ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃদু শৈত্য প্রবাহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে: চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৭.৪ ডিগ্রি, পঞ্চগড়ে ৯ ডিগ্রি

চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। বইছে হিমেল বাতাস। শৈত্যপ্রবাহের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সোমবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে সাধারণ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

সকাল ছয়টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সাত দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যা থেকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

শৈত্যপ্রবাহের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। হিমেল বাতাসে কাবু হচ্ছেন তারা।

এর একদিন আগে রবিবারও তাপমাত্রা হ্রাস ছিল আট দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলায় রবিবার রাত থেকেই তাপমাত্রা হ্রাস পেতে শুরু করে। হিমেল বাতাসের কারণে জনজীবনে চরম শীত অনুভূত হচ্ছে। মানুষ শীত থেকে রক্ষার জন্য গরম কাপড় ও আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিচ্ছে।

পঞ্চগড়ে ৯ ডিগ্রি

হিমালয়ের কূলঘেষা সীমান্তবর্তী উত্তরের পঞ্চগড় জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এখানে ৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। বিকেল থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘনকুয়াশার পাশাপাশি উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা মৃদু হিমেল বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রাসেল শাহ জানান, রোববার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এটিই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গতকাল শনিবারও এখানে একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এখানে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ থেকে এখানে শীতের প্রকোপ আরো বাড়বে এবং ঘনকুয়াশার পাশাপাশি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি জানান, দিনের বেলায় রোদের তেজ বেশি থাকায় রোববার ২৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি, শনিবার ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি, শুক্রবার ২৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি ও বৃহস্পতিবার ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আদ্রতা এই জেলায় ৯৩ থেকে ১০০ শতাংশ এবং ২ থেকে ৫ নটিকেল মাইল বেগে প্রতিঘণ্টায় বাতাস বয়ে যাচ্ছে।

এদিকে এবার পঞ্চগড়ে একটানা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করলেও দিন ও রাতের তাপমাত্রার বেশ পার্থক্য থাকছে। রাতে ও সকালে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে আবার দিনের মধ্য ভাগে রোদের প্রচণ্ড তাপে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিচ্ছে জেলা শহরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

অপরদিকে, জেলা প্রশাসন জেলার পাঁচ উপজেলায় এ বছরও ২২ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণকৃত শীতবস্ত্রের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় নগন্য।

Tag :

মৃদু শৈত্য প্রবাহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে: চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৭.৪ ডিগ্রি, পঞ্চগড়ে ৯ ডিগ্রি

Update Time : ১২:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২১

চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। বইছে হিমেল বাতাস। শৈত্যপ্রবাহের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সোমবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে সাধারণ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

সকাল ছয়টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সাত দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যা থেকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

শৈত্যপ্রবাহের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। হিমেল বাতাসে কাবু হচ্ছেন তারা।

এর একদিন আগে রবিবারও তাপমাত্রা হ্রাস ছিল আট দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলায় রবিবার রাত থেকেই তাপমাত্রা হ্রাস পেতে শুরু করে। হিমেল বাতাসের কারণে জনজীবনে চরম শীত অনুভূত হচ্ছে। মানুষ শীত থেকে রক্ষার জন্য গরম কাপড় ও আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিচ্ছে।

পঞ্চগড়ে ৯ ডিগ্রি

হিমালয়ের কূলঘেষা সীমান্তবর্তী উত্তরের পঞ্চগড় জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এখানে ৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। বিকেল থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘনকুয়াশার পাশাপাশি উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা মৃদু হিমেল বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রাসেল শাহ জানান, রোববার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এটিই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গতকাল শনিবারও এখানে একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এখানে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ থেকে এখানে শীতের প্রকোপ আরো বাড়বে এবং ঘনকুয়াশার পাশাপাশি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি জানান, দিনের বেলায় রোদের তেজ বেশি থাকায় রোববার ২৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি, শনিবার ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি, শুক্রবার ২৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি ও বৃহস্পতিবার ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আদ্রতা এই জেলায় ৯৩ থেকে ১০০ শতাংশ এবং ২ থেকে ৫ নটিকেল মাইল বেগে প্রতিঘণ্টায় বাতাস বয়ে যাচ্ছে।

এদিকে এবার পঞ্চগড়ে একটানা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করলেও দিন ও রাতের তাপমাত্রার বেশ পার্থক্য থাকছে। রাতে ও সকালে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে আবার দিনের মধ্য ভাগে রোদের প্রচণ্ড তাপে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিচ্ছে জেলা শহরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

অপরদিকে, জেলা প্রশাসন জেলার পাঁচ উপজেলায় এ বছরও ২২ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণকৃত শীতবস্ত্রের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় নগন্য।