প্রায় ১৮ মাস পর আগামীকাল রোববার থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সকল ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে চালু হতে চলেছে। দেশে করোনা পরিস্থিতির উন্নতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার চলতি মাসের শুরুতে ক্লাসরুমের পাঠদান পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত বছর মহামারির প্রাদুর্ভাবের পর থেকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত স্কুল কর্তৃপক্ষ।
স্কুল প্রাঙ্গণে স্যানিটাইজেশন নিশ্চিত করা ছাড়াও ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাসের রুটিন ও অন্যান্য নির্দেশনাবলী অনলাইনে প্রকাশ করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে। এজন্য ৯ সেপ্টেম্বরের আগে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঠদান উপযোগী করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সার্বিক প্রস্তুতির ব্যাপার আছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি থাকার কথা, সেটি আমরা তৈরি করছিও। যেখানে ছোটখাটো প্রস্তুতির ব্যাপার আছে, সেটাও ৯ তারিখের আগেই সব সম্পন্ন হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, অর্থাৎ ৯ তারিখে আমাদের একেবারে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেখবেন। পাঠদান শুরু করার প্রস্তুতি আছে কিনা, তা-ই দেখবেন তারা।
দীপু মনি বলেন, শুরুতে ২০২১ সাল এবং পরের বছর ২০২২ সালের যারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী তারা প্রতিদিন ক্লাস করবে। প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস করবে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস এবং মাধ্যমিকের ৬ষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ক্লাস হবে সপ্তাহে একদিন।
মন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে সকল শ্রেণির ক্লাস একদিন থেকে ২-৩ দিনে নেয়া হবে। পরে প্রতিদিন ক্লাস হবে। বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের সাথে আমিও বসবো। টিকার বিষয় আছে, হয়তো অক্টোবরে তারা শুরু করতে পারে।
দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ার পর সরকার ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। এরপর দফায় দফায় অনেকবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানো হয়। সর্বশেষ দফায় আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়।
শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে বসে টিফিন খেতে পারবে না
শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে বসে টিফিন খেতে পারবে না বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ফারুক।
শনিবার সকালে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অভিভাবক ছাউনি উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
গোলাম ফারুক বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বসে ছাত্র ছাত্রীরা কোনো টিফিন খেতে পারবে না। তারা বাসা থেকে টিফিন খেয়ে আসতে হবে। প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র খাবার পানি সরবরাহ করবে।’
মাউশি মহাপরিচালক অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের সময় ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। এক্ষেত্রে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
এদিকে শিক্ষার্থী কিংবা পরিবারের কেউ অসুস্থ বা করোনার উপসর্গ থাকলে তাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না পাঠাতে অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়গুলো নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
করোনা পরিস্থিতির মাঝে কোনো শিক্ষার্থী যাতে ঝুঁকিতে না পড়ে এবং রোববার সকালে এসে শিক্ষার্থীরা যাতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ক্লাস করতে পারে সেদিকে যত্নশীল হতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে সকালে সিলেটের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ পরিদর্শন করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক।