ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আরেকটি বিপ্লব আসন্ন, প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান শেষ মুহুর্তে শেখ হাসিনার সাথে যা ঘটেছিল! আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানকে ‘খুব কঠোরভাবে আঘাত’ করা হবে: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা দিল্লিতে শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধনের পর ঘুরে ঘুরে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আজ ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজকের নামাজের সময়সূচি: ৫ আগস্ট ২০২৬

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ভবিষ্যত নির্ধারণ: জরুরি সংবাদ সম্মেলন শিক্ষামন্ত্রীর

চলতি বছরে আটকে থাকা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ভবিষ্যত নির্ধারণ করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত আকারে পরীক্ষা নাকি অটোপাশ দিয়ে পাস করানো হবে সেই সিদ্ধান্তের কথা জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। চলতি সপ্তাহে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ঝুলে থাকা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলে বিকল্প পদ্ধতিতে পাশ করানোর চিন্তাভাবনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এজন্য একাধিক প্রস্তাব তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রচনামূলক বা সৃজনশীল প্রশ্ন বাদ দিয়ে কেবল বহু নির্বাচনী প্রশ্নে (এমসিকিউ) পরীক্ষা নেয়া। বিষয় ও পূর্ণমান (পরীক্ষার মোট নম্বর) কমিয়ে পরীক্ষা নেয়া। এক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ের দুই পত্র একীভূত করা।

পাশাপাশি ২০০ নম্বরের বদলে ১০০ নম্বরে পরীক্ষা নেয়া হবে। কিন্তু উভয়ক্ষেত্রেই করোনা পরিস্থিতির উন্নতি জরুরি। অর্থাৎ সংক্রমণ ১০ শতাংশের নিচে নেমে এলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে পরীক্ষা নেয়া হবে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে কেন্দ্রের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করে এই পরীক্ষা নেয়া হবে।

এমনটি সম্ভব না হলে এসএসসির ক্ষেত্রে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফলের ৫০ শতাংশ এবং অ্যাসাইনমেন্ট ও ক্লাস অ্যাকটিভিটিসের ওপর ৫০ শতাংশ ফলাফল নিয়ে ফল প্রস্তুত করা হতে পারে। এইচএসসির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর এসএসসির ফলের ৫০ শতাংশ, জেএসসির ২৫ শতাংশ এবং অ্যাসাইনমেন্টের ফলের ২৫ শতাংশ সমন্বয় করে ফল প্রকাশের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন। সেটি শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির কাছে পাঠানো হয়েছে। সে বিষয়টি তুলে ধরতে চলতি সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন করে তা জানিয়ে দেয়া হবে। তার ভিত্তিতে শিক্ষা বোর্ডগুলো ফলাফল প্রকাশের কাজ শুরু করবে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের বলেন, চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কবে সেটি হবে এখনো নির্ধারিত দিন ধার্য করা না হলেও চলতি সপ্তাহে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ৬০ দিন এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ৮৪ দিনে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করা হবে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা সেটির ওপর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হঠাৎ করে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করে পরীক্ষা নেয়া অসম্ভব তা শিক্ষামন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিকল্প পদ্ধতি খোঁজা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ডের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নেহাল আহমেদ বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আটকে আছে। সেটি আর নেয়া সম্ভব হবে কিনা বা বিকল্প পদ্ধতিতে পাশ করানো হবে সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেবেন। চলতি সপ্তাহের ১৪ অথবা ১৫ জুলাই এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হতে পারে। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী যে দিক নির্দেশনা দেবেন তার ভিত্তিতে আমরা তা বাস্তবায়ন করে ফলাফল প্রকাশ করবো।তথ্য সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

Tag :

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আরেকটি বিপ্লব আসন্ন, প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ভবিষ্যত নির্ধারণ: জরুরি সংবাদ সম্মেলন শিক্ষামন্ত্রীর

Update Time : ০৪:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জুলাই ২০২১

চলতি বছরে আটকে থাকা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ভবিষ্যত নির্ধারণ করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত আকারে পরীক্ষা নাকি অটোপাশ দিয়ে পাস করানো হবে সেই সিদ্ধান্তের কথা জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। চলতি সপ্তাহে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ঝুলে থাকা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলে বিকল্প পদ্ধতিতে পাশ করানোর চিন্তাভাবনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এজন্য একাধিক প্রস্তাব তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রচনামূলক বা সৃজনশীল প্রশ্ন বাদ দিয়ে কেবল বহু নির্বাচনী প্রশ্নে (এমসিকিউ) পরীক্ষা নেয়া। বিষয় ও পূর্ণমান (পরীক্ষার মোট নম্বর) কমিয়ে পরীক্ষা নেয়া। এক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ের দুই পত্র একীভূত করা।

পাশাপাশি ২০০ নম্বরের বদলে ১০০ নম্বরে পরীক্ষা নেয়া হবে। কিন্তু উভয়ক্ষেত্রেই করোনা পরিস্থিতির উন্নতি জরুরি। অর্থাৎ সংক্রমণ ১০ শতাংশের নিচে নেমে এলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে পরীক্ষা নেয়া হবে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে কেন্দ্রের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করে এই পরীক্ষা নেয়া হবে।

এমনটি সম্ভব না হলে এসএসসির ক্ষেত্রে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফলের ৫০ শতাংশ এবং অ্যাসাইনমেন্ট ও ক্লাস অ্যাকটিভিটিসের ওপর ৫০ শতাংশ ফলাফল নিয়ে ফল প্রস্তুত করা হতে পারে। এইচএসসির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর এসএসসির ফলের ৫০ শতাংশ, জেএসসির ২৫ শতাংশ এবং অ্যাসাইনমেন্টের ফলের ২৫ শতাংশ সমন্বয় করে ফল প্রকাশের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন। সেটি শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির কাছে পাঠানো হয়েছে। সে বিষয়টি তুলে ধরতে চলতি সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন করে তা জানিয়ে দেয়া হবে। তার ভিত্তিতে শিক্ষা বোর্ডগুলো ফলাফল প্রকাশের কাজ শুরু করবে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের বলেন, চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কবে সেটি হবে এখনো নির্ধারিত দিন ধার্য করা না হলেও চলতি সপ্তাহে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ৬০ দিন এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ৮৪ দিনে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করা হবে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা সেটির ওপর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হঠাৎ করে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করে পরীক্ষা নেয়া অসম্ভব তা শিক্ষামন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিকল্প পদ্ধতি খোঁজা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ডের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নেহাল আহমেদ বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আটকে আছে। সেটি আর নেয়া সম্ভব হবে কিনা বা বিকল্প পদ্ধতিতে পাশ করানো হবে সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেবেন। চলতি সপ্তাহের ১৪ অথবা ১৫ জুলাই এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হতে পারে। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী যে দিক নির্দেশনা দেবেন তার ভিত্তিতে আমরা তা বাস্তবায়ন করে ফলাফল প্রকাশ করবো।তথ্য সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল