ঢাকা ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
‘ফেসবুক থেকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করতে আইন সংশোধন হচ্ছে’ ফরিদপুরে বিসিআইসি বাফার গুদামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন চৌধুরী নায়াব ইউসুফ নয়া দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪ দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন শুরু দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে একদিনে ৮ শিশুর মৃত্যু প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে চার নতুন বিষয় হামে শিশু মৃত্যু: ইউনূস ও নূর জাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেননি আদালত হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ইরান থেকে নতুন করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের ভূখণ্ডের দিকে শনাক্ত: : আইডিএফ রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ব্যারেলপ্রতি তিন ডলারেরও বেশি বেড়ে গেছে

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম ইসলাম

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম ইসলাম। — সম্প্রতি পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘গ্লোবাল রিলিজিয়াস ল্যান্ডস্কেপ’ শিরোনামের এই গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ইসলাম ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৫ কোটি, যা খ্রিষ্টানসহ অন্য সব ধর্মের সম্মিলিত বৃদ্ধির তুলনায় বেশি।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ইসলামের এই প্রবৃদ্ধির মূল কারণ ধর্মান্তর নয়, বরং প্রাকৃতিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি। মুসলিমরা গড়পড়তা হিসাবে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের চেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দেন এবং তাদের গড় বয়সও কম।

২০১৫ থেকে ২০২০ সময়কালে একজন মুসলিম নারীর গড় সন্তান সংখ্যা ছিল ২ দশমিক ৯, যেখানে অমুসলিম নারীদের ক্ষেত্রে এর হার ২ দশমিক ২।

খ্রিষ্টানদের সংখ্যা কমছে

পিউ রিসার্চের গবেষণা অনুযায়ী, খ্রিষ্টানরা এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় গোষ্ঠী — মোট ২৩০ কোটি। তবে গত এক দশকে এই সংখ্যা প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রতি একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যিনি খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন, তার বিপরীতে তিনজন খ্রিষ্টধর্ম ছেড়েছেন।

অন্যদিকে, ধর্মনিরপেক্ষ বা কোনো ধর্মে অবিশ্বাসীদের সংখ্যা এই সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে — যুক্তরাষ্ট্রে এই হার ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত। বিশ্বব্যাপী এখন প্রায় ২০০ কোটি মানুষ নিজেদের ধর্মহীন বলে দাবি করেন।

অঞ্চলভিত্তিক পরিবর্তন

ইসলামের অনুসারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতেই। তবে কাজাখস্তান, বেনিন এবং লেবাননে ইসলাম ধর্মের অনুপাত সবচেয়ে বেশি হারে বেড়েছে। অন্যদিকে ওমান ও তানজানিয়ায় মুসলিমদের অনুপাত কমেছে।

অন্য ধর্মগুলোর অবস্থা

হিন্দু: অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২০ কোটি। তবে বিশ্ব জনসংখ্যায় তাদের অনুপাত অপরিবর্তিত রয়েছে।
বৌদ্ধ: একমাত্র প্রধান ধর্ম হিসেবে এই ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ। বিশ্ব জনসংখ্যায় তাদের অংশ ৫ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ৪ শতাংশে।
ইহুদি: সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, বর্তমানে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ০.২ শতাংশ ইহুদি।
শিখ, বাহাইসহ অন্যান্য ধর্ম: মোট প্রায় ২০ কোটি মানুষ এসব ধর্মের অনুসারী, যা বিশ্বের ২ দশমিক ২ শতাংশ।

ধর্মান্তরের প্রবণতা

গবেষণার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ধর্মান্তরের হার। ইসলাম একমাত্র ধর্ম যেখানে যারা নতুনভাবে ধর্ম গ্রহণ করেছেন, তাদের সংখ্যা ধর্মত্যাগী মানুষের সংখ্যার চেয়ে বেশি। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মে ঠিক বিপরীত প্রবণতা দেখা গেছে।

ইসলাম ধর্ম ব্যবধান কমাচ্ছে দ্রুত

পিউ রিসার্চের এই সমীক্ষা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, বিশ্বে ধর্মীয় ভূচিত্র ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। যদিও খ্রিষ্টধর্ম এখনো শীর্ষে রয়েছে, ইসলাম দ্রুত সেই ব্যবধান কমিয়ে আনছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি, গড় বয়স এবং জন্মহার—এই উপাদানগুলো ইসলাম ধর্মের বিস্তারে মূল ভূমিকা রাখছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Tag :

‘ফেসবুক থেকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করতে আইন সংশোধন হচ্ছে’

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম ইসলাম

Update Time : ০২:৩৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম ইসলাম। — সম্প্রতি পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘গ্লোবাল রিলিজিয়াস ল্যান্ডস্কেপ’ শিরোনামের এই গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ইসলাম ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৫ কোটি, যা খ্রিষ্টানসহ অন্য সব ধর্মের সম্মিলিত বৃদ্ধির তুলনায় বেশি।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ইসলামের এই প্রবৃদ্ধির মূল কারণ ধর্মান্তর নয়, বরং প্রাকৃতিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি। মুসলিমরা গড়পড়তা হিসাবে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের চেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দেন এবং তাদের গড় বয়সও কম।

২০১৫ থেকে ২০২০ সময়কালে একজন মুসলিম নারীর গড় সন্তান সংখ্যা ছিল ২ দশমিক ৯, যেখানে অমুসলিম নারীদের ক্ষেত্রে এর হার ২ দশমিক ২।

খ্রিষ্টানদের সংখ্যা কমছে

পিউ রিসার্চের গবেষণা অনুযায়ী, খ্রিষ্টানরা এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় গোষ্ঠী — মোট ২৩০ কোটি। তবে গত এক দশকে এই সংখ্যা প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রতি একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যিনি খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন, তার বিপরীতে তিনজন খ্রিষ্টধর্ম ছেড়েছেন।

অন্যদিকে, ধর্মনিরপেক্ষ বা কোনো ধর্মে অবিশ্বাসীদের সংখ্যা এই সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে — যুক্তরাষ্ট্রে এই হার ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত। বিশ্বব্যাপী এখন প্রায় ২০০ কোটি মানুষ নিজেদের ধর্মহীন বলে দাবি করেন।

অঞ্চলভিত্তিক পরিবর্তন

ইসলামের অনুসারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতেই। তবে কাজাখস্তান, বেনিন এবং লেবাননে ইসলাম ধর্মের অনুপাত সবচেয়ে বেশি হারে বেড়েছে। অন্যদিকে ওমান ও তানজানিয়ায় মুসলিমদের অনুপাত কমেছে।

অন্য ধর্মগুলোর অবস্থা

হিন্দু: অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২০ কোটি। তবে বিশ্ব জনসংখ্যায় তাদের অনুপাত অপরিবর্তিত রয়েছে।
বৌদ্ধ: একমাত্র প্রধান ধর্ম হিসেবে এই ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ। বিশ্ব জনসংখ্যায় তাদের অংশ ৫ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ৪ শতাংশে।
ইহুদি: সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, বর্তমানে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ০.২ শতাংশ ইহুদি।
শিখ, বাহাইসহ অন্যান্য ধর্ম: মোট প্রায় ২০ কোটি মানুষ এসব ধর্মের অনুসারী, যা বিশ্বের ২ দশমিক ২ শতাংশ।

ধর্মান্তরের প্রবণতা

গবেষণার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ধর্মান্তরের হার। ইসলাম একমাত্র ধর্ম যেখানে যারা নতুনভাবে ধর্ম গ্রহণ করেছেন, তাদের সংখ্যা ধর্মত্যাগী মানুষের সংখ্যার চেয়ে বেশি। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মে ঠিক বিপরীত প্রবণতা দেখা গেছে।

ইসলাম ধর্ম ব্যবধান কমাচ্ছে দ্রুত

পিউ রিসার্চের এই সমীক্ষা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, বিশ্বে ধর্মীয় ভূচিত্র ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। যদিও খ্রিষ্টধর্ম এখনো শীর্ষে রয়েছে, ইসলাম দ্রুত সেই ব্যবধান কমিয়ে আনছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি, গড় বয়স এবং জন্মহার—এই উপাদানগুলো ইসলাম ধর্মের বিস্তারে মূল ভূমিকা রাখছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই