ঢাকা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লকডাউনে পুলিশ-বিজিবি, প্রয়োজনে সেনাবাহিনী: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন

কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে আগামী সোমবার (২৮ জুন) থেকে সারাদেশে সাতদিনের কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ সময় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

দেশের একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এ কথা বলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘এবারের লকডাউন কঠোর হবে। এটা কার্যকর করতে রাস্তায় থাকবে পুলিশ, বিজিবি। প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হবে।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাজেট সংক্রান্ত যে সকল প্রতিষ্ঠান- যেমন এনবিআর, ব্যাংক এগুলো স্বল্প পরিসরে খোলা থাকবে। বাকি সব বন্ধ থাকবে। জরুরি পণ্যবাহী ব্যতীত সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত যানবাহন চলবে। জরুরি কারণ ছাড়া বাড়ির বাইরে কেউ বের হতে পারবেন না। গণমাধ্যম এর আওতা বহির্ভূত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল প্রজ্ঞাপন জারি। এক সপ্তাহ পর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ মৃত্যুর প্রথম খবর আসে। কয়েক মাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বগতিতে থাকার পর অনেকটা নিয়ন্ত্রণেও চলে আসে। চলতি বছরের শুরুতেও নিয়ন্ত্রণে ছিলো। তখন শনাক্তের হারও ৫ শতাংশের নিচে নেমেছিল। তবে গত মার্চ মাস থেকে মৃত্যু ও শনাক্ত আবার বাড়তে থাকে।

এর মধ্যে গত ১৬ এপ্রিল দেশে দৈনিক মৃত্যু একশো ছাড়ায়। সেদিন ও তার পরদিন ১৭ এপ্রিল ১০১ করে মৃত্যু হয় করোনায়। ১৮ এপ্রিল ১০২ জন ও ১৯ এপ্রিল ১১২ জন মারা যান, যা একদিনে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশে এটাকে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় প্রথমে ২১ এপ্রিল ও পরে তা বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছিল সরকার। এরপর সেটি ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ১৬ জুলাই পর্যন্ত করা ছিলো।

Tag :

লকডাউনে পুলিশ-বিজিবি, প্রয়োজনে সেনাবাহিনী: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন

Update Time : ০৪:৩৮:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১

কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে আগামী সোমবার (২৮ জুন) থেকে সারাদেশে সাতদিনের কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ সময় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

দেশের একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এ কথা বলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘এবারের লকডাউন কঠোর হবে। এটা কার্যকর করতে রাস্তায় থাকবে পুলিশ, বিজিবি। প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হবে।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাজেট সংক্রান্ত যে সকল প্রতিষ্ঠান- যেমন এনবিআর, ব্যাংক এগুলো স্বল্প পরিসরে খোলা থাকবে। বাকি সব বন্ধ থাকবে। জরুরি পণ্যবাহী ব্যতীত সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত যানবাহন চলবে। জরুরি কারণ ছাড়া বাড়ির বাইরে কেউ বের হতে পারবেন না। গণমাধ্যম এর আওতা বহির্ভূত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল প্রজ্ঞাপন জারি। এক সপ্তাহ পর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ মৃত্যুর প্রথম খবর আসে। কয়েক মাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বগতিতে থাকার পর অনেকটা নিয়ন্ত্রণেও চলে আসে। চলতি বছরের শুরুতেও নিয়ন্ত্রণে ছিলো। তখন শনাক্তের হারও ৫ শতাংশের নিচে নেমেছিল। তবে গত মার্চ মাস থেকে মৃত্যু ও শনাক্ত আবার বাড়তে থাকে।

এর মধ্যে গত ১৬ এপ্রিল দেশে দৈনিক মৃত্যু একশো ছাড়ায়। সেদিন ও তার পরদিন ১৭ এপ্রিল ১০১ করে মৃত্যু হয় করোনায়। ১৮ এপ্রিল ১০২ জন ও ১৯ এপ্রিল ১১২ জন মারা যান, যা একদিনে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশে এটাকে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় প্রথমে ২১ এপ্রিল ও পরে তা বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছিল সরকার। এরপর সেটি ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ১৬ জুলাই পর্যন্ত করা ছিলো।