ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে জনচলাচল, পর্যটনকেন্দ্রিক ভ্রমণ, সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণ আসতে পারে

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় আজকালের মধ্যে যেকোনো সময় আসছে নতুন নির্দেশনা। আনুষ্ঠানিকভাবে লকডাউন না হলেও অনেকটা আগের আদলেই বেশ কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে বলে সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে। সভা-সমাবেশ কর্মসূচি, জমায়েত, পর্যটন ও বিনোদনমূলক ভ্রমণ, মেলা, জনবহুল সামাজিক আয়োজনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

করোনা মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি বিশেষজ্ঞ কমিটি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে এরই মধ্যে এসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। এখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বলে ওই সূত্র জানায়।

নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনে আগের মতোই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া দোকানপাট ও ব্যবসাকেন্দ্র খোলা রাখার সময়সীমা ও ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হবে কঠোরভাবে। চলবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সড়ক, নৌ ও আকাশ পথে যাতায়াতেও আসছে নিয়ন্ত্রণ। সবচেয়ে শক্ত অভিযান হবে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য। মাস্ক ছাড়া কেউ যাতে বাইরে বের না হন সেদিকে নজর রাখা হবে সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি চিকিৎসা, পরীক্ষা ও টিকাদানে গতি ফেরাতেও কিছু দিকনির্দেশনা থাকবে নতুন করে। এ ক্ষেত্রে করোনার টিকাদান কার্যক্রম হাসপাতাল থেকে সরিয়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কেন্দ্রে নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।

যেসব কারণে সংক্রমণ দ্রুত ও বেশি ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে, সেগুলোকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ই নয়, অন্যান্য মন্ত্রণালয় মিলে সমন্বিতভাবেই নির্দেশনাগুলো কার্যকর করা হবে। জনগণকেও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে নিজেদের সুরক্ষায় সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।

সরকার আপাতত তিন সপ্তাহের জন্য একটি নতুন কর্মকৌশল নিয়ে মাঠে নামছে, যা যেকোনো সময় নির্দেশনা বা ঘোষণা আকারে প্রকাশ করার প্রস্তুতি চলছে। এই কর্মকৌশলের অংশ হিসেবে কিছু নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কোন এলাকায় সংক্রমণ বেশি তা পর্যবেক্ষণ করে সেই এলাকায় জন চলাচল সাময়িক সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। বিদেশ থেকে আগতদের ক্ষেত্রেও থাকছে নতুন কিছু নির্দেশনা। সরকার প্রজ্ঞাপন আকারে এসব নতুন নির্দেশনা জারি করবে।

এর আগে গত ১৬ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বৈঠক থেকে ১২ দফার একটি সুপারিশ তৈরি করে তা খসড়া আকারে পাঠনো হয় মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। সেখানেও কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপের সুপারিশ ছিল। ওই বৈঠকে প্রয়োজনে জন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো, সর্বস্তরে জনসমাগম সীমিত করা, শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরেই বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে তখন স্বাভাবিক অবস্থায় না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলা, পরীক্ষাগুলোও বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এ ছাড়া বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন, সংক্রমিত ব্যক্তিদের আইসোলেশন নিশ্চিত করা, আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল কমাতে ছুটি কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়।

Tag :

তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে জনচলাচল, পর্যটনকেন্দ্রিক ভ্রমণ, সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণ আসতে পারে

Update Time : ০৭:৪৪:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ মার্চ ২০২১

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় আজকালের মধ্যে যেকোনো সময় আসছে নতুন নির্দেশনা। আনুষ্ঠানিকভাবে লকডাউন না হলেও অনেকটা আগের আদলেই বেশ কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে বলে সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে। সভা-সমাবেশ কর্মসূচি, জমায়েত, পর্যটন ও বিনোদনমূলক ভ্রমণ, মেলা, জনবহুল সামাজিক আয়োজনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

করোনা মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি বিশেষজ্ঞ কমিটি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে এরই মধ্যে এসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। এখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বলে ওই সূত্র জানায়।

নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনে আগের মতোই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া দোকানপাট ও ব্যবসাকেন্দ্র খোলা রাখার সময়সীমা ও ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হবে কঠোরভাবে। চলবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সড়ক, নৌ ও আকাশ পথে যাতায়াতেও আসছে নিয়ন্ত্রণ। সবচেয়ে শক্ত অভিযান হবে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য। মাস্ক ছাড়া কেউ যাতে বাইরে বের না হন সেদিকে নজর রাখা হবে সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি চিকিৎসা, পরীক্ষা ও টিকাদানে গতি ফেরাতেও কিছু দিকনির্দেশনা থাকবে নতুন করে। এ ক্ষেত্রে করোনার টিকাদান কার্যক্রম হাসপাতাল থেকে সরিয়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কেন্দ্রে নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।

যেসব কারণে সংক্রমণ দ্রুত ও বেশি ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে, সেগুলোকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ই নয়, অন্যান্য মন্ত্রণালয় মিলে সমন্বিতভাবেই নির্দেশনাগুলো কার্যকর করা হবে। জনগণকেও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে নিজেদের সুরক্ষায় সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।

সরকার আপাতত তিন সপ্তাহের জন্য একটি নতুন কর্মকৌশল নিয়ে মাঠে নামছে, যা যেকোনো সময় নির্দেশনা বা ঘোষণা আকারে প্রকাশ করার প্রস্তুতি চলছে। এই কর্মকৌশলের অংশ হিসেবে কিছু নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কোন এলাকায় সংক্রমণ বেশি তা পর্যবেক্ষণ করে সেই এলাকায় জন চলাচল সাময়িক সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। বিদেশ থেকে আগতদের ক্ষেত্রেও থাকছে নতুন কিছু নির্দেশনা। সরকার প্রজ্ঞাপন আকারে এসব নতুন নির্দেশনা জারি করবে।

এর আগে গত ১৬ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বৈঠক থেকে ১২ দফার একটি সুপারিশ তৈরি করে তা খসড়া আকারে পাঠনো হয় মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। সেখানেও কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপের সুপারিশ ছিল। ওই বৈঠকে প্রয়োজনে জন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো, সর্বস্তরে জনসমাগম সীমিত করা, শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরেই বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে তখন স্বাভাবিক অবস্থায় না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলা, পরীক্ষাগুলোও বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এ ছাড়া বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন, সংক্রমিত ব্যক্তিদের আইসোলেশন নিশ্চিত করা, আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল কমাতে ছুটি কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়।