ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই শেষ করতে হয়েছে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে এবার নতুন এক ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংগীতশিল্পী সঞ্জয় ফরিদপুর জেলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন মরক্কোর বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে নামতে পারে ব্রাজিল মরক্কো ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে বড় দুঃসংবাদ আদ্-দ্বীন থেকে রেফার্ড রোগীদের তাৎক্ষণিক ও যথাযথ চিকিৎসা দিতে ৬ হাসপাতালকে নির্দেশ আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা নিজেদের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতেছে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের তৃতীয় ও শেষ পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচে ‘অপরাজিত’ স্বাদ পেয়েছে কানাডা

ঈদকে সামনে রেখে গত দুই মাসে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার জাল টাকার নোট বাজারে ছেড়েছে একটি চক্র

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গত দুই মাসে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার জাল টাকার নোট বাজারে ছেড়েছে একটি চক্র। ঈদকে কেন্দ্র করে চক্রটি আরও দুই-তিন কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে এর আগেই তাদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগ।

সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, রাজধানীর লালবাগের কাশ্মীর লেন থেকে চক্রের নয় সদস্যকে রোববার আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন চক্রের মূল হোতা ও মহাজন খ্যাত বাবুল মিয়া, তার স্ত্রী মিনারা খাতুন, মূল কারিগর সাইফুল ইসলাম, তার স্ত্রী মিলি খাতুন, কারিগর আলপনা আক্তার, ইব্রাহিম, আফাজুল ওরফে রাসেল, হাবিবুল্লাহ ও দুলাল হোসেন।

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, গতকাল গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের লালবাগ জোনাল টিম লালবাগ থানার কাশ্মীরি লেন এলাকায় গোয়েন্দা সূত্র ধরে ইব্রাহিম, আফাজুল ওরফে রাসেল, হাবিবুল্লাহ ও দুলাল হোসেনকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৫ কোটি টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কাশ্মীর লেনে একটি জাল টাকার কারখানার সন্ধান দেন। তাদের দেখানো একটি ছয়তলা ভবনের ষষ্ঠতলা এবং তৃতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরির একটা ঘরোয়া কারখানার খোঁজ পায় ডিবি লালবাগ। সেখানে জাল টাকা তৈরিরত অবস্থায় কারখানার মহাজন বাবুল মিয়া, তার স্ত্রী মিনারা খাতুন, মূল কারিগর সাইফুল ইসলাম, তার স্ত্রী মিলি খাতুন, কারিগর আলপনা আক্তারকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি টিনের ট্রাংকে প্রস্তুত করে রাখা আরও ৮২ লাখ জাল টাকা জব্দ করা হয়।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, অভিযানের সময় ঘরোয়া কারখানা থেকে জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, প্রিন্টার, জলছাপযুক্ত বিশেষ কাগজ, বিভিন্ন রকমের মনোগ্রাম সংবলিত স্ক্রিন, ডাইস, বিভিন্ন রঙের কালি, কাগজ কাটার যন্ত্র, কাঁচি, চাকুসহ প্রায় দুই কোটি জাল টাকা তৈরি করার উপযোগী সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

ডিবির প্রধান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বাবুল জাল টাকা নিয়ে এ পর্যন্ত ছয়বার, তার স্ত্রী মিনারা খাতুন তিনবার এবং সাইফুল ইসলাম দুবার বিভিন্ন মেয়াদে জেলহাজতে ছিলেন। জামিনে মুক্তি পেতে তাদের লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। উচ্চ সুদে ধার নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে আবারও তারা একই কাজে জড়িত হন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান তিনি।

Tag :

পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই শেষ করতে হয়েছে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ

ঈদকে সামনে রেখে গত দুই মাসে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার জাল টাকার নোট বাজারে ছেড়েছে একটি চক্র

Update Time : ০৫:১৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জুন ২০২৩

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গত দুই মাসে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার জাল টাকার নোট বাজারে ছেড়েছে একটি চক্র। ঈদকে কেন্দ্র করে চক্রটি আরও দুই-তিন কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে এর আগেই তাদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগ।

সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, রাজধানীর লালবাগের কাশ্মীর লেন থেকে চক্রের নয় সদস্যকে রোববার আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন চক্রের মূল হোতা ও মহাজন খ্যাত বাবুল মিয়া, তার স্ত্রী মিনারা খাতুন, মূল কারিগর সাইফুল ইসলাম, তার স্ত্রী মিলি খাতুন, কারিগর আলপনা আক্তার, ইব্রাহিম, আফাজুল ওরফে রাসেল, হাবিবুল্লাহ ও দুলাল হোসেন।

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, গতকাল গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের লালবাগ জোনাল টিম লালবাগ থানার কাশ্মীরি লেন এলাকায় গোয়েন্দা সূত্র ধরে ইব্রাহিম, আফাজুল ওরফে রাসেল, হাবিবুল্লাহ ও দুলাল হোসেনকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৫ কোটি টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কাশ্মীর লেনে একটি জাল টাকার কারখানার সন্ধান দেন। তাদের দেখানো একটি ছয়তলা ভবনের ষষ্ঠতলা এবং তৃতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরির একটা ঘরোয়া কারখানার খোঁজ পায় ডিবি লালবাগ। সেখানে জাল টাকা তৈরিরত অবস্থায় কারখানার মহাজন বাবুল মিয়া, তার স্ত্রী মিনারা খাতুন, মূল কারিগর সাইফুল ইসলাম, তার স্ত্রী মিলি খাতুন, কারিগর আলপনা আক্তারকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি টিনের ট্রাংকে প্রস্তুত করে রাখা আরও ৮২ লাখ জাল টাকা জব্দ করা হয়।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, অভিযানের সময় ঘরোয়া কারখানা থেকে জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, প্রিন্টার, জলছাপযুক্ত বিশেষ কাগজ, বিভিন্ন রকমের মনোগ্রাম সংবলিত স্ক্রিন, ডাইস, বিভিন্ন রঙের কালি, কাগজ কাটার যন্ত্র, কাঁচি, চাকুসহ প্রায় দুই কোটি জাল টাকা তৈরি করার উপযোগী সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

ডিবির প্রধান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বাবুল জাল টাকা নিয়ে এ পর্যন্ত ছয়বার, তার স্ত্রী মিনারা খাতুন তিনবার এবং সাইফুল ইসলাম দুবার বিভিন্ন মেয়াদে জেলহাজতে ছিলেন। জামিনে মুক্তি পেতে তাদের লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। উচ্চ সুদে ধার নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে আবারও তারা একই কাজে জড়িত হন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান তিনি।