ঢাকা ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাত পোহালে, লকডাউন, চড়া বাজারদর, বিক্রির ধুম

রাত পোহালেই সর্বাত্মক লকডাউন। এক সপ্তাহ বাইরে বের হতে মানা। অকারণে বের হলে গ্রেপ্তারের হুমকিও দেয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। এজন্য বিধিনিষেধ আরোপের আগের দিন রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে ক্রেতারা। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বিক্রি হচ্ছে বাজারে। আর এই সুযোগে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দর বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ বিক্রি কয়েক গুণ বেশি। ক্রেতাদের চাহিদা মাছ ও মাংস থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের প্রতি।

ক্রেতার চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেয়েছেন অনেক বিক্রেতা। যেখানে সন্ধ্যার পরেও মাছ বিক্রি শেষ হয় না সেখানে আজ দুপুর গড়িয়ে বিকাল হতেই মাছের সংকট দেখা গেছে কয়েকটি বাজারে।

মাছ বাজারের মতো একই চিত্র সবজির বাজারে।

খুচরা বাজারেও ভিড় ছিল স্বাভাবিকের কয়েক গুণ। কাঁচা বাজারের তুলনায় ভিড়ের পরিমাণ কিছুটা বেশি দেখা গেছে মাছ এবং মাংসের দোকানে।

বাজারদরের চিত্র

রাত পোহালেই কঠোর বিধিনিষেধ এবং ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদা সব মিলিয়ে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম গত কয়েক দিনের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহজুড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি আজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। ক্রেতাদের এক টাকাও ছাড় দিতে রাজি নন বিক্রেতারা।

আবার কেজি প্রতি ২০ টাকা দাম বাড়লেও ক্রেতার চাহিদা কমেনি, বরং বেড়েছে কয়েক গুণ।

একই অবস্থা সবজির বাজারে। বরবটি, বেগুন, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, ঝিঙে, পটল, দুন্দল সব কিছুরই দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাঝারি আকারের একেকটির লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আদা ১১০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে, ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া রসুন আজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।

পুরো সপ্তাহ ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বুধবার প্রতি কেজি আলুর পেছনে ক্রেতাকে গুনতে হয়েছে ২৫ টাকা।

কেজিতে দুই থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হয়েছে চালের বাজারে। পাইকারি বাজারে চিকন, মোটা সকল চালের দাম বস্তা প্রতি একশো থেকে দুইটা টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যার প্রভাব পরেছে খুচরা বাজারে।

স্থিতিশীল আছে গরুর মাংসের দাম। বিক্রি হচ্ছে আগের মতোই সাড়ে ৫০০ থেকে ৫৮০ টাকা কেজি দরে। তবে লকডাউনের প্রভাবে বুধবার দুপুরের পর বাজারে গিয়ে গরুর মাংস কিনতে পারেননি অনেক ক্রেতা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সকালে গরুর মাংস কিনতে বাজারে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ছিল।

 

Tag :

রাত পোহালে, লকডাউন, চড়া বাজারদর, বিক্রির ধুম

Update Time : ০৩:৫৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুন ২০২১

রাত পোহালেই সর্বাত্মক লকডাউন। এক সপ্তাহ বাইরে বের হতে মানা। অকারণে বের হলে গ্রেপ্তারের হুমকিও দেয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। এজন্য বিধিনিষেধ আরোপের আগের দিন রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে ক্রেতারা। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বিক্রি হচ্ছে বাজারে। আর এই সুযোগে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দর বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ বিক্রি কয়েক গুণ বেশি। ক্রেতাদের চাহিদা মাছ ও মাংস থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের প্রতি।

ক্রেতার চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেয়েছেন অনেক বিক্রেতা। যেখানে সন্ধ্যার পরেও মাছ বিক্রি শেষ হয় না সেখানে আজ দুপুর গড়িয়ে বিকাল হতেই মাছের সংকট দেখা গেছে কয়েকটি বাজারে।

মাছ বাজারের মতো একই চিত্র সবজির বাজারে।

খুচরা বাজারেও ভিড় ছিল স্বাভাবিকের কয়েক গুণ। কাঁচা বাজারের তুলনায় ভিড়ের পরিমাণ কিছুটা বেশি দেখা গেছে মাছ এবং মাংসের দোকানে।

বাজারদরের চিত্র

রাত পোহালেই কঠোর বিধিনিষেধ এবং ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদা সব মিলিয়ে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম গত কয়েক দিনের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহজুড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি আজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। ক্রেতাদের এক টাকাও ছাড় দিতে রাজি নন বিক্রেতারা।

আবার কেজি প্রতি ২০ টাকা দাম বাড়লেও ক্রেতার চাহিদা কমেনি, বরং বেড়েছে কয়েক গুণ।

একই অবস্থা সবজির বাজারে। বরবটি, বেগুন, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, ঝিঙে, পটল, দুন্দল সব কিছুরই দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাঝারি আকারের একেকটির লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আদা ১১০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে, ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া রসুন আজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।

পুরো সপ্তাহ ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বুধবার প্রতি কেজি আলুর পেছনে ক্রেতাকে গুনতে হয়েছে ২৫ টাকা।

কেজিতে দুই থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হয়েছে চালের বাজারে। পাইকারি বাজারে চিকন, মোটা সকল চালের দাম বস্তা প্রতি একশো থেকে দুইটা টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যার প্রভাব পরেছে খুচরা বাজারে।

স্থিতিশীল আছে গরুর মাংসের দাম। বিক্রি হচ্ছে আগের মতোই সাড়ে ৫০০ থেকে ৫৮০ টাকা কেজি দরে। তবে লকডাউনের প্রভাবে বুধবার দুপুরের পর বাজারে গিয়ে গরুর মাংস কিনতে পারেননি অনেক ক্রেতা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সকালে গরুর মাংস কিনতে বাজারে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ছিল।