ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আন্দোলন কতদিন চলবে, যা বলছে ককরোচ পার্টি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে হোটেলকক্ষের গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করুন মোবাইল দিয়েই গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত ফরিদপুরে যাত্রা শুরু করল ‘পেয়ালা ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ ফরিদপুরে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য: সচেতনতা, সহমর্মিতা ও করণীয় বিষয়ক নন্দিতা সুরক্ষার কর্মশালা অনুষ্ঠিত মেসিকে নিয়ে আবারও নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করলেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় তিন ধাপ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ আমূল বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট

সুযোগ থাকলে ইরানের তেল দখল করতাম, কিন্তু জনগণ চায় আমরা দেশে ফিরি: ডোনাল্ড ট্রাম্প

সুযোগ থাকলে ইরানের তেল দখল করতাম বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ চায় না বলে এমনটি করা থেকে বিরত রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউজের বার্ষিক ইস্টার এগ রোল অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমার যদি সুযোগ থাকতো, আমি তেলটা নিয়ে নিতাম। কিন্তু আমি আমাদের দেশের মানুষকেও খুশি রাখতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, মার্কিন জনগণ চায় আমরা দেশে ফিরে আসি। বিষয়টি যদি আমার ওপর নির্ভর করতো, আমি তেল নিয়ে নিতাম, সেটি রেখে দিতাম—এতে প্রচুর অর্থ আসতো। পাশাপাশি আমি ইরানের জনগণের যত্নও তাদের বর্তমান অবস্থার চেয়ে ভালোভাবে নিতাম।’

‘যুদ্ধবিরোধীরা বোকা’

যারা ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন, তাদের ‘বোকা’ বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

সম্প্রতি রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজন মার্কিন নাগরিক ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিপক্ষে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকের বেশি মনে করেন, এই যুদ্ধ তাদের ব্যক্তিগত অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।

গত মাসে সিএনএনের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, তার সমর্থকদের মধ্যে ইরান অভিযানের প্রতি শতভাগ সমর্থন রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ সাধারণত বছরের পর বছর চলে। আমরা সেখানে ৩৪ দিন আছি, আর ৩৪ দিনেই একটি শক্তিশালী দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছি।’

হরমুজ নিয়ে নতুন হুঁশিয়ারি

ট্রাম্প আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে তাদের বেসামরিক অবকাঠামো—যেমন সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র—লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘তারা হয়তো এখনই হার মানতে চাইছে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানতেই হবে। না হলে তাদের কোনো সেতু থাকবে না, বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না—কিছুই থাকবে না।’

বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ নিয়ে ‘চিন্তিত নন’।

তার কথায়, ‘জানেন যুদ্ধাপরাধ কী? পারমাণবিক অস্ত্র রাখা। একটি অসুস্থ দেশের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা—এটাই যুদ্ধাপরাধ।’

জনসমর্থন হারাচ্ছেন ট্রাম্প

সিএনএনের একটি জরিপে দেখা গেছে, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা আছে—এমনটি বিশ্বাস করেন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক।

জরিপ অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের প্রতি আগেই যে ব্যাপক অনাস্থা ছিল, যুদ্ধ শুরুর পর তা আরও বেড়েছে। বর্তমানে মাত্র ৩৪ শতাংশ মার্কিনি কোনো না কোনোভাবে এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন, যা যুদ্ধ শুরুর পরপর পরিচালিত আগের জরিপের তুলনায় ৭ শতাংশ কম।

অন্যদিকে, এই পদক্ষেপের প্রতি বিরোধিতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ শতাংশে। এর মধ্যে জোরালো বিরোধিতার হার ১২ শতাংশ বেড়ে ৪৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

সূত্র: পলিটিকো, সিএনএন

Tag :
জনপ্রিয়

নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

সুযোগ থাকলে ইরানের তেল দখল করতাম, কিন্তু জনগণ চায় আমরা দেশে ফিরি: ডোনাল্ড ট্রাম্প

Update Time : ০৬:১৯:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

সুযোগ থাকলে ইরানের তেল দখল করতাম বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ চায় না বলে এমনটি করা থেকে বিরত রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউজের বার্ষিক ইস্টার এগ রোল অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমার যদি সুযোগ থাকতো, আমি তেলটা নিয়ে নিতাম। কিন্তু আমি আমাদের দেশের মানুষকেও খুশি রাখতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, মার্কিন জনগণ চায় আমরা দেশে ফিরে আসি। বিষয়টি যদি আমার ওপর নির্ভর করতো, আমি তেল নিয়ে নিতাম, সেটি রেখে দিতাম—এতে প্রচুর অর্থ আসতো। পাশাপাশি আমি ইরানের জনগণের যত্নও তাদের বর্তমান অবস্থার চেয়ে ভালোভাবে নিতাম।’

‘যুদ্ধবিরোধীরা বোকা’

যারা ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন, তাদের ‘বোকা’ বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

সম্প্রতি রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজন মার্কিন নাগরিক ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিপক্ষে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকের বেশি মনে করেন, এই যুদ্ধ তাদের ব্যক্তিগত অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।

গত মাসে সিএনএনের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, তার সমর্থকদের মধ্যে ইরান অভিযানের প্রতি শতভাগ সমর্থন রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ সাধারণত বছরের পর বছর চলে। আমরা সেখানে ৩৪ দিন আছি, আর ৩৪ দিনেই একটি শক্তিশালী দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছি।’

হরমুজ নিয়ে নতুন হুঁশিয়ারি

ট্রাম্প আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে তাদের বেসামরিক অবকাঠামো—যেমন সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র—লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘তারা হয়তো এখনই হার মানতে চাইছে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানতেই হবে। না হলে তাদের কোনো সেতু থাকবে না, বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না—কিছুই থাকবে না।’

বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ নিয়ে ‘চিন্তিত নন’।

তার কথায়, ‘জানেন যুদ্ধাপরাধ কী? পারমাণবিক অস্ত্র রাখা। একটি অসুস্থ দেশের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা—এটাই যুদ্ধাপরাধ।’

জনসমর্থন হারাচ্ছেন ট্রাম্প

সিএনএনের একটি জরিপে দেখা গেছে, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা আছে—এমনটি বিশ্বাস করেন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক।

জরিপ অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের প্রতি আগেই যে ব্যাপক অনাস্থা ছিল, যুদ্ধ শুরুর পর তা আরও বেড়েছে। বর্তমানে মাত্র ৩৪ শতাংশ মার্কিনি কোনো না কোনোভাবে এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন, যা যুদ্ধ শুরুর পরপর পরিচালিত আগের জরিপের তুলনায় ৭ শতাংশ কম।

অন্যদিকে, এই পদক্ষেপের প্রতি বিরোধিতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ শতাংশে। এর মধ্যে জোরালো বিরোধিতার হার ১২ শতাংশ বেড়ে ৪৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

সূত্র: পলিটিকো, সিএনএন