ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

কক্সবাজারে পাহাড় ধস, মা-মেয়েসহ পাঁচজনের মৃত্যু

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০২:২০:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০২৩
  • ২৪০ Time View

কক্সবাজারের চকরিয়া ও উখিয়া উপজেলায় ভারি বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে মা-মেয়েসহ ৫ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে টমটমের ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একজন মারা গেছেন। চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বড়ঘোনা এবং উখিয়া উপজেলার বালুখালীর জনপ্রতিনিধি ও ফায়ার সার্ভিস এই মৃত্যুর বিষয়গুলো জানিয়েছেন।

সোমবার (৭ আগস্ট) পৃথক সময়ে বাড়ির মাটির দেয়ালচাপা ও টমটমের ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া ঢলের পানির সঙ্গে ভেসে আসা লাকড়ি ধরতে গিয়ে শাহা আলম (২৮) নামে এক পান ব্যবসায়ী নিখোঁজ হন। তিনি লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের হাজিপাড়ার মৃত জাকের হোছাইনের ছেলে।

উখিয়ায় নিহতরা হল- বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লকের বাসিন্দা আনোয়ার ইসলামের স্ত্রী জান্নাত আরা (২৮) এবং তার মেয়ে মাহিমা আক্তার (১)। তবে তাৎক্ষণিকভাবে চকরিয়ায় নিহত দুই শিশু আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির সন্তান।। এছাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ইয়াছিন মামুন (১৬) মহেশখালী পৌরসভার কলেজপাড়া এলাকার মুহাম্মদ রফিকের ছেলে এবং লিডারশীপ হাইস্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মামুনের বাবা পৌরসভার সুইপার হিসেবে কাজ করেন।

চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান বলেন, এক সপ্তাহ ধরে চকরিয়াসহ কক্সবাজারে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। রবিবার রাত থেকে অব্যাহত ভারি বৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল। এতে বরইতলী ইউনিয়নসহ চকরিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একপর্যায়ে সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বড়ঘোনায় পাহাড় ধসে বাড়ির দেয়াল ভেঙে চাপা পড়ে আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির দুই শিশু সন্তান। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথেই তাদের মৃত্যু হয়। তবে অতিবর্ষণে রাস্তাঘাট তলিয়ে ওই পাড়ার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চেয়ারম্যান-মেম্বাররা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার জেলা স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক অতীশ চাকমা বলেন, বিকাল ৫টার দিকে বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লকে বসবাসকারী আনোয়ার ইসলামের (৩৫) বসত ঘরে পাহাড় ধসে পড়ে। এতে আনোয়ার, তার স্ত্রী ও মেয়ে মাটিচাপা পড়ে। মাটিচাপা অবস্থায় মা-মেয়েকে মৃত অবস্থায় এবং আনোয়ারকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আনোয়ারকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মরদেহ দুটি ঘটনাস্থলেই রয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, সংসারের খরচ যোগাতে পড়াশোনার পাশাপাশি টমটম চালাতো শিক্ষার্থী ইয়াছিন মামুন। দুপুরে টমটম গাড়িতে চার্জ দিতে গেলে সেখানেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তার মৃত্যু হয়। তবে মহেশখালী থানার ওসি (তদন্ত) তাজ উদ্দীন বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

Tag :

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে

কক্সবাজারে পাহাড় ধস, মা-মেয়েসহ পাঁচজনের মৃত্যু

Update Time : ০২:২০:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০২৩

কক্সবাজারের চকরিয়া ও উখিয়া উপজেলায় ভারি বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে মা-মেয়েসহ ৫ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে টমটমের ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একজন মারা গেছেন। চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বড়ঘোনা এবং উখিয়া উপজেলার বালুখালীর জনপ্রতিনিধি ও ফায়ার সার্ভিস এই মৃত্যুর বিষয়গুলো জানিয়েছেন।

সোমবার (৭ আগস্ট) পৃথক সময়ে বাড়ির মাটির দেয়ালচাপা ও টমটমের ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া ঢলের পানির সঙ্গে ভেসে আসা লাকড়ি ধরতে গিয়ে শাহা আলম (২৮) নামে এক পান ব্যবসায়ী নিখোঁজ হন। তিনি লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের হাজিপাড়ার মৃত জাকের হোছাইনের ছেলে।

উখিয়ায় নিহতরা হল- বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লকের বাসিন্দা আনোয়ার ইসলামের স্ত্রী জান্নাত আরা (২৮) এবং তার মেয়ে মাহিমা আক্তার (১)। তবে তাৎক্ষণিকভাবে চকরিয়ায় নিহত দুই শিশু আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির সন্তান।। এছাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ইয়াছিন মামুন (১৬) মহেশখালী পৌরসভার কলেজপাড়া এলাকার মুহাম্মদ রফিকের ছেলে এবং লিডারশীপ হাইস্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মামুনের বাবা পৌরসভার সুইপার হিসেবে কাজ করেন।

চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান বলেন, এক সপ্তাহ ধরে চকরিয়াসহ কক্সবাজারে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। রবিবার রাত থেকে অব্যাহত ভারি বৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল। এতে বরইতলী ইউনিয়নসহ চকরিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একপর্যায়ে সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বড়ঘোনায় পাহাড় ধসে বাড়ির দেয়াল ভেঙে চাপা পড়ে আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির দুই শিশু সন্তান। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথেই তাদের মৃত্যু হয়। তবে অতিবর্ষণে রাস্তাঘাট তলিয়ে ওই পাড়ার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চেয়ারম্যান-মেম্বাররা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার জেলা স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক অতীশ চাকমা বলেন, বিকাল ৫টার দিকে বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লকে বসবাসকারী আনোয়ার ইসলামের (৩৫) বসত ঘরে পাহাড় ধসে পড়ে। এতে আনোয়ার, তার স্ত্রী ও মেয়ে মাটিচাপা পড়ে। মাটিচাপা অবস্থায় মা-মেয়েকে মৃত অবস্থায় এবং আনোয়ারকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আনোয়ারকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মরদেহ দুটি ঘটনাস্থলেই রয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, সংসারের খরচ যোগাতে পড়াশোনার পাশাপাশি টমটম চালাতো শিক্ষার্থী ইয়াছিন মামুন। দুপুরে টমটম গাড়িতে চার্জ দিতে গেলে সেখানেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তার মৃত্যু হয়। তবে মহেশখালী থানার ওসি (তদন্ত) তাজ উদ্দীন বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।