছাড়াতে থাকে। দুপুর ১টার সময় শেখ হাসিনা যখন ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হন, তখন মানুষের ঢল চলে স্কুল মাঠ থেকে ১০ কিলোমিটারজুড়ে। এই ১০ কিলোমিটার পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহাসমাবেশ আজ বুধবার দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠ করার মধ্য দিয়ে মহাসমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। বেলা ৩টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সমাবেশস্থলে আসেন। রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ডা. দেলোয়ার হোসেন সভাপতিত্ব করেন। মহাসমাবেশে রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন জেলার নেতারা বক্তব্য রাখেন।
এদিকে, সকাল থেকে রংপুর নগরীসহ বিভাগের আট জেলা ও ৫৮টি উপজেলার গ্রাম পর্যায় থেকে নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। দুপুর ১টার আগেই সভাস্থল জিলা স্কুল মাঠ ছাড়িয়ে নগরীর ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। মুহুর্মুহু স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে পুরো রংপুর। মহাসমাবেশে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম হয়।
সকাল থেকেই শহরের তিনটি প্রবেশপথ দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভোর থেকেই ছোট-বড় মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাসে-ট্রাকে এবং হেঁটে মহাসমাবেশস্থলে আসেন। এছাড়া আটটি ট্রেন ভাড়া করে রাজশাহী, জয়পুরহাট, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নেতাকর্মীদের আসার ব্যবস্থা করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকেই রংপুর মহানগরীতে গণমানুষের ঢল নামতে শুরু করে। ‘শেখ হাসিনার আগমন শুভেচ্ছা-স্বাগতম’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। সকাল ৮টা থেকে সমাবেশস্থল রংপুর জিলা স্কুল মাঠে দূর-দূরান্ত থেকে রঙিন টি-শার্ট ও ক্যাপ পরিহিত নেতাকর্মীরা ঢাকঢোল পিটিয়ে আসতে শুরু করেন।
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে শতাধিক তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও পোস্টারে সাজানো হয় পুরো রংপুর শহর। নৌকার আদলে প্রস্তুত করা হয় মঞ্চ। মাঠে প্রবেশের জন্য তিনটি গেটের ব্যবস্থা করা হয়। গেটগুলোতে বাঁশের ব্যারিকেড দেওয়া হয়। একটি গেট দিয়ে লাল ও হলুদ সবুজ কার্ডধারী প্রবেশ করতে পারেন। এছাড়া মঞ্চের সঙ্গেই অপর আরেকটি ভিআইপি গেট রাখা হয়। সেখান দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কেন্দ্রীয় নেতা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা প্রবেশ করেন।
সকাল থেকে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষে ভরে যায় নগরের বিভিন্ন সড়ক, নগর পরিণত হয় উৎসবের নগরে। শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে সকাল থেকে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে দলের নেতাকর্মীরা নগরে আসতে শুরু করেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখর রংপুর জেলা স্কুলের মাঠ। রঙিন টি-শার্ট পরে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে তারা সেখানে বিভিন্ন স্লোগান  দেন।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয় রংপুর নগর। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তাচৌকি বসানো হয়। এক হাজারের বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়। নগরীর ২১টি পয়েন্টে করা হয় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।
ঠাকুরগাঁও থেকে সমাবেশস্থলে আসেন আমিরুল ইসলাম (৫৬)। তিনি বলেন, আমি শেখ হাসিনাকে দেখতে এসেছি। আমার মতো অনেকেই এসেছেন। রংপুরের মিঠাপুকুরের সুরুজ মিয়া (৫০) বলেন, ‘যে ভিড় ভেতরোত যাওয়া যাওচে না। রাস্তাত গাড়ি আর গাড়ি। হাঁটা মুশকিল। হাসিনা হামার রংপুরোত আইসোচে তাতে খুশি। হাসিনা তানে হামরা আজি তিনবেলা ভালো করে ভাত খাচি। শেখের বেটি এইবারও প্রধানমন্ত্রী হবেই।’