ঢাকা ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে স্কুল-কলেজের ছুটির তালিকা সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন দেশে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩ জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু রামিসার মতো অপ্রতিমের হত্যার বিচারও দ্রুত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুমিল্লায় অপ্রতিমকে যেভাবে হত্যা করা হয়, জানাল পুলিশ বাবা-মায়ের পরে এবার জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশে ১৫৫ জন শিশুকে হত্যা, এখনও নিখোঁজ ২ হাজারের বেশি

শেখ হাসিনা সহ আরও ২৪ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যা

ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকায় ঢাকা মডেল ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফয়জুল ইসলাম রাজনকে হত্যার দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।

বুধবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার সিএমএম আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন নিহতের ভাই মো. রাজিব।

আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

বাদীর আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকায় ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকা মডেল ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ফয়জুল ইসলাম রাজনকে পুলিশ বুকে গুলি করে হত্যা করে। তার চিকিৎসা গ্রহণে বাধা দেয়। সেই সময় আশপাশের অসংখ্য ছাত্র আহত হয় এবং অনেকেই সেদিন মৃত্যুবরণ করে। মৃত্যুবরণকারী ছাত্রদের তারা হাসপাতালে নিতে দেয়নি, তাদের পোস্টমর্টেম পর্যন্ত করতে দেয়নি।

তিনি আরও বলেন, এতদিন যাবত আন্দোলন চলাকালে মামলা করার সুযোগ ছিল না। এজন্য নিহতের ভাই রাজিব বাদি হয়ে আজকে ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে শুনানি শেষে মিরপুরের কাফরুল থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন মামলাটিকে নিয়মিত এফআইয়ার হিসেবে গ্রহণ করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার, তদন্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিচারের জন্য সোপর্দ করা সবকিছু এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এ মামলা দায়েরের মাধ্যমে একটি নিয়মিত মামলায় আসামি হিসেবে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইজিপিসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা এখন আসামি হিসেবে গণ্য হবেন। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে তদন্ত, গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা যাবে।

এর আগে বুধবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে আইনজীবী সোহেল রানা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুম করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক আইজিপি শহিদুল হক, সাবেক র‌্যাব ডিজি বেনজীর আহমেদ এবং র‌্যাবের অজ্ঞাত ২৫ সদস্যকে আসামি করা হয়।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা শাকিলা সুমু চৌধুরীর আদালতে এই মামলার আবেদন করেন ভুক্তভোগী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহেল রানা। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

তারও আগে মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) শেখ হাসিনাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন এস এম আমীর হামজা নামে এক ব্যক্তি।

উল্লেখ্য, গণআন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ নিয়ে তিনটি মামলা হলো।

 

Tag :

এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

শেখ হাসিনা সহ আরও ২৪ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যা

Update Time : ১০:৫৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৪

ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকায় ঢাকা মডেল ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফয়জুল ইসলাম রাজনকে হত্যার দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।

বুধবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার সিএমএম আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন নিহতের ভাই মো. রাজিব।

আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

বাদীর আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকায় ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকা মডেল ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ফয়জুল ইসলাম রাজনকে পুলিশ বুকে গুলি করে হত্যা করে। তার চিকিৎসা গ্রহণে বাধা দেয়। সেই সময় আশপাশের অসংখ্য ছাত্র আহত হয় এবং অনেকেই সেদিন মৃত্যুবরণ করে। মৃত্যুবরণকারী ছাত্রদের তারা হাসপাতালে নিতে দেয়নি, তাদের পোস্টমর্টেম পর্যন্ত করতে দেয়নি।

তিনি আরও বলেন, এতদিন যাবত আন্দোলন চলাকালে মামলা করার সুযোগ ছিল না। এজন্য নিহতের ভাই রাজিব বাদি হয়ে আজকে ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে শুনানি শেষে মিরপুরের কাফরুল থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন মামলাটিকে নিয়মিত এফআইয়ার হিসেবে গ্রহণ করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার, তদন্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিচারের জন্য সোপর্দ করা সবকিছু এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এ মামলা দায়েরের মাধ্যমে একটি নিয়মিত মামলায় আসামি হিসেবে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইজিপিসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা এখন আসামি হিসেবে গণ্য হবেন। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে তদন্ত, গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা যাবে।

এর আগে বুধবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে আইনজীবী সোহেল রানা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুম করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক আইজিপি শহিদুল হক, সাবেক র‌্যাব ডিজি বেনজীর আহমেদ এবং র‌্যাবের অজ্ঞাত ২৫ সদস্যকে আসামি করা হয়।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা শাকিলা সুমু চৌধুরীর আদালতে এই মামলার আবেদন করেন ভুক্তভোগী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহেল রানা। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

তারও আগে মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) শেখ হাসিনাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন এস এম আমীর হামজা নামে এক ব্যক্তি।

উল্লেখ্য, গণআন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ নিয়ে তিনটি মামলা হলো।