ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত: গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৯৩৮ ছাড়াল আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জিয়ার আদর্শে দেশ গঠনের ডাক প্রধানমন্ত্রীর ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-এর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ভারত: সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু ফরিদপুরে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের পুনর্মিলনী উপলক্ষে ক্রিকেট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত চিড়িয়াখানায় ‘ডনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ, দেখতে দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড ভিড় ঈদের ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন নগরবাসী আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা এক নজরে বিশ্ব সংবাদ: ২৯ মে ২০২৬

নিজেকে ঋণ খেলাপি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে শ্রীলঙ্কা

গত ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কা ঘোষণা দিয়েছে তারা সাময়িকভাবে তাদের সব বিদেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়বে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ঋণ পরিশোধ করা ‘অসম্ভব’ করে তুলেছে। এর মাধ্যমে কার্যত দেশটি নিজেকে ঋণ খেলাপি হিসেবে ঘোষণা করল।

মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব বিদেশি সরকার ও সংস্থা বিভিন্ন সময় শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দিয়েছে, তারা চাইলে আজ থেকে সে ঋণকে ক্যাপিটালাইজ করতে পারে। অর্থাৎ প্রাপ্য সুদের পরিমাণকে মূলধনের সঙ্গে যোগ করে দিতে পারে অথবা ঋণের অর্থ শ্রীলঙ্কান রুপিতে পরিশোধের বিকল্প বেছে নিতে পারে।

ঋণ খেলাপি হওয়ার জন্য নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার শূন্য হয়ে যাওয়াকেই দায়ী করেছে শ্রীলঙ্কা। যার জেরে তারা বিদেশ থেকে কোনও জিনিস আমদানি করতে পারছে না। প্রতিনিয়তই শ্রীলঙ্কার আর্থিক দুর্দশা চরমে উঠেছে। তেলের অভাবে অধিকাংশ স্থানে সাধারণ যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। তেলের অভাবে দেশের এক স্থান থেকে অন্যস্থানেও পণ্য সামগ্রী পাঠানো যাচ্ছে না। লোডশেডিং এখন শ্রীলঙ্কার রোজকার জীবনের সঙ্গী হয়েছে। অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পর্যান্ত খাবার মজুত নেই বলে জানা গিয়েছে। বহু স্থানে মানুষ আধপেটা খেয়েই দিন নির্বাহ করছে- এমন খবরও সূত্রে মিলেছে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, শ্রীলঙ্কা সরকার চেষ্টা করছে জরুরি পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে তা মোকাবিলা করার। ঋণ খেলাপির বিষয়টিকে তারা চূড়ান্ত ব্যবস্থা বলে বিবেচনা করছে। এর কারণ যাতে দেশের অর্থনীতিতে আর কোনও অবনতি না হয়।

আর্থিক মন্দার জেরে শ্রীলঙ্কায় ২২ মিলিয়ন মানুষের দুর্দশা যেমন চরমে উঠেছে তেমনি সাধারণ মানুষ রাস্তা নেমে এসে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। একাধিক স্থানে প্রায় প্রতিদিন অবরোধ করে বিক্ষোভ চলছে। প্রেসিডেন্ট প্যালেসেও ঢোকার চেষ্টা করেছে বিক্ষোভকারীরা। শ্রীলঙ্কার আর্থিক পরিস্থিতি যে ভালো নয় তা গত বছরই সামনে এনেছিল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক রেটিং প্রদানকারী সংস্থা। এমনকী শ্রীলঙ্কাকে আর ঋণ দেওয়া উচিত নয় বলেও তারা বারবার সতর্ক করেছিল।

Tag :

ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত: গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৯৩৮ ছাড়াল

নিজেকে ঋণ খেলাপি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে শ্রীলঙ্কা

Update Time : ০৩:১১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০২২

গত ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কা ঘোষণা দিয়েছে তারা সাময়িকভাবে তাদের সব বিদেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়বে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ঋণ পরিশোধ করা ‘অসম্ভব’ করে তুলেছে। এর মাধ্যমে কার্যত দেশটি নিজেকে ঋণ খেলাপি হিসেবে ঘোষণা করল।

মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব বিদেশি সরকার ও সংস্থা বিভিন্ন সময় শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দিয়েছে, তারা চাইলে আজ থেকে সে ঋণকে ক্যাপিটালাইজ করতে পারে। অর্থাৎ প্রাপ্য সুদের পরিমাণকে মূলধনের সঙ্গে যোগ করে দিতে পারে অথবা ঋণের অর্থ শ্রীলঙ্কান রুপিতে পরিশোধের বিকল্প বেছে নিতে পারে।

ঋণ খেলাপি হওয়ার জন্য নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার শূন্য হয়ে যাওয়াকেই দায়ী করেছে শ্রীলঙ্কা। যার জেরে তারা বিদেশ থেকে কোনও জিনিস আমদানি করতে পারছে না। প্রতিনিয়তই শ্রীলঙ্কার আর্থিক দুর্দশা চরমে উঠেছে। তেলের অভাবে অধিকাংশ স্থানে সাধারণ যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। তেলের অভাবে দেশের এক স্থান থেকে অন্যস্থানেও পণ্য সামগ্রী পাঠানো যাচ্ছে না। লোডশেডিং এখন শ্রীলঙ্কার রোজকার জীবনের সঙ্গী হয়েছে। অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পর্যান্ত খাবার মজুত নেই বলে জানা গিয়েছে। বহু স্থানে মানুষ আধপেটা খেয়েই দিন নির্বাহ করছে- এমন খবরও সূত্রে মিলেছে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, শ্রীলঙ্কা সরকার চেষ্টা করছে জরুরি পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে তা মোকাবিলা করার। ঋণ খেলাপির বিষয়টিকে তারা চূড়ান্ত ব্যবস্থা বলে বিবেচনা করছে। এর কারণ যাতে দেশের অর্থনীতিতে আর কোনও অবনতি না হয়।

আর্থিক মন্দার জেরে শ্রীলঙ্কায় ২২ মিলিয়ন মানুষের দুর্দশা যেমন চরমে উঠেছে তেমনি সাধারণ মানুষ রাস্তা নেমে এসে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। একাধিক স্থানে প্রায় প্রতিদিন অবরোধ করে বিক্ষোভ চলছে। প্রেসিডেন্ট প্যালেসেও ঢোকার চেষ্টা করেছে বিক্ষোভকারীরা। শ্রীলঙ্কার আর্থিক পরিস্থিতি যে ভালো নয় তা গত বছরই সামনে এনেছিল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক রেটিং প্রদানকারী সংস্থা। এমনকী শ্রীলঙ্কাকে আর ঋণ দেওয়া উচিত নয় বলেও তারা বারবার সতর্ক করেছিল।