ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল: হোয়াইট হাউস ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র অধিকৃত পশ্চিম তীরের গাজার মতো সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান ইসরায়েলি নিরাপত্তামন্ত্রী কে হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি আগামী রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের দল নয়, আমরা মানুষ আমাদেরও ভুল ত্রুটি হয়: শফিকুর রহমান পদত্যাগপত্রে কি লিখেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

ফেরেনি একজন রোহিঙ্গাও, চুক্তির পর পার হয়েছে ৩ বছর

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৪:৫৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০
  • ৪০৩ Time View

২০১৭ সালে আচমকা রোহিঙ্গা ঢলের আড়াই মাসের মাথায় মিয়ানমারের সঙ্গে সই হওয়া বহুল আলোচিত প্রত্যাবাসন চুক্তির (অ্যারেঞ্জমেন্ট) ৩ বছর পূর্ণ হয়েছে গত সোমবার।

চুক্তিটির বাস্তবায়ন অর্থাৎ বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ মিয়ানমার নাগরিককে পর্যায়ক্রমে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে ঢাকার বহুমুখী প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আজ অবধি একজনকেও ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। বিদ্যমান করোনা মহামারি আর মিয়ানমারের সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলে প্রত্যাবাসনে চীনের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার আলোচনাও থমকে গেছে।

রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে জাতিগতভাবে নির্মূল চেষ্টায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বর্মী সেনা এবং তাদের দোসররা  নারী-শিশু নির্বিচারে রাখাইনে যে গণহত্যা চালিয়েছিল তাতে বিশ্বমানবতা যখন প্রতিবাদমুখর সেই সময়ে অর্থাৎ ২০১৭ সালে ২৩শে নভেম্বর বৈশ্বিক উদ্বেগকে প্রশমিত করার কৌশল হিসেবে সুচি সরকার সংকট নিরসনের স্পষ্ট অঙ্গীকার বা প্রত্যাবাসন শেষ হওয়ার সময়সীমা না দিয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে আচমকা দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করে বসে। যদিও তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তথা ঢাকার প্রতিনিধিদের অতি উৎসাহকে তড়িঘড়ি ওই চুক্তির জন্য অনেকে দায়ী করে সমালোচনায় মুখর হয়েছিলেন। ৩ বছরের অপেক্ষার পর আজ এ নিয়ে সেগুনবাগিচার পরিবর্তিত নেতৃত্ব কোনোরকম রাখ-ঢাক ছাড়াই হরহামেশা হতাশা ব্যক্ত করে চলেছেন। আর বোদ্ধা কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা তো বরাবরই বলছেন, যে যুক্তিতেই হোক না কেন সেই সময়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ আর প্রতিবাদকে এড়ানোর বর্মী কৌশল বা ফাঁদে পা দেয়া ঠিক হয়নি! প্রত্যাবাসন চুক্তির ৩ বছরপূর্তির মুহূর্তে ঢাকায় নবনিযুক্ত ৩ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে গতকাল এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এতো কিছুর পরও একজন রোহিঙ্গাকে ফেরাতে না পারার ব্যর্থতায় চরম হতাশা ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ ফন লিনদে, স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো দি ওসিস বেনেতিজ সালাস এবং নরওয়ের রাষ্ট্রদূত অ্যাসপেন রিকতার সেভেন্দসেনের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে বলেন, রোহিঙ্গা ঢলের তিন বছরের বেশি সময়েও একজন রোহিঙ্গা ফেরত যায়নি। কারণ মিয়ানমার তাদের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের স্বভূমে ফেরার পরিবেশ এখন পর্যন্ত তৈরি করেনি।

এ সময় তিন রাষ্ট্রদূত সমস্বরে রোহিঙ্গাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষত ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আশ্রয় প্রদানের জন্য ৩ দূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবেন বলে মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন। সে সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোমেন বিদ্যমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তড়িৎ পদক্ষেপ কামনা করেন। এ বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের আর দেরি না করে এখনই পদক্ষেপ নেয়া জরুরি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের ওপর বিশ্ব সম্প্রদায়ের এমন চাপ বাড়াতে হবে, যাতে তারা বাধ্য হয় বাংলাদেশে অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা তাদের বাস্তুচ্যুত ওই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ঘরে ফেরাতে। ঢাকা চায় মিয়ানমার সরকার রাখাইনে প্রত্যাবাসনের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করুক যাতে তাদের নাগরিকরা নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং স্থায়ীভাবে সেখানে ফেরত যায়।

Tag :
জনপ্রিয়

দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে

ফেরেনি একজন রোহিঙ্গাও, চুক্তির পর পার হয়েছে ৩ বছর

Update Time : ০৪:৫৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০

২০১৭ সালে আচমকা রোহিঙ্গা ঢলের আড়াই মাসের মাথায় মিয়ানমারের সঙ্গে সই হওয়া বহুল আলোচিত প্রত্যাবাসন চুক্তির (অ্যারেঞ্জমেন্ট) ৩ বছর পূর্ণ হয়েছে গত সোমবার।

চুক্তিটির বাস্তবায়ন অর্থাৎ বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ মিয়ানমার নাগরিককে পর্যায়ক্রমে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে ঢাকার বহুমুখী প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আজ অবধি একজনকেও ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। বিদ্যমান করোনা মহামারি আর মিয়ানমারের সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলে প্রত্যাবাসনে চীনের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার আলোচনাও থমকে গেছে।

রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে জাতিগতভাবে নির্মূল চেষ্টায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বর্মী সেনা এবং তাদের দোসররা  নারী-শিশু নির্বিচারে রাখাইনে যে গণহত্যা চালিয়েছিল তাতে বিশ্বমানবতা যখন প্রতিবাদমুখর সেই সময়ে অর্থাৎ ২০১৭ সালে ২৩শে নভেম্বর বৈশ্বিক উদ্বেগকে প্রশমিত করার কৌশল হিসেবে সুচি সরকার সংকট নিরসনের স্পষ্ট অঙ্গীকার বা প্রত্যাবাসন শেষ হওয়ার সময়সীমা না দিয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে আচমকা দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করে বসে। যদিও তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তথা ঢাকার প্রতিনিধিদের অতি উৎসাহকে তড়িঘড়ি ওই চুক্তির জন্য অনেকে দায়ী করে সমালোচনায় মুখর হয়েছিলেন। ৩ বছরের অপেক্ষার পর আজ এ নিয়ে সেগুনবাগিচার পরিবর্তিত নেতৃত্ব কোনোরকম রাখ-ঢাক ছাড়াই হরহামেশা হতাশা ব্যক্ত করে চলেছেন। আর বোদ্ধা কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা তো বরাবরই বলছেন, যে যুক্তিতেই হোক না কেন সেই সময়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ আর প্রতিবাদকে এড়ানোর বর্মী কৌশল বা ফাঁদে পা দেয়া ঠিক হয়নি! প্রত্যাবাসন চুক্তির ৩ বছরপূর্তির মুহূর্তে ঢাকায় নবনিযুক্ত ৩ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে গতকাল এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এতো কিছুর পরও একজন রোহিঙ্গাকে ফেরাতে না পারার ব্যর্থতায় চরম হতাশা ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ ফন লিনদে, স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো দি ওসিস বেনেতিজ সালাস এবং নরওয়ের রাষ্ট্রদূত অ্যাসপেন রিকতার সেভেন্দসেনের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে বলেন, রোহিঙ্গা ঢলের তিন বছরের বেশি সময়েও একজন রোহিঙ্গা ফেরত যায়নি। কারণ মিয়ানমার তাদের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের স্বভূমে ফেরার পরিবেশ এখন পর্যন্ত তৈরি করেনি।

এ সময় তিন রাষ্ট্রদূত সমস্বরে রোহিঙ্গাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষত ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আশ্রয় প্রদানের জন্য ৩ দূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবেন বলে মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন। সে সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোমেন বিদ্যমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তড়িৎ পদক্ষেপ কামনা করেন। এ বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের আর দেরি না করে এখনই পদক্ষেপ নেয়া জরুরি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের ওপর বিশ্ব সম্প্রদায়ের এমন চাপ বাড়াতে হবে, যাতে তারা বাধ্য হয় বাংলাদেশে অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা তাদের বাস্তুচ্যুত ওই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ঘরে ফেরাতে। ঢাকা চায় মিয়ানমার সরকার রাখাইনে প্রত্যাবাসনের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করুক যাতে তাদের নাগরিকরা নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং স্থায়ীভাবে সেখানে ফেরত যায়।