ঢাকা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে

জিনিসপত্রের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যে নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

শুক্রবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) খুচরা বাজারদরের তালিকা পর্যালোচনা করে দাম বাড়ার চিত্র দেখা গেছে।

ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যেই সবজির বাজারে যেন ‘আগুন’ লেগেছে। বেড়েছে মসলার দামও। রমজানে যে পেঁপের কেজি ছিল ৪০ টাকা, বতর্মানে তা ৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। দাম বেড়েছে করলা, লাউ, ধুন্দুল, বরবটিসহ আরও অনেক সবজির। ফলে সবজি কেনা এখন সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য।

এদিকে বেড়েছে চিনি ও পেঁয়াজের দামও। কয়েকদিন আগে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া খোলা চিনি বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। আর হঠাৎ করেই পেঁয়াজ কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকায়।

সবজির বাজার

এ সপ্তাহে সবজির বাজারে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় আছে পেঁপে, লাউ, করলা, উস্তা, কচুর লতি, বরবটি, ধুন্দুল, সজনে ডাঁটা এবং কাঁকরোল। আর অন্যান্য সব সবজির দাম আগের মতোই আছে।

প্রতিকেজি সজনে বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকায়। বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। ১ কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা, যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ৩৫-৪০ টাকা। প্রতিকেজি লতি, করলা, উস্তা, চিচিঙ্গা, বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ১০০-১২০ টাকা।

কম দামি সবজির মধ্যে প্রতিকেজি পাকা টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। মিষ্টিকুমড়া প্রতি পিস কাঁচা ৪০ এবং পাকাটা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আলু প্রতিকেজি ৩৫-৪০ টাকায়। লেবু হালি ৩৫-৪০ টাকা। আর সব ধরনের শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকায়।

চাল ও ডালের বাজার

সপ্তাহের ব্যবধানে চাল ও ডালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আটাশ চাল ৫৫ টাকা, মিনিকেট চাল ৭২, গুটি স্বর্ণা চাল ৫০, নাজির শাইল ৮০ টাকা, পাইজাম চাল ৫৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডাল দেশি প্রতিকেজি ১২৫-১৩৫ টাকা এবং আমদানি মসুর ডাল ৯৫-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অ্যাঙ্কর ডাল প্রতিকেজি ৬৫ টাকা। মুগ ডাল প্রতিকেজি ১৩০ টাকায়।

মাংসের বাজার

সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রতিকেজি ব্রয়লার ২৪০ টাকা, লাল মুরগি প্রতিকেজি ৩৫০ টাকা, বড় সাইজের সোনালি এবং কক প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৩৬০ টাকায়। দেশি পাতি হাঁস প্রতিটি ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতিকেজি হাড়সহ ৭৩০-৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি খাসির মাংসের দাম এখন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত। ছাগলের মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার

বাজারে আধাকেজি ওজনের বেশি ইলিশের দাম ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। এক কেজি বা তার ওপর ওজনের ইলিশের দর ১৬০০ টাকা। এক কেজি ওজনের রুই মাছের দাম ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। কাতল মাছের কেজি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। কাচকি মাছ ৪৫০-৫০০ টাকায়, ট্যাংরা ৬০০-৭০০ টাকা, আইড় মাছ ৭০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাশ মাছ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। সিলভার কাপ ২০০ টাকা, পোয়া ৪০০ থেকে বাজার ভেদে ৪৫০ টাকা। কার্প মাছের কেজি ২৫০ থেকে বাজারভেদে ৩০০ টাকা।

Tag :

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে

নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে

Update Time : ০৯:৫৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ মে ২০২৩

জিনিসপত্রের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যে নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

শুক্রবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) খুচরা বাজারদরের তালিকা পর্যালোচনা করে দাম বাড়ার চিত্র দেখা গেছে।

ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যেই সবজির বাজারে যেন ‘আগুন’ লেগেছে। বেড়েছে মসলার দামও। রমজানে যে পেঁপের কেজি ছিল ৪০ টাকা, বতর্মানে তা ৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। দাম বেড়েছে করলা, লাউ, ধুন্দুল, বরবটিসহ আরও অনেক সবজির। ফলে সবজি কেনা এখন সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য।

এদিকে বেড়েছে চিনি ও পেঁয়াজের দামও। কয়েকদিন আগে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া খোলা চিনি বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। আর হঠাৎ করেই পেঁয়াজ কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকায়।

সবজির বাজার

এ সপ্তাহে সবজির বাজারে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় আছে পেঁপে, লাউ, করলা, উস্তা, কচুর লতি, বরবটি, ধুন্দুল, সজনে ডাঁটা এবং কাঁকরোল। আর অন্যান্য সব সবজির দাম আগের মতোই আছে।

প্রতিকেজি সজনে বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকায়। বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। ১ কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা, যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ৩৫-৪০ টাকা। প্রতিকেজি লতি, করলা, উস্তা, চিচিঙ্গা, বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ১০০-১২০ টাকা।

কম দামি সবজির মধ্যে প্রতিকেজি পাকা টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। মিষ্টিকুমড়া প্রতি পিস কাঁচা ৪০ এবং পাকাটা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আলু প্রতিকেজি ৩৫-৪০ টাকায়। লেবু হালি ৩৫-৪০ টাকা। আর সব ধরনের শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকায়।

চাল ও ডালের বাজার

সপ্তাহের ব্যবধানে চাল ও ডালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আটাশ চাল ৫৫ টাকা, মিনিকেট চাল ৭২, গুটি স্বর্ণা চাল ৫০, নাজির শাইল ৮০ টাকা, পাইজাম চাল ৫৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডাল দেশি প্রতিকেজি ১২৫-১৩৫ টাকা এবং আমদানি মসুর ডাল ৯৫-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অ্যাঙ্কর ডাল প্রতিকেজি ৬৫ টাকা। মুগ ডাল প্রতিকেজি ১৩০ টাকায়।

মাংসের বাজার

সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রতিকেজি ব্রয়লার ২৪০ টাকা, লাল মুরগি প্রতিকেজি ৩৫০ টাকা, বড় সাইজের সোনালি এবং কক প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৩৬০ টাকায়। দেশি পাতি হাঁস প্রতিটি ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতিকেজি হাড়সহ ৭৩০-৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি খাসির মাংসের দাম এখন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত। ছাগলের মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার

বাজারে আধাকেজি ওজনের বেশি ইলিশের দাম ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। এক কেজি বা তার ওপর ওজনের ইলিশের দর ১৬০০ টাকা। এক কেজি ওজনের রুই মাছের দাম ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। কাতল মাছের কেজি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। কাচকি মাছ ৪৫০-৫০০ টাকায়, ট্যাংরা ৬০০-৭০০ টাকা, আইড় মাছ ৭০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাশ মাছ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। সিলভার কাপ ২০০ টাকা, পোয়া ৪০০ থেকে বাজার ভেদে ৪৫০ টাকা। কার্প মাছের কেজি ২৫০ থেকে বাজারভেদে ৩০০ টাকা।