ঢাকা ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর-হামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৪ বাংলা কিউআর লেনদেনে ২ হাজার টাকায় ৬ টাকা প্রণোদনা ফরিদপুরে তালা কেটে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিসহ  স্বর্ণালংকার লুট, ৬ দিনেই উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ নির্মাণাধীন স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে সরকারের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপকর্মে জড়ালে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘেও ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ইতোমধ্যেই ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে, ‘বিপুল পরিমাণ তেল’ যাচ্ছে: ট্রাম্প আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা আজকের নামাজের সময়সূচি : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফের সন্ত্রাসী হামলার আশংকায় নিরাপত্তাহীনতায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

  • মাহবুব পিয়াল
  • Update Time : ০২:০৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই ২০২২
  • ৩২০ Time View

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় সদলবলে হামলা চালিয়ে স্ত্রী, শাশুড়ি ও স্ত্রীর বোনদের মারপিট, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্বামী জুবায়ের খানের বিরুদ্ধে। এসময় ওই বাড়ির মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন মোল্লার ৮২ বছর বয়স্ক বিধবা পতিœকেও মারধোর করে আহত করা হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও বুধবার পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। হামলাকারীরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা গ্রহণ এবং হামলার সাথে জড়িতদের পুলিশ আটক করছেনা বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দাখিলের পর আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জুবায়ের ও তার সহযোগীরা। ফের হামলার আশংকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটির সদস্যরা। অভিযুক্ত স্বামী জুবায়ের খানের অভিযোগ, তাকে শশুড় বাড়ীতে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য উল্টো আহত করা হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে ও অভিযোগে জানা গেছে, ভাঙ্গা পৌর এলাকার কাপুড়িয়া সদরদি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন মোল্লার নাতি আন্নি আক্তারের (২২) সাথে পাঁচ বছর আগে একই মহল্লার আলমগীর খানের ছেলে জুবায়ের খানের (২৫) বিয়ে হয় ভালোবাসার সম্পর্কে। তাদের দুই বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। তবে বিয়ের এক বছর না যেতেই জুবায়ের যৌতুকের জন্য আন্নিকে মারধর করতো। এর আগে যৌতুকের জন্য আন্নিকে মেরে রক্তাক্ত জখমের পর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। মাঝেমধ্যেই মোবাইলে পরিবারের সদস্যদের এসব কথা জানিয়ে আন্নি কান্নাকাটি করতো। এভাবে কয়েকবার তাকে বাড়ি নিয়ে এলে স্বামীর বাড়ির লোকেরা লোকজনকে বলে কয়ে আবার শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যেতো। সম্প্রতি, আন্নি বাবার বাড়ীতে চলে আসে। আন্নির মা মারজানা বেগম অভিযোগ করেন, গত ১৫ জুলাই দুপুরে জুবায়ের ও তার বাড়ির প্রায় ১৫ জনের একদল নারী পুরুষ তাদের বাড়িতে হামলা করে। তারা নির্মমভাবে তার তিন মেয়ে আন্নি, মনিরা ও এথিনা এবং ছোট মেয়ের জামাই মিঠুকে লাঠি ও রড দিয়ে মারপিট করে। এসময় তার বয়োবৃদ্ধ মা, বীর মুত্তিযোদ্ধার স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৮২) কেও চুলির মুঠি ধরে মারপিট করে। এরপর তারা আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং ওয়্যারড্রবে রাখা ১৪ ভরি সোনার গহনা নিয়ে যায়। তাদের হাতে লাঠিসোটা ছাড়াও ছ্যান, রামদা ছিলো।
মারজানা বেগম আরো বলেন, আমার চারটি মেয়ে। কোন ছেলে নেই। ফলে আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যে কোন সময় তারা ফের আমাদের বাড়ীতে এসে হামলা চালাতে পারে।
আন্না আক্তার বলেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করা হচ্ছে। তার স্বামী জুবায়ের তার ও মেয়ের কোন ভরণপোষণও দেয়না। সম্প্রতি, আমার মা জমি বিক্রি করে বেশ কিছু টাকা পায়। সেই টাকা থেকে ২০ লাখ টাকা চায় জুবায়ের। আমি ও আমার পরিবার টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমাকে মারপিট করে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালানো হয়।
এ ব্যাপারে জানতে জুবায়ের খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঈদের আগে তার নানু মারা যান। শুক্রবার তাঁর মিলাদ ছিলো। এজন্য মেয়েকে আনতে তিনি তার মামা শ্বশুড়ের অনুমতি নিয়ে শশুড় বাড়ি গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গেলে তাকে মেরে ফেলার জন্য হামলা করা হয়। খবর পেয়ে তার স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করেন।
ভাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) মো. আবু তাহের বলেন, এ ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, ফের সন্ত্রাসী হামলার আশংকা এবং ন্যায় বিচারের দাবীতে মঙ্গলবার রাতে জেলা পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামানের সাথে দেখা করেছে মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন মোল্লার পরিবারটির সদস্যরা। পুলিশ সুপার মো: আলিমুজ্জামান বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে জানান।

Tag :

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর-হামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৪

ফের সন্ত্রাসী হামলার আশংকায় নিরাপত্তাহীনতায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

Update Time : ০২:০৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই ২০২২

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় সদলবলে হামলা চালিয়ে স্ত্রী, শাশুড়ি ও স্ত্রীর বোনদের মারপিট, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্বামী জুবায়ের খানের বিরুদ্ধে। এসময় ওই বাড়ির মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন মোল্লার ৮২ বছর বয়স্ক বিধবা পতিœকেও মারধোর করে আহত করা হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও বুধবার পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। হামলাকারীরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা গ্রহণ এবং হামলার সাথে জড়িতদের পুলিশ আটক করছেনা বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দাখিলের পর আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জুবায়ের ও তার সহযোগীরা। ফের হামলার আশংকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটির সদস্যরা। অভিযুক্ত স্বামী জুবায়ের খানের অভিযোগ, তাকে শশুড় বাড়ীতে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য উল্টো আহত করা হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে ও অভিযোগে জানা গেছে, ভাঙ্গা পৌর এলাকার কাপুড়িয়া সদরদি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন মোল্লার নাতি আন্নি আক্তারের (২২) সাথে পাঁচ বছর আগে একই মহল্লার আলমগীর খানের ছেলে জুবায়ের খানের (২৫) বিয়ে হয় ভালোবাসার সম্পর্কে। তাদের দুই বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। তবে বিয়ের এক বছর না যেতেই জুবায়ের যৌতুকের জন্য আন্নিকে মারধর করতো। এর আগে যৌতুকের জন্য আন্নিকে মেরে রক্তাক্ত জখমের পর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। মাঝেমধ্যেই মোবাইলে পরিবারের সদস্যদের এসব কথা জানিয়ে আন্নি কান্নাকাটি করতো। এভাবে কয়েকবার তাকে বাড়ি নিয়ে এলে স্বামীর বাড়ির লোকেরা লোকজনকে বলে কয়ে আবার শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যেতো। সম্প্রতি, আন্নি বাবার বাড়ীতে চলে আসে। আন্নির মা মারজানা বেগম অভিযোগ করেন, গত ১৫ জুলাই দুপুরে জুবায়ের ও তার বাড়ির প্রায় ১৫ জনের একদল নারী পুরুষ তাদের বাড়িতে হামলা করে। তারা নির্মমভাবে তার তিন মেয়ে আন্নি, মনিরা ও এথিনা এবং ছোট মেয়ের জামাই মিঠুকে লাঠি ও রড দিয়ে মারপিট করে। এসময় তার বয়োবৃদ্ধ মা, বীর মুত্তিযোদ্ধার স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৮২) কেও চুলির মুঠি ধরে মারপিট করে। এরপর তারা আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং ওয়্যারড্রবে রাখা ১৪ ভরি সোনার গহনা নিয়ে যায়। তাদের হাতে লাঠিসোটা ছাড়াও ছ্যান, রামদা ছিলো।
মারজানা বেগম আরো বলেন, আমার চারটি মেয়ে। কোন ছেলে নেই। ফলে আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যে কোন সময় তারা ফের আমাদের বাড়ীতে এসে হামলা চালাতে পারে।
আন্না আক্তার বলেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করা হচ্ছে। তার স্বামী জুবায়ের তার ও মেয়ের কোন ভরণপোষণও দেয়না। সম্প্রতি, আমার মা জমি বিক্রি করে বেশ কিছু টাকা পায়। সেই টাকা থেকে ২০ লাখ টাকা চায় জুবায়ের। আমি ও আমার পরিবার টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমাকে মারপিট করে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালানো হয়।
এ ব্যাপারে জানতে জুবায়ের খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঈদের আগে তার নানু মারা যান। শুক্রবার তাঁর মিলাদ ছিলো। এজন্য মেয়েকে আনতে তিনি তার মামা শ্বশুড়ের অনুমতি নিয়ে শশুড় বাড়ি গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গেলে তাকে মেরে ফেলার জন্য হামলা করা হয়। খবর পেয়ে তার স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করেন।
ভাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) মো. আবু তাহের বলেন, এ ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, ফের সন্ত্রাসী হামলার আশংকা এবং ন্যায় বিচারের দাবীতে মঙ্গলবার রাতে জেলা পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামানের সাথে দেখা করেছে মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন মোল্লার পরিবারটির সদস্যরা। পুলিশ সুপার মো: আলিমুজ্জামান বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে জানান।