করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে আগামী ১ জুলাই থেকে সারাদেশে এক সপ্তাহের ‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আর সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে ‘লকডাউন’ শুরু হবে। এই সময় থেকে গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে। তবে সীমিত পরিসরে কিছু প্রতিষ্ঠান বা ক্ষেত্র খোলা থাকবে।
শনিবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
এর আগে সোমবার (২৮ জুন) থেকে কঠোর লকডাউন দেওয়া হতে পারে বলে শুক্রবার রাতে জানিয়েছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এবারের লকডাউনে জরুরি সেবা ও পণ্য পরিবহন ছাড়া সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি অফিস ও সেবা এবং পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
এদিকে সোমবার থেকে কঠোর লকডাউন কার্যকর হতে পারে এমন খবরে শনিবার থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সারাদেশে ১৪ দিনের শাটডাউনের এ সুপারিশ করা হয়।
সেই সঙ্গে জরুরি কারণ ছাড়া বাড়ির বাইরে কেউ বের হতে পারবেন না। গণমাধ্যম লকডাউনের আওতা বহির্ভূত থাকবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আদেশ শনিবার (২৬ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা হবে বলেও জানান তথ্য অধিদফতের এই কর্মকর্তা।
গত ২৪ জুন মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সারাদেশে ১৪ দিনের শাটডাউনের সুপারিশ করেছে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এ বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় নিয়ে যেকোনো সময় শাটডাউন ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার করোনা পরিস্থিতি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগের চেয়ে বিধিনিষেধ আরও কঠোর হবে। করোনা সংক্রমণ কমানোর জন্য যা করা প্রয়োজন হবে আমরা তাই করব।
তিনি আরও বলেন, মাঝে আমাদের সংক্রমণ ৭ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখনো অনেক জায়গা আছে, যেখানে সংক্রমণ ১০ শতাংশের নিচে আছে। ইতোমধ্যে ঢাকার আশেপাশের এলাকাগুলোতে লকডাউন দিয়েছি। তারপরও ঢাকার মধ্যে লোকজন এসে যাচ্ছে। সংক্রমণ কমানোয় পদক্ষেপ নিতে আমাদের বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) কোভিড-১৯ কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সারাদেশে ১৪ দিনের ‘শাটডাউন’- এর সুপারিশ করা হয়।
এতে বলা হয়, দেশে কোভিড-১৯ রোগের ভারতীয় ডেল্টা ধরনের সামাজিক সংক্রমণ চিহ্নিত হয়েছে। ইতোমধ্যে এর প্রকোপ অনেক বেড়েছে। এ প্রজাতির জীবাণুর সংক্রমণ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বিশ্লেষণে সারাদেশেই উচ্চ সংক্রমণ, পঞ্চাশটির বেশি জেলায় অতি উচ্চ সংক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে। এটি প্রতিরোধে খণ্ড খণ্ডভাবে নেওয়া কর্মসূচির উপযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
সুপারিশে বলা হয়, শাটডাউন চলা অবস্থায় জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালতসহ সবকিছু বন্ধ রাখা প্রয়োজন। এ ব্যবস্থা কঠোরভাবে পালন করতে না পারলে আমাদের যত প্রস্তুতিই থাকুক না কেনো, সংক্রমণ এভাবে বাড়তে থাকলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অপ্রতুল হয়ে পড়বে।
অনলাইন ডেস্ক 



















