ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আরেকটি বিপ্লব আসন্ন, প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান শেষ মুহুর্তে শেখ হাসিনার সাথে যা ঘটেছিল! আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানকে ‘খুব কঠোরভাবে আঘাত’ করা হবে: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা দিল্লিতে শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধনের পর ঘুরে ঘুরে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আজ ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজকের নামাজের সময়সূচি: ৫ আগস্ট ২০২৬

আবারও লোকারণ্য ঢাকা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:২৩:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুলাই ২০২১
  • ৩২২ Time View
কোরবানির ঈদ বিবেচনায় টানা ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন শিথিলতার দ্বিতীয় দিন  আজ শুক্রবার। কিন্তু এই শিথিলতায় যেন স্বাস্থ্যবিধিহীন হয়ে ধরা দিল রাজধানী। দোকানপাট, শপিংমল, বাস-ট্রাক, ফুটপাত; সবখানেই ছিল মানুষের ভিড়। এসবের কোথাও মানা হয়নি সামাজিক দূরত্ব। নাড়ির টানে বাড়ি যেতেও বাস টার্মিনালে ছিল উপচেপড়া মানুষ। অনেকে আবার আগাম টিকিট নিতে কাউন্টারে জমান ভিড়। সব মিলিয়ে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবারও গাবতলী, মহাখালী, কল্যাণপুর, সায়দাবাদ বাস কাউন্টারগুলোর সামনে মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। এদের অনেকেই ছিলেন মাস্কহীন। যারা মাস্ক পরেছেন, তারাও নামিয়ে রেখেছেন নাকের নিচে। অনেকে আবার টিকিট কেনার ফাঁকে চায়ের দোকানে গাদাগাদি করে বসে দিচ্ছেন আড্ডা। কারও মাঝেই সামাজিক দূরত্ব তো ছিলই না, বরং গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেক স্থানে চলেছে ধাক্কাধাক্কিও।
গুলিস্তান, মতিঝিলের ফুটপাতে বসতে দেখা গেছে কাপড়ের দোকান। সেখানে ক্রেতা কম থাকলেও তাদের মধ্যে ছিল না স্বাস্থ্যবিধির বালাই। বড় বড় শপিং মলগুলোতে শুধু ঢোকার মুখেই যত স্বাস্থ্যবিধি। ঢোকার পর যা তা-ই। পাশাপাশি বসে কাপড়চোপড় দেখছেন ক্রেতারা। যদিও অধিকাংশ এলাকার পোশাকের দোকান ছিল ক্রেতাহীন।
এদিকে রাজধানীর মধ্যে চলমান গণপরিবহনে ওঠার সময় দেখা যায়নি স্যানিটাইজার দিতে। অধিকাংশ হেলপারের পরা ছিল না মাস্ক। অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলের কথা থাকলেও কিছু বাসের ভেতরে বেশি যাত্রী নিতে দেখা গেছে। অনেক বাসে আবার দাঁড়িয়েও ছিলেন যাত্রীরা। সিএনজি, লেগুনাতেও ছিল একই অবস্থা। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানার কথা অস্বীকার করেছেন প্রতিটি সেক্টরের সংশ্লিষ্টরা।
আজিমপুরের একটি পরিবহনের হেলপার খোকন জানান, যাত্রীরাই কথা শুনছেন না। তারা যদি সচেতন না হন, আমরা কী করে মানাতে পারবো। গেটে হ্যান্ড সেনিটাইজার প্রসঙ্গে তিনি একটি কোল্ডড্রিংসের বোতল দেখিয়ে বললেন, এই দেখেন, আমরা স্যানিটাইজার রাখি। কিন্তু যাত্রীরা ব্যবহার করেন না। কোনো স্যানিটাইজার রেখেছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দিতে পারেননি। তবে এই প্রতিবেদক হাতে মেখে তাতে পানি ছাড়া কিছুই পাননি। ছিল না অ্যালকোহলিক গন্ধও।
নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী রাহাত মৃধা বলেন, আজকে (শুক্রবার) দ্বিতীয় দিন। কিছু মানুষ আসছেন। সব সময় চেষ্টা করছি স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার।
মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক  বলেন, ঈদ উপলক্ষে টিকিট বিক্রি চলছে। আমরা সব সময়ই চেয়েছি সরকার নির্ধারিত বিধিনিষেধ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবহন চালু রাখতে। প্রতিটি গাড়ি আগে থেকে স্যানিটাইজ করা হচ্ছে, স্প্রে করা হচ্ছে। যাত্রীরা যখন উঠছেন তখন তাদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাসে ওঠার সময় তাদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোঁয়ানো হচ্ছে, জুতায় বা ব্যাগে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। বাসের হেলপার বা চালক ছাড়া এই কাজগুলো নিশ্চিত করতে আমাদের নিজস্ব আলাদা লোকবল কাজ করছে। আবার টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর পথেও যেন স্বাস্থ্যবিধি ঠিক থাকে তার জন্য যাত্রাপথের বিভিন্ন স্থানে মালিক ও শ্রমিক সংগঠন মিলে চেকপোস্ট বসিয়ে প্রতি বাসে তল্লাশি করা হচ্ছে।
Tag :

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আরেকটি বিপ্লব আসন্ন, প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান

আবারও লোকারণ্য ঢাকা

Update Time : ০৯:২৩:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুলাই ২০২১
কোরবানির ঈদ বিবেচনায় টানা ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন শিথিলতার দ্বিতীয় দিন  আজ শুক্রবার। কিন্তু এই শিথিলতায় যেন স্বাস্থ্যবিধিহীন হয়ে ধরা দিল রাজধানী। দোকানপাট, শপিংমল, বাস-ট্রাক, ফুটপাত; সবখানেই ছিল মানুষের ভিড়। এসবের কোথাও মানা হয়নি সামাজিক দূরত্ব। নাড়ির টানে বাড়ি যেতেও বাস টার্মিনালে ছিল উপচেপড়া মানুষ। অনেকে আবার আগাম টিকিট নিতে কাউন্টারে জমান ভিড়। সব মিলিয়ে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবারও গাবতলী, মহাখালী, কল্যাণপুর, সায়দাবাদ বাস কাউন্টারগুলোর সামনে মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। এদের অনেকেই ছিলেন মাস্কহীন। যারা মাস্ক পরেছেন, তারাও নামিয়ে রেখেছেন নাকের নিচে। অনেকে আবার টিকিট কেনার ফাঁকে চায়ের দোকানে গাদাগাদি করে বসে দিচ্ছেন আড্ডা। কারও মাঝেই সামাজিক দূরত্ব তো ছিলই না, বরং গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেক স্থানে চলেছে ধাক্কাধাক্কিও।
গুলিস্তান, মতিঝিলের ফুটপাতে বসতে দেখা গেছে কাপড়ের দোকান। সেখানে ক্রেতা কম থাকলেও তাদের মধ্যে ছিল না স্বাস্থ্যবিধির বালাই। বড় বড় শপিং মলগুলোতে শুধু ঢোকার মুখেই যত স্বাস্থ্যবিধি। ঢোকার পর যা তা-ই। পাশাপাশি বসে কাপড়চোপড় দেখছেন ক্রেতারা। যদিও অধিকাংশ এলাকার পোশাকের দোকান ছিল ক্রেতাহীন।
এদিকে রাজধানীর মধ্যে চলমান গণপরিবহনে ওঠার সময় দেখা যায়নি স্যানিটাইজার দিতে। অধিকাংশ হেলপারের পরা ছিল না মাস্ক। অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলের কথা থাকলেও কিছু বাসের ভেতরে বেশি যাত্রী নিতে দেখা গেছে। অনেক বাসে আবার দাঁড়িয়েও ছিলেন যাত্রীরা। সিএনজি, লেগুনাতেও ছিল একই অবস্থা। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানার কথা অস্বীকার করেছেন প্রতিটি সেক্টরের সংশ্লিষ্টরা।
আজিমপুরের একটি পরিবহনের হেলপার খোকন জানান, যাত্রীরাই কথা শুনছেন না। তারা যদি সচেতন না হন, আমরা কী করে মানাতে পারবো। গেটে হ্যান্ড সেনিটাইজার প্রসঙ্গে তিনি একটি কোল্ডড্রিংসের বোতল দেখিয়ে বললেন, এই দেখেন, আমরা স্যানিটাইজার রাখি। কিন্তু যাত্রীরা ব্যবহার করেন না। কোনো স্যানিটাইজার রেখেছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দিতে পারেননি। তবে এই প্রতিবেদক হাতে মেখে তাতে পানি ছাড়া কিছুই পাননি। ছিল না অ্যালকোহলিক গন্ধও।
নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী রাহাত মৃধা বলেন, আজকে (শুক্রবার) দ্বিতীয় দিন। কিছু মানুষ আসছেন। সব সময় চেষ্টা করছি স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার।
মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক  বলেন, ঈদ উপলক্ষে টিকিট বিক্রি চলছে। আমরা সব সময়ই চেয়েছি সরকার নির্ধারিত বিধিনিষেধ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবহন চালু রাখতে। প্রতিটি গাড়ি আগে থেকে স্যানিটাইজ করা হচ্ছে, স্প্রে করা হচ্ছে। যাত্রীরা যখন উঠছেন তখন তাদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাসে ওঠার সময় তাদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোঁয়ানো হচ্ছে, জুতায় বা ব্যাগে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। বাসের হেলপার বা চালক ছাড়া এই কাজগুলো নিশ্চিত করতে আমাদের নিজস্ব আলাদা লোকবল কাজ করছে। আবার টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর পথেও যেন স্বাস্থ্যবিধি ঠিক থাকে তার জন্য যাত্রাপথের বিভিন্ন স্থানে মালিক ও শ্রমিক সংগঠন মিলে চেকপোস্ট বসিয়ে প্রতি বাসে তল্লাশি করা হচ্ছে।