ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল: হোয়াইট হাউস ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র অধিকৃত পশ্চিম তীরের গাজার মতো সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান ইসরায়েলি নিরাপত্তামন্ত্রী কে হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি আগামী রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের দল নয়, আমরা মানুষ আমাদেরও ভুল ত্রুটি হয়: শফিকুর রহমান পদত্যাগপত্রে কি লিখেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার আর বেশি দিন নাই: খুলনার সমাবেশে বিএনপি

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার আর বেশি দিন নাই। সরকার এ বছর পার করতে পারবে না বলেও মনে করছে বিএনপি। পাশাপাশি নিরপেক্ষ সরকারে হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিরাপদে আওয়ামী লীগ সরকারকে সরে যেতে বলেছে দলটি।

শনিবার বিকেলে খুলনায় বিভাগীয় গণসমাবেশে এসব কথা বলেন বিএনপির নেতারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখনও সময় আছে নিরাপদে সরে যান, না হয় পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না। তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন দিলে আওয়ামী লীগের চিহ্ন থাকবে না। এই দেশকে নরকে পরিণত করেছে সরকার। সব অর্জন ধ্বংস করে ফেলেছে। অবৈধ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে এসব করছে সরকার। একবার ভোট ছাড়া, আরেকবার নিশি রাতে। ২০২৩ সালে নির্বাচন একইভাবে করার পায়তারা।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন কমিশন নিজেদের ভালো দেখানোর জন্য কৌশল নিয়েছে। কমিশনকে তো ডিসি-এসপিই মানে না। তাই আমরা নির্বাচন কমিশন নিয়ে কথা বলছি না। তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া কোনো নির্বাচন নয়। তাই এই সরকারকে বিদায় জানাতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের উপর হামলা করে পার পাবেন না। বিদেশিরা বুঝে গেছে, আপনারা সন্ত্রাসের দল। হামলা করে ক্ষমতায় টিকে আছেন।আমাদের সামনে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই। এই সরকারকে পরাজিত করে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সরকার পদত্যাগ করুন। গণঅভ্যুত্থানে এ সরকারকে বিদায় জানাতে হবে। আমাদের দেশকে গণতন্ত্রের পথে ফেরাতে চাই। ফয়সালা হবে রাজপথে। আদালত ঠিক করতে কমিশন গঠন করব। এখনও সময় আছে সেইফ এক্সিট নেন। পালাবার পথে খুঁজে পাবেন না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান সমাবেশে বলেন, আগামী কোনো নির্বাচন হতে হলে আওয়ামী লীগের অধীনে তা হবে না। খুলনার মানুষ প্রমাণ করছে তারা এই সরকারকে ভয় করে না। সরকার চেয়েছিল মানুষকে ভয় দেখিয়ে এ দেশ থেকে গণতন্ত্র হরণ করতে, মানুষের ভোটের অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার হরণ করতে। তারা পারেনি, ব্যর্থ হয়েছে—এই সমাবেশ তার প্রমাণ। সরকার যখন বুঝতে পেরেছে জনতার ঢল ঠেকানো যাবে না। তখন শুধু ভয় দেখিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তারা খুলনায় দুই দিনের ‘হরতাল’ ডেকে দিয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এই সরকার খুব বেশি দিন নাই। এ বছর যায় কি যায় না। আমাদের নেতা–কর্মীরা অনেক কষ্ট করেছেন। আর বেশি দিন কষ্ট করা লাগবে না। অনতিবিলম্বে এই সরকার পদত্যাগে বাধ্য হবে। কেয়ারটেকারের (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) অধীনে নির্বাচন হবে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসবেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, দুই দিন ধরে খুলনা বিভাগের মানুষকে পিঁপড়ার মতো হেঁটে হেঁটে সমাবেশে উপস্থিত হতে হয়েছে। কখনো গাড়িতে, কখনো ট্রেনে, কখনো মোটরসাইকেলে, কখনো নছিমনে বা হেঁটে এখানে এসেছেন। অনেকে হামলার শিকার হয়েছেন। পথে পথে বাধা পেয়েছেন। পথঘাট থেকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত বাহিনীরা দুর্বল ভেবে আজ খুলনা রেলস্টেশনে আমাদের আঘাত করতে চেয়েছিল, যশোরের মানুষ যথাযথ উত্তর তাদের দিয়েছেন।

সমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির প্রধান সহ–সমন্বয়ক রকিবুল ইসলাম বলেন, বিরোধী দল হরতাল–অবরোধ ডাকে; কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার নিজেই হরতাল ডেকে নিজেদের বন্দী করেছে এবং প্রমাণ করে দিয়েছে এই সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার।

Tag :
জনপ্রিয়

দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার আর বেশি দিন নাই: খুলনার সমাবেশে বিএনপি

Update Time : ০৫:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অক্টোবর ২০২২

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার আর বেশি দিন নাই। সরকার এ বছর পার করতে পারবে না বলেও মনে করছে বিএনপি। পাশাপাশি নিরপেক্ষ সরকারে হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিরাপদে আওয়ামী লীগ সরকারকে সরে যেতে বলেছে দলটি।

শনিবার বিকেলে খুলনায় বিভাগীয় গণসমাবেশে এসব কথা বলেন বিএনপির নেতারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখনও সময় আছে নিরাপদে সরে যান, না হয় পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না। তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন দিলে আওয়ামী লীগের চিহ্ন থাকবে না। এই দেশকে নরকে পরিণত করেছে সরকার। সব অর্জন ধ্বংস করে ফেলেছে। অবৈধ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে এসব করছে সরকার। একবার ভোট ছাড়া, আরেকবার নিশি রাতে। ২০২৩ সালে নির্বাচন একইভাবে করার পায়তারা।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন কমিশন নিজেদের ভালো দেখানোর জন্য কৌশল নিয়েছে। কমিশনকে তো ডিসি-এসপিই মানে না। তাই আমরা নির্বাচন কমিশন নিয়ে কথা বলছি না। তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া কোনো নির্বাচন নয়। তাই এই সরকারকে বিদায় জানাতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের উপর হামলা করে পার পাবেন না। বিদেশিরা বুঝে গেছে, আপনারা সন্ত্রাসের দল। হামলা করে ক্ষমতায় টিকে আছেন।আমাদের সামনে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই। এই সরকারকে পরাজিত করে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সরকার পদত্যাগ করুন। গণঅভ্যুত্থানে এ সরকারকে বিদায় জানাতে হবে। আমাদের দেশকে গণতন্ত্রের পথে ফেরাতে চাই। ফয়সালা হবে রাজপথে। আদালত ঠিক করতে কমিশন গঠন করব। এখনও সময় আছে সেইফ এক্সিট নেন। পালাবার পথে খুঁজে পাবেন না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান সমাবেশে বলেন, আগামী কোনো নির্বাচন হতে হলে আওয়ামী লীগের অধীনে তা হবে না। খুলনার মানুষ প্রমাণ করছে তারা এই সরকারকে ভয় করে না। সরকার চেয়েছিল মানুষকে ভয় দেখিয়ে এ দেশ থেকে গণতন্ত্র হরণ করতে, মানুষের ভোটের অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার হরণ করতে। তারা পারেনি, ব্যর্থ হয়েছে—এই সমাবেশ তার প্রমাণ। সরকার যখন বুঝতে পেরেছে জনতার ঢল ঠেকানো যাবে না। তখন শুধু ভয় দেখিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তারা খুলনায় দুই দিনের ‘হরতাল’ ডেকে দিয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এই সরকার খুব বেশি দিন নাই। এ বছর যায় কি যায় না। আমাদের নেতা–কর্মীরা অনেক কষ্ট করেছেন। আর বেশি দিন কষ্ট করা লাগবে না। অনতিবিলম্বে এই সরকার পদত্যাগে বাধ্য হবে। কেয়ারটেকারের (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) অধীনে নির্বাচন হবে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসবেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, দুই দিন ধরে খুলনা বিভাগের মানুষকে পিঁপড়ার মতো হেঁটে হেঁটে সমাবেশে উপস্থিত হতে হয়েছে। কখনো গাড়িতে, কখনো ট্রেনে, কখনো মোটরসাইকেলে, কখনো নছিমনে বা হেঁটে এখানে এসেছেন। অনেকে হামলার শিকার হয়েছেন। পথে পথে বাধা পেয়েছেন। পথঘাট থেকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত বাহিনীরা দুর্বল ভেবে আজ খুলনা রেলস্টেশনে আমাদের আঘাত করতে চেয়েছিল, যশোরের মানুষ যথাযথ উত্তর তাদের দিয়েছেন।

সমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির প্রধান সহ–সমন্বয়ক রকিবুল ইসলাম বলেন, বিরোধী দল হরতাল–অবরোধ ডাকে; কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার নিজেই হরতাল ডেকে নিজেদের বন্দী করেছে এবং প্রমাণ করে দিয়েছে এই সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার।