ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খেলাফত মজলিস বরেণ্য কবি ও সাংবাদিক শেখ শামসুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা: বাংলা একাডেমি থেকে মরণোত্তর সম্মাননার দাবি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ব্যতীত আন্দোলন থামবে না: ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র আজকে কোন টিভি চ্যানেলে কোন খেলা চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, সেটি তাদের জন্য ‘খুবই খারাপ’ হবে: ট্রাম্প আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৫ জুলাই ২০২৬ দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল: হোয়াইট হাউস ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র অধিকৃত পশ্চিম তীরের গাজার মতো সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান ইসরায়েলি নিরাপত্তামন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। অন্ত্রে রক্তক্ষরণ বন্ধ হওয়ায় তার অবস্থাআগের চেয়ে এখন কিছুটা স্থিতিশীল। শনিবার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নতুন কিছু করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সিসিইউ থেকে ৭২০৫ নম্বর কেবিনে স্থানান্তরন করা হয়েছে বিএনপি প্রধানকে। গতকাল শনিবার সকালে খালেদা জিয়ার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নতুন করে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে তার রিপোর্ট পাওয়ার পর মডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তার চিকিৎসার ব্যাপারে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেবেন। তার শারীরের অবস্থা প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় দুবার মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বৈঠকে বসছেন। খালেদা জিয়ার স্বাস্ঞ্য পর্যালোচনা করে প্রতিদিনই ওষুধ দিচ্ছেন তারা। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শরীরের বিভিন্ন প্যারামিটার নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। সেগুলো ওপরে উঠানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। কয়েক দিন ধরেই কমে যাচ্ছে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা। রক্ত কিংবা ওষুধ দিয়ে তার মাত্রা বাড়ানো হচ্ছে। অতিরিক্ত রক্তও আর দেয়া যাচ্ছে না তাকে। এতে পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ বেড়ে যাচ্ছে। স্যুপ এবং ফলের জুস ছাড়া তিসি কোনো শক্ত খাবার খেতে পারছেন না। মাঝে মাঝে স্যালাইনের মাধ্যমে তার খাদ্য ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে।

ডা. জাহিদ বলেন, বর্তমান চিকিৎসায় খালেদা জিয়ার সুস্হ্য হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কম। বরং তার শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে । যত দিন যাচ্ছে তাঁর স্বাস্থ্য ঝুঁকি ততই বেড়ে যাচ্ছে। এখন তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সরকার তাঁকে বিদেশে যেতে অনুমতি দিচ্ছে না।

গত ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এভারকেয়ারের চিকিৎসক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ জনের একটি বিশেষ মেডিকেল টিম তার চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। ৭৭ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অনেক বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

এর আগে অসুস্থ্যতার জন্য টানা ২৬ দিন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত ৭ নভেম্বর বাসায় ফেরেন তিনি। এর আগে গত এপ্রিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে গত বছরের মার্চ পর্যন্ত ২৫ মাস কারাগারে ছিলেন খালেদা জিয়া। সে সময়ে তার সুচিকিৎসা না হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয় বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। তবে আওয়ামী লীগ বলছে, সরকার কারাগারে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়েছে খালেদা জিয়াকে।
Tag :
জনপ্রিয়

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খেলাফত মজলিস

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে

Update Time : ০৬:১১:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২১

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। অন্ত্রে রক্তক্ষরণ বন্ধ হওয়ায় তার অবস্থাআগের চেয়ে এখন কিছুটা স্থিতিশীল। শনিবার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নতুন কিছু করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সিসিইউ থেকে ৭২০৫ নম্বর কেবিনে স্থানান্তরন করা হয়েছে বিএনপি প্রধানকে। গতকাল শনিবার সকালে খালেদা জিয়ার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নতুন করে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে তার রিপোর্ট পাওয়ার পর মডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তার চিকিৎসার ব্যাপারে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেবেন। তার শারীরের অবস্থা প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় দুবার মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বৈঠকে বসছেন। খালেদা জিয়ার স্বাস্ঞ্য পর্যালোচনা করে প্রতিদিনই ওষুধ দিচ্ছেন তারা। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শরীরের বিভিন্ন প্যারামিটার নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। সেগুলো ওপরে উঠানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। কয়েক দিন ধরেই কমে যাচ্ছে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা। রক্ত কিংবা ওষুধ দিয়ে তার মাত্রা বাড়ানো হচ্ছে। অতিরিক্ত রক্তও আর দেয়া যাচ্ছে না তাকে। এতে পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ বেড়ে যাচ্ছে। স্যুপ এবং ফলের জুস ছাড়া তিসি কোনো শক্ত খাবার খেতে পারছেন না। মাঝে মাঝে স্যালাইনের মাধ্যমে তার খাদ্য ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে।

ডা. জাহিদ বলেন, বর্তমান চিকিৎসায় খালেদা জিয়ার সুস্হ্য হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কম। বরং তার শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে । যত দিন যাচ্ছে তাঁর স্বাস্থ্য ঝুঁকি ততই বেড়ে যাচ্ছে। এখন তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সরকার তাঁকে বিদেশে যেতে অনুমতি দিচ্ছে না।

গত ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এভারকেয়ারের চিকিৎসক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ জনের একটি বিশেষ মেডিকেল টিম তার চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। ৭৭ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অনেক বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

এর আগে অসুস্থ্যতার জন্য টানা ২৬ দিন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত ৭ নভেম্বর বাসায় ফেরেন তিনি। এর আগে গত এপ্রিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে গত বছরের মার্চ পর্যন্ত ২৫ মাস কারাগারে ছিলেন খালেদা জিয়া। সে সময়ে তার সুচিকিৎসা না হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয় বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। তবে আওয়ামী লীগ বলছে, সরকার কারাগারে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়েছে খালেদা জিয়াকে।