ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নির্মাণাধীন স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে সরকারের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপকর্মে জড়ালে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘেও ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ইতোমধ্যেই ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে, ‘বিপুল পরিমাণ তেল’ যাচ্ছে: ট্রাম্প আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ফরিদপুরে ইবিএলের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু

প্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাময়িক ভাবে বরখাস্ত

  • মাহবুব পিয়াল
  • Update Time : ০১:৩৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • ২৫০ Time View

মাহবুব পিয়াল,ফরিদপুর : নানা অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে (বর্তমানে মাগুরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত) সাময়িক বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো.হারুণ খন্দোকারের স্বাক্ষরিত একপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সদ্য সমাপ্ত চরভদ্রাসন উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালিন সময়ে নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে  ভয় দেখিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ উঠে।

অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব (সংস্থাপন-১) মোঃ জিলহাজ উদ্দিন ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান তদন্তকালে অভিযোগের সত্যতা পান। তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেন নির্বাচন কমিশনে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আদেশ পত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম উপজেলার গাজীরটেক ইউপি নির্বাচনে সদস্য প্রার্থী আব্দুর রউফ ও চেয়ারম্যান প্রার্থী আহসানুল হক মামুন নামীয় প্রার্থীদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় সংক্রান্ত অভিযোগটির সত্যতার প্রমান মিলেছে।

এছাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ব্যাংক এ্যাকাউন্টে সোনালী ব্যাংক শাখায় ২০০৯৯০১০১৪৪৫৭ নং হিসাবে নির্বাচন পূর্ব, নির্বাচন চলাকালিন ও নির্বাচন পরবর্তি সময়ে অর্থাৎ গত ০৭ অক্টোবর হতে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ২৩ লাখ ৫ হাজার টাকা জমা পাওয়া গেলেও তদন্তে উক্ত ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত টাকার সুনির্দিষ্ট উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তা।

অভিযোগকারীদের কাছ থেকে গত ২ নভেম্বর নির্বাচন কর্মকর্তা পৌনে দুই লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহন করে পরের দিন তার ব্যাংকে জমাকৃত টাকার বিষয়ে অভিযোগকারীদের বক্তব্যর সত্যতা পাওয়া গেছে। উক্ত নির্বাচন কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহন ও দুর্নীতি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে, তার এরুপ কার্যকলাপ শৃঙ্খলা পরিপন্থি।

উক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা কর্তৃক সংগঠিত কর্মকান্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি (৩) খ অনুযায়ী ‘অসাদাচরণ’ এবং বিধিমালা ৩ (ঘ) অনুযায়ী ‘দুর্নীতি পরায়ণতা’ এর শামিল। তাই উক্ত নির্বাচন কর্মকর্তাকে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ১২(১) অনুযায়ী সরকারি চাকুরী হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালিন সময়ে নির্বাচন কর্মকর্তা প্রচলিত বিধি মোতাবেক শুধুমাত্র খোরাকি ভাতা প্রাপ্য হবেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে উঠা নানা অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তদন্তকালে। ওই তদন্ত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়।

তিনি আরো জানান, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি, লিখিত আদেশ এখনও আমার হাতে এসে পৌঁছায়নি।

Tag :

নির্মাণাধীন স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে

প্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাময়িক ভাবে বরখাস্ত

Update Time : ০১:৩৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২

মাহবুব পিয়াল,ফরিদপুর : নানা অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে (বর্তমানে মাগুরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত) সাময়িক বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো.হারুণ খন্দোকারের স্বাক্ষরিত একপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সদ্য সমাপ্ত চরভদ্রাসন উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালিন সময়ে নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে  ভয় দেখিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ উঠে।

অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব (সংস্থাপন-১) মোঃ জিলহাজ উদ্দিন ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান তদন্তকালে অভিযোগের সত্যতা পান। তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেন নির্বাচন কমিশনে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আদেশ পত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম উপজেলার গাজীরটেক ইউপি নির্বাচনে সদস্য প্রার্থী আব্দুর রউফ ও চেয়ারম্যান প্রার্থী আহসানুল হক মামুন নামীয় প্রার্থীদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় সংক্রান্ত অভিযোগটির সত্যতার প্রমান মিলেছে।

এছাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ব্যাংক এ্যাকাউন্টে সোনালী ব্যাংক শাখায় ২০০৯৯০১০১৪৪৫৭ নং হিসাবে নির্বাচন পূর্ব, নির্বাচন চলাকালিন ও নির্বাচন পরবর্তি সময়ে অর্থাৎ গত ০৭ অক্টোবর হতে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ২৩ লাখ ৫ হাজার টাকা জমা পাওয়া গেলেও তদন্তে উক্ত ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত টাকার সুনির্দিষ্ট উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তা।

অভিযোগকারীদের কাছ থেকে গত ২ নভেম্বর নির্বাচন কর্মকর্তা পৌনে দুই লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহন করে পরের দিন তার ব্যাংকে জমাকৃত টাকার বিষয়ে অভিযোগকারীদের বক্তব্যর সত্যতা পাওয়া গেছে। উক্ত নির্বাচন কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহন ও দুর্নীতি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে, তার এরুপ কার্যকলাপ শৃঙ্খলা পরিপন্থি।

উক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা কর্তৃক সংগঠিত কর্মকান্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি (৩) খ অনুযায়ী ‘অসাদাচরণ’ এবং বিধিমালা ৩ (ঘ) অনুযায়ী ‘দুর্নীতি পরায়ণতা’ এর শামিল। তাই উক্ত নির্বাচন কর্মকর্তাকে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ১২(১) অনুযায়ী সরকারি চাকুরী হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালিন সময়ে নির্বাচন কর্মকর্তা প্রচলিত বিধি মোতাবেক শুধুমাত্র খোরাকি ভাতা প্রাপ্য হবেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে উঠা নানা অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তদন্তকালে। ওই তদন্ত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়।

তিনি আরো জানান, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি, লিখিত আদেশ এখনও আমার হাতে এসে পৌঁছায়নি।