ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হতে কোনো সমস্যা নেই: ইরানের রাষ্ট্রদূত আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ফরিদপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ডাঃ মোহাম্মদ জাহেদ এর ৩৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল বুধবার আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন লিওনেল মেসি মন্ত্রিসভায় নবম পে-স্কেল প্রস্তাব অনুমোদন, গ্রেডভেদে বাড়বে ১০০–১৪২ শতাংশ নতুন পে-স্কেলের সুপারিশ করতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়, বেতন বাড়বে ৪ ধাপে দেশে স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন

মুক্তিপণ পাওয়ার পরই জলদস্যুরা জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে ২৩ নাবিকসহ মুক্তি দিয়েছে: মালিক পক্ষ

মুক্তিপণ পাওয়ার পরই জলদস্যুরা জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে ২৩ নাবিকসহ মুক্তি দিয়েছে। মুক্তিপণের অর্থ বুঝে পেয়ে ৯টি ছোট নৌকায় করে জাহাজটি ছেড়ে যায় ৬৫ জন জলদস্যু। তবে নাবিকরা সুস্থ আছেন।

আজ রবিবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে জাহাজটির মালিকপক্ষ শিল্পগ্রুপ কেএসআরএমের প্রধান কার্যলয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

কেএসআরএমের জাহাজ চলাচলবিষয়ক কোম্পানি এসআর শিপিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেরুন করিম সংবাদ সম্মেলনে কত টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে, তা জানাতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম প্রায়োরিটি (প্রাধান্য) ছিল নাবিকদের সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। এই কারণে আমরা অনেক দেশের নিয়ম মেনে উদ্ধার প্রক্রিয়া চালিয়েছি।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাহাজে অবস্থান করছিলেন ৬৫ জন জলদস্যু। উড়োজাহাজ থেকে মুক্তিপণের ডলার ফেলার পর তারা গুনে নিয়ে ৯টি বোটে করে জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ছেড়ে যায়। মুক্তিপণ ফেলার আগে জিম্মি ২৩ নাবিক সুস্থ আছেন কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ভিডিওচিত্র সংগ্রহ করে এসআর শিপিং। ভিডিওচিত্রে সবাইকে সুস্থ দেখার পরই মুক্তিপণ দেওয়া হয় তাদের।

মোজাম্বিকের মাপুতো থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আসার পথে এক মাস আগে এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি দখলে নেয় জলদস্যুরা। জাহাজটি ওই সময় সোমালিয়ার উপকূল থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে ছিল।

জাহাজে থাকা নাবিকরা হলেন—জাহাজের মাস্টার মোহাম্মদ আবদুর রশিদ, চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খান, সেকেন্ড অফিসার মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, থার্ড অফিসার এন মোহাম্মদ তারেকুল ইসলাম, ডেক ক্যাডেট সাব্বির হোসাইন, চিফ ইঞ্জিনিয়ার এ এস এম সাইদুজ্জামান, সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. তৌফিকুল ইসলাম, থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. রোকন উদ্দিন, ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার তানভীর আহমেদ, ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খান, ইলেকট্রিশিয়ান ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ এবং ক্রু মো. আনোয়ারুল হক, মো. আসিফুর রহমান, মো. সাজ্জাদ হোসেন, জয় মাহমুদ, মো. নাজমুল হক, আইনুল হক, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, মো. আলী হোসেন, মোশাররফ হোসেন শাকিল, মো. শরিফুল ইসলাম, মো. নুর উদ্দিন ও মো. সালেহ আহমদ।

২৩ নাবিকদের মধ্যে ১১ জন চট্টগ্রামের ও দুজন নোয়াখালীর। বাকি ১০ জনের বাড়ি ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, খুলনা, নেত্রকোনা, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও বরিশালে। ৩১ দিন পর মুক্তি পেলেন তারা।

এর আগে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে আরব সাগরে সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল কেএসআরএমের মালিকানাধীন বাংলাদেশি আরেক জাহাজ ‘জাহান মণি’। ওই সময় জাহাজের ২৫ নাবিক এবং প্রধান প্রকৌশলীর স্ত্রীকে জিম্মি করা হয়েছিল। নানাভাবে চেষ্টা করে ১০০ দিন পর জলদস্যুদের কবল থেকে তাদের মুক্ত করা সম্ভব হয়।

Tag :

আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

মুক্তিপণ পাওয়ার পরই জলদস্যুরা জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে ২৩ নাবিকসহ মুক্তি দিয়েছে: মালিক পক্ষ

Update Time : ১১:২৪:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

মুক্তিপণ পাওয়ার পরই জলদস্যুরা জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে ২৩ নাবিকসহ মুক্তি দিয়েছে। মুক্তিপণের অর্থ বুঝে পেয়ে ৯টি ছোট নৌকায় করে জাহাজটি ছেড়ে যায় ৬৫ জন জলদস্যু। তবে নাবিকরা সুস্থ আছেন।

আজ রবিবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে জাহাজটির মালিকপক্ষ শিল্পগ্রুপ কেএসআরএমের প্রধান কার্যলয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

কেএসআরএমের জাহাজ চলাচলবিষয়ক কোম্পানি এসআর শিপিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেরুন করিম সংবাদ সম্মেলনে কত টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে, তা জানাতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম প্রায়োরিটি (প্রাধান্য) ছিল নাবিকদের সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। এই কারণে আমরা অনেক দেশের নিয়ম মেনে উদ্ধার প্রক্রিয়া চালিয়েছি।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাহাজে অবস্থান করছিলেন ৬৫ জন জলদস্যু। উড়োজাহাজ থেকে মুক্তিপণের ডলার ফেলার পর তারা গুনে নিয়ে ৯টি বোটে করে জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ছেড়ে যায়। মুক্তিপণ ফেলার আগে জিম্মি ২৩ নাবিক সুস্থ আছেন কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ভিডিওচিত্র সংগ্রহ করে এসআর শিপিং। ভিডিওচিত্রে সবাইকে সুস্থ দেখার পরই মুক্তিপণ দেওয়া হয় তাদের।

মোজাম্বিকের মাপুতো থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আসার পথে এক মাস আগে এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি দখলে নেয় জলদস্যুরা। জাহাজটি ওই সময় সোমালিয়ার উপকূল থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে ছিল।

জাহাজে থাকা নাবিকরা হলেন—জাহাজের মাস্টার মোহাম্মদ আবদুর রশিদ, চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খান, সেকেন্ড অফিসার মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, থার্ড অফিসার এন মোহাম্মদ তারেকুল ইসলাম, ডেক ক্যাডেট সাব্বির হোসাইন, চিফ ইঞ্জিনিয়ার এ এস এম সাইদুজ্জামান, সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. তৌফিকুল ইসলাম, থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. রোকন উদ্দিন, ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার তানভীর আহমেদ, ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খান, ইলেকট্রিশিয়ান ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ এবং ক্রু মো. আনোয়ারুল হক, মো. আসিফুর রহমান, মো. সাজ্জাদ হোসেন, জয় মাহমুদ, মো. নাজমুল হক, আইনুল হক, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, মো. আলী হোসেন, মোশাররফ হোসেন শাকিল, মো. শরিফুল ইসলাম, মো. নুর উদ্দিন ও মো. সালেহ আহমদ।

২৩ নাবিকদের মধ্যে ১১ জন চট্টগ্রামের ও দুজন নোয়াখালীর। বাকি ১০ জনের বাড়ি ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, খুলনা, নেত্রকোনা, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও বরিশালে। ৩১ দিন পর মুক্তি পেলেন তারা।

এর আগে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে আরব সাগরে সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল কেএসআরএমের মালিকানাধীন বাংলাদেশি আরেক জাহাজ ‘জাহান মণি’। ওই সময় জাহাজের ২৫ নাবিক এবং প্রধান প্রকৌশলীর স্ত্রীকে জিম্মি করা হয়েছিল। নানাভাবে চেষ্টা করে ১০০ দিন পর জলদস্যুদের কবল থেকে তাদের মুক্ত করা সম্ভব হয়।