ঢাকা ১০:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
মধ্যরাতে ভিডিও বার্তায় মোদীর প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা ইরানের বিরুদ্ধে টানা ১৩তম রাতের সামরিক অভিযান সম্পন্ন, বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা এক নজরে বিশ্ব সংবাদ: ২৩ জুলাই ২০২৬ আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৪ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুরে ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকির হত্যার আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আন্দোলন কতদিন চলবে, যা বলছে ককরোচ পার্টি

বেগম খালেদা জিয়ার পরিপাকতন্ত্রের ‘রক্তক্ষরণ’ বন্ধে তাকে বিদেশে নেয়া অতি জরুরি: বিএনপির মহাসচিব

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিপাকতন্ত্রের ‘রক্তক্ষরণ’ বন্ধে তাকে বিদেশে নেয়া অতি জরুরি বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যে সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে দলের মহাসচিব একথা জানান। তিনি বলেন, ‘এখানে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার যে অসুখ সেই অসুখটা হচ্ছে প্রধানত তার পরিপাকতন্ত্রে। তার (খালেদা জিয়া) অনেক অসুখ। এখন যেটা তার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে সেটা হচ্ছে, তার পরিপাকতন্ত্র থেকে যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে তা বন্ধ করা।

তিনি বলেন, এখন ঠিক কোন জায়গায় তার রক্তপাত হচ্ছে এটা বের করার জন্যে আমাদের ডাক্তাররা, গত কয়েকদিন ধরে তারা বিভিন্ন রকম কাজ করছেন।বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ডাক্তার তারা। চিকিৎসার যে পদ্ধতি আছে, সেই পদ্ধতিতে তারা কাজ করেছেন। কিন্তু একটা জায়গায় এসে তারা এগুতে পারছেন না। কারণ আর সেই ধরনের কোনো টেকনোলজি বাংলাদেশে নাই। যে কারণে ডাক্তারা (শ্রেষ্ঠ ডাক্তাররা) বারবার বলছেন, তাকে (খালেদা জিয়া) একটা এডভান্স সেন্টারে নেয়া দরকার যেখানে এই টেকনোলজিগুলো আছে, যেখানে গেলে তার যে রোগ, সেই রোগের জায়গাটা তারা যাতে ধরতে পারেন।

সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে নব্বইয়ের ডাকুস ও ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে ডা. শামসুল আলমের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে মন্ত্রীদের বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুর্ভাগ্যের ব্যাপার যে, আমাদের দেশে যারা সরকারি দলের রাজনীতি করছেন তাদের ন্যুনতম রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার নেই্, তাদের মানবিক বোধও নেই। আর নিজের সম্পর্কে তাদের এতো বেশি দাম্ভিকতা যে তারা যেকেনো ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে কটুক্তি করতে তারা এতটুকু দ্বিধা করেন না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারা একবারও মনে করেন না যে, খালেদা জিয়া হচ্ছেন সেই মহিয়শী নারী যিনি ১৯৭১ সালে তার স্বামী যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন তার শিশু পুত্রকে হাতে ধরে তিনি পালিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন। সেখানে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে ক্যান্টমেন্টের কারাগারে ছিলেন।

পরিবর্তীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে স্বৈরাচারি বিরোধী আন্দোলন গৃহবধু থেকে খালেদা জিয়া রাজনীতিতে যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তার তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘সব কিছু ভুলে যায় তারা। ১/১১ তে যখন শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হলেন তখন এই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার মুক্তির জন্যে বিবৃতি দিয়েছিলেন। গণতন্ত্রের বিশ্বাস করা এমন একজন নেত্রী আজকে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। কেনো দিচ্ছেন সবাই আমরা বুঝি, কেনো দিচ্ছেন সবাই জানে।

তিনি বলেন,বাংলাদেশে এখন একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। এটা শুরু হয়েছে ১/১১ থেকে। ১/১১ থেকে বিরাজনীতিকরণের চক্রান্ত শুরু হয়েছে। তারই পরিণতি হিসেবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও ফজলুল হক মিলনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় সাবেক ছাত্র নেতা শামসুজ্জামান দুদু, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, নাজিম উদ্দিন আলম, জহির উদ্দিন স্বপন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, খন্দকার লুতফুর রহমান, সাইফুদ্দিন মনি, আসাদুর রহমান খান আসাদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, শিরিন সুলতানা, আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আমিরুল ইসলাম আলিম, শহিদুল ইসলাম বাবুল, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ড্যাব) অধ্যাপক হারুন আল রশিদ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

Tag :
জনপ্রিয়

মধ্যরাতে ভিডিও বার্তায় মোদীর প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা

বেগম খালেদা জিয়ার পরিপাকতন্ত্রের ‘রক্তক্ষরণ’ বন্ধে তাকে বিদেশে নেয়া অতি জরুরি: বিএনপির মহাসচিব

Update Time : ১২:৪০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিপাকতন্ত্রের ‘রক্তক্ষরণ’ বন্ধে তাকে বিদেশে নেয়া অতি জরুরি বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যে সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে দলের মহাসচিব একথা জানান। তিনি বলেন, ‘এখানে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার যে অসুখ সেই অসুখটা হচ্ছে প্রধানত তার পরিপাকতন্ত্রে। তার (খালেদা জিয়া) অনেক অসুখ। এখন যেটা তার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে সেটা হচ্ছে, তার পরিপাকতন্ত্র থেকে যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে তা বন্ধ করা।

তিনি বলেন, এখন ঠিক কোন জায়গায় তার রক্তপাত হচ্ছে এটা বের করার জন্যে আমাদের ডাক্তাররা, গত কয়েকদিন ধরে তারা বিভিন্ন রকম কাজ করছেন।বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ডাক্তার তারা। চিকিৎসার যে পদ্ধতি আছে, সেই পদ্ধতিতে তারা কাজ করেছেন। কিন্তু একটা জায়গায় এসে তারা এগুতে পারছেন না। কারণ আর সেই ধরনের কোনো টেকনোলজি বাংলাদেশে নাই। যে কারণে ডাক্তারা (শ্রেষ্ঠ ডাক্তাররা) বারবার বলছেন, তাকে (খালেদা জিয়া) একটা এডভান্স সেন্টারে নেয়া দরকার যেখানে এই টেকনোলজিগুলো আছে, যেখানে গেলে তার যে রোগ, সেই রোগের জায়গাটা তারা যাতে ধরতে পারেন।

সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে নব্বইয়ের ডাকুস ও ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে ডা. শামসুল আলমের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে মন্ত্রীদের বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুর্ভাগ্যের ব্যাপার যে, আমাদের দেশে যারা সরকারি দলের রাজনীতি করছেন তাদের ন্যুনতম রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার নেই্, তাদের মানবিক বোধও নেই। আর নিজের সম্পর্কে তাদের এতো বেশি দাম্ভিকতা যে তারা যেকেনো ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে কটুক্তি করতে তারা এতটুকু দ্বিধা করেন না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারা একবারও মনে করেন না যে, খালেদা জিয়া হচ্ছেন সেই মহিয়শী নারী যিনি ১৯৭১ সালে তার স্বামী যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন তার শিশু পুত্রকে হাতে ধরে তিনি পালিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন। সেখানে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে ক্যান্টমেন্টের কারাগারে ছিলেন।

পরিবর্তীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে স্বৈরাচারি বিরোধী আন্দোলন গৃহবধু থেকে খালেদা জিয়া রাজনীতিতে যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তার তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘সব কিছু ভুলে যায় তারা। ১/১১ তে যখন শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হলেন তখন এই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার মুক্তির জন্যে বিবৃতি দিয়েছিলেন। গণতন্ত্রের বিশ্বাস করা এমন একজন নেত্রী আজকে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। কেনো দিচ্ছেন সবাই আমরা বুঝি, কেনো দিচ্ছেন সবাই জানে।

তিনি বলেন,বাংলাদেশে এখন একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। এটা শুরু হয়েছে ১/১১ থেকে। ১/১১ থেকে বিরাজনীতিকরণের চক্রান্ত শুরু হয়েছে। তারই পরিণতি হিসেবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও ফজলুল হক মিলনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় সাবেক ছাত্র নেতা শামসুজ্জামান দুদু, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, নাজিম উদ্দিন আলম, জহির উদ্দিন স্বপন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, খন্দকার লুতফুর রহমান, সাইফুদ্দিন মনি, আসাদুর রহমান খান আসাদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, শিরিন সুলতানা, আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আমিরুল ইসলাম আলিম, শহিদুল ইসলাম বাবুল, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ড্যাব) অধ্যাপক হারুন আল রশিদ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।