ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেছন থেকে লোকজন চিৎকার করলেও গাড়ি থামাননি জাফর শাহ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:২১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০২২
  • ২৭৬ Time View

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকায় শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় রুবিনা আক্তার (৪৫) নামে এক নারী নিহত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আজাহার জাফর শাহের প্রাইভেটকারের নিচে চাপা পড়ে মারা যান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রুবিনা আক্তার তার দেবর নূরুল আমিনের (৪০) বাইকে করে যাচ্ছিলেন। প্রাইভেটকার চালক পেছন থেকে তাদের ধাক্কা দেন। এ সময় ওই নারী প্রাইভেটকারের নিচে চাপা পড়েন এবং তার পোশাক বাম্পারে জড়িয়ে তিনি গাড়ির নিচে আটকা পড়েন। তাকে ঝুলিয়ে নিয়ে চালক নীলক্ষেতের দিকে যেতে থাকেন।

এ সময় নুরুল আমিন নিজেকে সামলে উঠে দাঁড়িয়ে দেখেন তার ভাবি গাড়ির নিচে এবং বেপরোয়া গতিতে ছুটে চলেছে গাড়িটি। এ অবস্থা দেখে তিনি গাড়ির পেছনে ছুটতে থাকেন। একপর্যায়ে টিএসসি এলাকায় থাকা লোকজন গাড়িটির পিছু নিয়ে থামানোর জন্য চিৎকার করতে থাকেন। এরপরও চালক জাফর শাহ গাড়ি থামাননি।

এক কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে নীলক্ষেত মোড় ঘুরে পলাশী অভিমুখী যাওয়ার সময় জনতা তাকে আটক করেন।

পরে গাড়ির নিচ থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ওই নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ সময় জনতা গাড়ির চালককে গণপিটুনি দিয়ে মারাত্মক আহত করেন এবং গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে পুলিশ এসে জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং চালককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহাবাগ থানার ওসি নুর মোহাম্মদ বলেন, আহত নারী মারা গেছেন। চালক ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।

Tag :

পেছন থেকে লোকজন চিৎকার করলেও গাড়ি থামাননি জাফর শাহ

Update Time : ০৫:২১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০২২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকায় শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় রুবিনা আক্তার (৪৫) নামে এক নারী নিহত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আজাহার জাফর শাহের প্রাইভেটকারের নিচে চাপা পড়ে মারা যান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রুবিনা আক্তার তার দেবর নূরুল আমিনের (৪০) বাইকে করে যাচ্ছিলেন। প্রাইভেটকার চালক পেছন থেকে তাদের ধাক্কা দেন। এ সময় ওই নারী প্রাইভেটকারের নিচে চাপা পড়েন এবং তার পোশাক বাম্পারে জড়িয়ে তিনি গাড়ির নিচে আটকা পড়েন। তাকে ঝুলিয়ে নিয়ে চালক নীলক্ষেতের দিকে যেতে থাকেন।

এ সময় নুরুল আমিন নিজেকে সামলে উঠে দাঁড়িয়ে দেখেন তার ভাবি গাড়ির নিচে এবং বেপরোয়া গতিতে ছুটে চলেছে গাড়িটি। এ অবস্থা দেখে তিনি গাড়ির পেছনে ছুটতে থাকেন। একপর্যায়ে টিএসসি এলাকায় থাকা লোকজন গাড়িটির পিছু নিয়ে থামানোর জন্য চিৎকার করতে থাকেন। এরপরও চালক জাফর শাহ গাড়ি থামাননি।

এক কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে নীলক্ষেত মোড় ঘুরে পলাশী অভিমুখী যাওয়ার সময় জনতা তাকে আটক করেন।

পরে গাড়ির নিচ থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ওই নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ সময় জনতা গাড়ির চালককে গণপিটুনি দিয়ে মারাত্মক আহত করেন এবং গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে পুলিশ এসে জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং চালককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহাবাগ থানার ওসি নুর মোহাম্মদ বলেন, আহত নারী মারা গেছেন। চালক ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।