রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
মঙ্গলবার রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে উপস্থিতি সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
অধ্যাপক জাহিদ বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা আজকে ওনার (খালেদা জিয়া) যে সব পরীক্ষা গতকাল (সোমবার) করানো হয়েছিল এবং আজ (মঙ্গলবার) সকালে করানো হয়েছে, সেগুলো রিভিউ করেছেন। ওনারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার চেস্ট দেখেছেন। কিছু ট্রিটমেন্ট কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট করেছেন এবং সে অনুযায়ী ওনার চিকিৎসা চলছে’।
তিনি বলেন, ‘আমি কিছুক্ষণ আগেও ওনার সঙ্গে… একজন সিসিইউর রোগীর সঙ্গে তো সামনে গিয়ে কথা বলা যায় না, দূর থেকে দেখতে হয়। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে উনি সোমবার যে অবস্থায় ছিলেন এখনো উনি সেই অবস্থাতে আছেন। ওনার চিকিৎসা চলছে’।
দেশবাসীর কাছে বিএনপি চেয়ারপারসনের রোগমুক্তির জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানান তিনি।
সোমবার সকালের দিকে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে চিকিৎসকরা বিকালে খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে স্থানান্তর করে।
এভারকেয়ার হাসপাতালে হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড মঙ্গলবার দুপুরে খালেদা জিয়ার পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো পর্যালোচনা করেন।
গত ২৭ এপ্রিল গুলশানের ওই হাসপাতালে ভর্তির পরদিনই এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরার পর গত ১১ এপ্রিল থেকে গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন খালেদা জিয়া। ১৪ দিন পর আবার পরীক্ষা করা হলে তখনো তার করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ আসে।
এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৭ এপ্রিল রাতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। চেস্টের সিটি স্ক্যান ও কয়েকটি পরীক্ষার পর সেই রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে কারাগার যেতে হয়েছিলে ৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে।
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। তখন থেকে তিনি গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
অনলাইন ডেস্ক 
























