মাহবুব পিয়াল,ফরিদপুর : ফরিদপুর শহরের বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ধলার মোড় এলাকায় বেড়ে উঠেছে মাদক ও ছিনতাই চক্র—এমন অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, একটি রেস্টুরেন্টকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পদ্মাপাড়ের ধলার মোড়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও যুবসমাজের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, সন্ধ্যার পর থেকেই পুরো এলাকা অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। রাত বারোটার পর ওই রেস্টুরেন্ট দেখা যায় লোকজন, লেনদেন হয় মাদক বেচাকেনার। এমনকি এই এলাকায় পথচারী, ঘুরতে আসা তরুণ-তরুণী ও পরিবার নিয়ে আসা লোকজনও ছিনতাই ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাগর মৃধা বলেন, “একসময় ধলার মোড় ছিল মানুষের বিনোদনের জায়গা। এখন মাদক আর ছিনতাইয়ের কারণে মানুষ এখানে আসতেই ভয় পায়। পরিস্থিতি এমন হলে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাপনও কঠিন হয়ে যাবে।”
স্থানীয় যুবদলনেতা মাদক ও সন্ত্রাস র্নিমুলে সাহসী কন্ঠ রুবেল হোসেন দুলাল বলেন, “একটি গোষ্ঠীর কারণে তিনটি গ্রামের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে একটি রেস্টুরেন্ট- যার নাম খানাঘাট। তিনি আরো বলেন, ফরিদপুর সদর ৩ আসনের এমপি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে। এবং আমরা এলাকাবাসী সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই অপরাধচক্রের সাথে জড়িতদের ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করব।
আরেক বাসিন্দা সিরাজ মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, “এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছে কয়েকজন চিহ্নিত ব্যক্তি। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে এলাকাবাসী আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।”
সম্প্রতি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভুক্তভোগী গাড়িচালক ফরহাদ অভিযোগ করেন, যাত্রীদের হয়রানির প্রতিবাদ করায় তিনি এখন প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন। ফলে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এসময় মানববন্ধনে ভিপি রেজা, আদনান খান,বাবুল মৃধা,সালাম মৃধা,এস এম নাদিম ,লিয়াকত হোসেন, মতিয়ার রহমান, বিল্লাল শেখ, রাজ্জাক শেখ, মোঃ রাসেল শেষ, আনোয়ার হোসেন সহ স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত খানাঘাট রেস্টুরেন্ট মালিক চপল। তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কেউ যদি অন্যায়ের প্রমাণ দিতে পারে, আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে তা মেনে নেব।”
মাহবুব পিয়াল 


















