ঢাকা ০১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের সামরিক সক্ষমতার হিসাব-নিকাশ

ভারতশাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার জেরে স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার প্রথম প্রহরে পাকিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ৯টি স্থানে হামলা চালিয়েছে ভারত। পাকিস্তানের তরফ থেকেও ভারতের ছয়টি স্থানে হামলা হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উপমহাদেশের দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। এর প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে চর্চা চলছে।

বৈশ্বিক অবস্থান

আন্তর্জাতিক সামরিক শক্তি পর্যবেক্ষক সংস্থা গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ভারত বিশ্বের চতুর্থ সামরিক শক্তি। অন্যদিকে সামরিক শক্তিতে বিশ্বের ১৪৫টি দেশের মধ্যে ১২তম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান।

সেনাবাহিনী ও অস্ত্রভাণ্ডার

সেনাসংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে ভারত। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের মতে, ভারতের মোট সক্রিয় সেনা সাড়ে ১৪ লাখের কিছু বেশি।

অন্যদিকে পাকিস্তানের সেনাসংখ্যা সাড়ে ছয় লাখের কিছু বেশি। রিজার্ভ সেনা বা প্যারামিলিটারি বাহিনীর ক্ষেত্রেও এগিয়ে ভারত।স্থলভাগের শক্তি বিবেচনায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ভারত। তবে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র সেলফ প্রোপেলড আর্টিলারি ও মোবাইল রকেট প্রোজেক্টর বা রকেট লঞ্চারের সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের সেলফ প্রোপেলড আর্টিলারির সংখ্যা ৬৬২, ভারতের ১০০। পাকিস্তানের মোবাইল রকেট প্রোজেক্টর ৬০০, ভারতের ২৬৪।অন্য বেশ কিছু দিকে সংখ্যায় এগিয়ে ভারত। ভারতের ট্যাংক চার হাজার ২০১টি, সাঁজোয়া যান এক লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৪টি, টোওড আর্টিলারি বা টেনে নেওয়ার কামান তিন হাজার ৯৭৫টি। অন্যদিকে পাকিস্তানের ট্যাংক রয়েছে দুই হাজার ৬২৭টি, সাঁজোয়া যান ১৭ হাজার ৫১৬টি, টোওড আর্টিলারি দুই হাজার ৬২৯টি।

আকাশ ও নৌ শক্তি

বিমানবাহিনীতেও ভারত এগিয়ে আছে। ভারতের বিমানবাহিনীর অধীনে রয়েছে ৩১টি স্কোয়াড্রন, প্রতিটি স্কোয়াড্রনে ১৭ থেকে ১৮টি যুদ্ধবিমান থাকে। অন্যদিকে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর রয়েছে ১১টি স্কোয়াড্রন।

গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কাছে মোট দুই হাজার ২২৯টি বিমান রয়েছে, যেখানে পাকিস্তানের আছে এক হাজার ৩৯৯টি।

পাকিস্তানের কাছে আছে ৪১৮টি যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে ৯০টি বোমারু বিমান। বিপরীতে ভারতের রয়েছে ৬৪৩টি যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে ১৩০টি বোমারু বিমান।

নৌবাহিনীর ক্ষেত্রেও ভারত এগিয়ে আছে। ভারতের রয়েছে ১৬টি সাবমেরিন, ১১টি ডেস্ট্রয়ার, ১৬টি ফ্রিগেট ও দুটি বিমানবাহী রণতরি। পাকিস্তানের আছে আটটি সাবমেরিন ও ১০টি ফ্রিগেট।

বাজেট ও পারমাণবিক অস্ত্র

ভারতের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট বর্তমানে প্রায় ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা পাকিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি। তবে পরমাণু অস্ত্রের দিক থেকে দুই দেশই প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে। ভারতে আনুমানিক ১৮০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, আর পাকিস্তানে আছে আনুমানিক ১৭০টি। তবে দুই দেশের কয়টি ওয়ারহেড ঠিক অপারেশনাল বা প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানা যায় না। সূত্র : গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার, বিবিসি

Tag :

ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের সামরিক সক্ষমতার হিসাব-নিকাশ

Update Time : ০১:২২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫
ভারতশাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার জেরে স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার প্রথম প্রহরে পাকিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ৯টি স্থানে হামলা চালিয়েছে ভারত। পাকিস্তানের তরফ থেকেও ভারতের ছয়টি স্থানে হামলা হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উপমহাদেশের দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। এর প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে চর্চা চলছে।

বৈশ্বিক অবস্থান

আন্তর্জাতিক সামরিক শক্তি পর্যবেক্ষক সংস্থা গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ভারত বিশ্বের চতুর্থ সামরিক শক্তি। অন্যদিকে সামরিক শক্তিতে বিশ্বের ১৪৫টি দেশের মধ্যে ১২তম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান।

সেনাবাহিনী ও অস্ত্রভাণ্ডার

সেনাসংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে ভারত। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের মতে, ভারতের মোট সক্রিয় সেনা সাড়ে ১৪ লাখের কিছু বেশি।

অন্যদিকে পাকিস্তানের সেনাসংখ্যা সাড়ে ছয় লাখের কিছু বেশি। রিজার্ভ সেনা বা প্যারামিলিটারি বাহিনীর ক্ষেত্রেও এগিয়ে ভারত।স্থলভাগের শক্তি বিবেচনায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ভারত। তবে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র সেলফ প্রোপেলড আর্টিলারি ও মোবাইল রকেট প্রোজেক্টর বা রকেট লঞ্চারের সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের সেলফ প্রোপেলড আর্টিলারির সংখ্যা ৬৬২, ভারতের ১০০। পাকিস্তানের মোবাইল রকেট প্রোজেক্টর ৬০০, ভারতের ২৬৪।অন্য বেশ কিছু দিকে সংখ্যায় এগিয়ে ভারত। ভারতের ট্যাংক চার হাজার ২০১টি, সাঁজোয়া যান এক লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৪টি, টোওড আর্টিলারি বা টেনে নেওয়ার কামান তিন হাজার ৯৭৫টি। অন্যদিকে পাকিস্তানের ট্যাংক রয়েছে দুই হাজার ৬২৭টি, সাঁজোয়া যান ১৭ হাজার ৫১৬টি, টোওড আর্টিলারি দুই হাজার ৬২৯টি।

আকাশ ও নৌ শক্তি

বিমানবাহিনীতেও ভারত এগিয়ে আছে। ভারতের বিমানবাহিনীর অধীনে রয়েছে ৩১টি স্কোয়াড্রন, প্রতিটি স্কোয়াড্রনে ১৭ থেকে ১৮টি যুদ্ধবিমান থাকে। অন্যদিকে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর রয়েছে ১১টি স্কোয়াড্রন।

গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কাছে মোট দুই হাজার ২২৯টি বিমান রয়েছে, যেখানে পাকিস্তানের আছে এক হাজার ৩৯৯টি।

পাকিস্তানের কাছে আছে ৪১৮টি যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে ৯০টি বোমারু বিমান। বিপরীতে ভারতের রয়েছে ৬৪৩টি যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে ১৩০টি বোমারু বিমান।

নৌবাহিনীর ক্ষেত্রেও ভারত এগিয়ে আছে। ভারতের রয়েছে ১৬টি সাবমেরিন, ১১টি ডেস্ট্রয়ার, ১৬টি ফ্রিগেট ও দুটি বিমানবাহী রণতরি। পাকিস্তানের আছে আটটি সাবমেরিন ও ১০টি ফ্রিগেট।

বাজেট ও পারমাণবিক অস্ত্র

ভারতের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট বর্তমানে প্রায় ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা পাকিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি। তবে পরমাণু অস্ত্রের দিক থেকে দুই দেশই প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে। ভারতে আনুমানিক ১৮০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, আর পাকিস্তানে আছে আনুমানিক ১৭০টি। তবে দুই দেশের কয়টি ওয়ারহেড ঠিক অপারেশনাল বা প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানা যায় না। সূত্র : গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার, বিবিসি