ঢাকা ০২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও খলিলুর রহমানের মতবিনিময় সংঘাতের সমাধান না হলে তিনি ইরানকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারেন: ট্রাম্প পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রাতরাশে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ নিয়ে নতুন বার্তা, কবে কোথায় আঘাত হানতে পারে আঘাত? সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন চালু, বিশ্ববাজারে কমলো দাম সেপ্টেম্বরের প্রথম ২১ দিনে দেশে ২.০৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠালেন প্রবাসীরা ফরিদপুরের সালথায় ‎বিএনপি কর্মী হত্যা : জামিনে এসে বাদী ও স্বাক্ষীদের হুমকি, বিচারের দাবিতে তিন মাসের সন্তান কোলে নিয়ে আদালতে চত্বরে নিহতের স্ত্রী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাড়ল বাসভাড়া

ফরিদপুর: ডিসি’র স্বাক্ষর জাল! বিপাকে প্রধান শিক্ষক

ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী মহল্লায় অবস্থিত আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) স্বাক্ষর জাল করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘এডহক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সভাপতি মনোনয়ন প্রসঙ্গে’ শীর্ষক একটি চিঠিতে তিনি ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লার স্ক্যান করা স্বাক্ষর (যা  কার্যত জাল) ব্যবহার করেছেন বলে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসক এই ঘটনা জানার পর তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (এডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা থেকে গত ৮ সেপ্টেম্বর চিঠি আসে যে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এডহক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সভাপতি মনোনয়ন বিষয়ক চিঠি পাঠাতে হবে। সেই অনুযায়ী, একটি চিঠি প্রস্তুত করা হয়, কিন্তু ডিসি অসুস্থ থাকায় স্বাক্ষর নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেছেন, তিনি স্বাক্ষর জাল করেননি, স্ক্যান করে বসিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, জেলা প্রশাসক অসুস্থ থাকায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহার সঙ্গে পরামর্শ করেই তিনি ডিসি’র স্বাক্ষর স্ক্যান করে বসিয়েছেন এবং পরে ডিসিকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম ডিসি’র স্বাক্ষর স্ক্যান করার বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুস্মিতা সাহার পরামর্শ নেওয়ার কথা বললেও, তিনি তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

এডিসি’র বক্তব্য: অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুস্মিতা সাহা বলেন, “আমি কেন ডিসির স্বাক্ষর স্ক্যান করে তাকে বসাতে বলবো? পরে জানতে পারি, ঢাকা বোর্ডে পাঠানো এডহক কমিটির সুপারিশপত্রে জেলা প্রশাসকের স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সহকারী কমিশনারের বক্তব্য: জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা) নাজমুন নাহান নাঈমও জানান, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কেবল মৌখিকভাবে সময়সীমা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, এর বাইরে তার সঙ্গে আর কোনো কথা হয়নি।

নিজের স্বাক্ষর জাল হওয়ার বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ডিসি বলেন, “আমার স্বাক্ষর জাল করার বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা ও আইসিটি) নির্দেশ দিয়েছি।”

ডিসি আরও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও খলিলুর রহমানের মতবিনিময়

ফরিদপুর: ডিসি’র স্বাক্ষর জাল! বিপাকে প্রধান শিক্ষক

Update Time : ০৯:২০:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী মহল্লায় অবস্থিত আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) স্বাক্ষর জাল করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘এডহক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সভাপতি মনোনয়ন প্রসঙ্গে’ শীর্ষক একটি চিঠিতে তিনি ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লার স্ক্যান করা স্বাক্ষর (যা  কার্যত জাল) ব্যবহার করেছেন বলে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসক এই ঘটনা জানার পর তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (এডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা থেকে গত ৮ সেপ্টেম্বর চিঠি আসে যে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এডহক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সভাপতি মনোনয়ন বিষয়ক চিঠি পাঠাতে হবে। সেই অনুযায়ী, একটি চিঠি প্রস্তুত করা হয়, কিন্তু ডিসি অসুস্থ থাকায় স্বাক্ষর নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেছেন, তিনি স্বাক্ষর জাল করেননি, স্ক্যান করে বসিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, জেলা প্রশাসক অসুস্থ থাকায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহার সঙ্গে পরামর্শ করেই তিনি ডিসি’র স্বাক্ষর স্ক্যান করে বসিয়েছেন এবং পরে ডিসিকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম ডিসি’র স্বাক্ষর স্ক্যান করার বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুস্মিতা সাহার পরামর্শ নেওয়ার কথা বললেও, তিনি তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

এডিসি’র বক্তব্য: অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুস্মিতা সাহা বলেন, “আমি কেন ডিসির স্বাক্ষর স্ক্যান করে তাকে বসাতে বলবো? পরে জানতে পারি, ঢাকা বোর্ডে পাঠানো এডহক কমিটির সুপারিশপত্রে জেলা প্রশাসকের স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সহকারী কমিশনারের বক্তব্য: জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা) নাজমুন নাহান নাঈমও জানান, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কেবল মৌখিকভাবে সময়সীমা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, এর বাইরে তার সঙ্গে আর কোনো কথা হয়নি।

নিজের স্বাক্ষর জাল হওয়ার বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ডিসি বলেন, “আমার স্বাক্ষর জাল করার বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা ও আইসিটি) নির্দেশ দিয়েছি।”

ডিসি আরও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।