মিউজিয়ামের অন্দরে প্রবেশ করলে চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। ‘ফিউচার হিরোজ’ নামে একটি বিভাগ রয়েছে, সেখানে। সৃষ্টির মাধ্যমে উত্তরাধিকার রেখে যাওয়ার ভাবনা থেকেই এই নির্মাণকাজটি তৈরি।

পৃথিবীতে এখনও অনেক কিছু দেখার রয়েছে, তার কোনও ইয়োত্তা নেই। জ্যোতিষে যাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁদের অনেকেই সকালে উঠে খবরের কাগজে থাকা ভবিষ্যদ্বাণী দেখার অভ্যাস থাকে। সারাদিন কীভাবে কাটবে, গোটা মাস কেমন যাবে, আগামী বছর কেমন কাটবে, তার জানার কৌতূহলের শেষ থাকে না। তবে জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস না করলেও, ভবিষ্যত দেখার জন্য আগ্রহ থাকে সকলেরই। তবে এখন যে ভবিষ্যতের কথা বলা হচ্ছে, তা সেই ভবিষ্যত নয়। নবাগত প্রযুক্তির এক ভবিষ্যত চিত্র।


প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের জন্য খুলে দেওয়া হল দুবাইয়ের মিউজিয়াম অউ দ্য ফিউচার। বিশ্বের কাছে খুলে দেওয়া হয় এই অভিনব ও আধুনিক মিউজিয়ামের দরজা। মরুরাজ্য়ের রাজা শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম, সংযুক্ত আরব এমিরেটসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক, সরকারি কর্মকর্তা ও সংবাদ মাধ্যমের উপস্থিতিতে দুবাইয়ের এই বিশেষ মিউজিয়ামের উদ্বোধন হয়।

এই মিউজিয়ামে ৩৪৫টি আসন সহ একটি লেকচার হল রয়েছে। এটিতে একটি মাল্টি ইউজ হল রয়েছে, যেখানে এক হাজার লোক বসতে পারে। এর টিকিটের দাম প্রায় ২৯৪২ টাকা। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে এই হল।

কিলা ডিজাইন এই জাদুঘরের নকশা প্রস্তুত করেছে। কিলা ডিজাইন একটি দুবাই ভিত্তিক স্টুডিও। দুবাই ফিউচার ফাউন্ডেশনের জন্য এই জাদুঘরটি তৈরি করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণরূপে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি। এই জাদুঘর দর্শনার্থীদের নিয়ে যাবে ভবিষ্যতের যাত্রাপথে। তারা ২০৭১ সাল পর্যন্ত প্রযুক্তি ও বিশ্বকে দেখতে পারবে।


এই মিউজিয়ামে এমার্জিং টেকনোলজির বিকাশ ও পরীক্ষা করার জন্য কর্মশালার ব্যবস্থা রয়েছে। দুবাই ফিউচার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মহম্মদ আল গারগাভির মতে, এটি একটি জীবন্ত জাদুঘর। সুন্দর এই ভবনের দেওয়ালে অনেক কথা লেখা আছে। তার মধ্যে একটি হল, আমরা হয়তো একশো বছর বাঁচব না, কিন্তু আমাদের তৈরি পণ্যগুলি পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার পরেও আমাদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পারে।
এই জাদুঘরের ফ্রেম ফাইবারগ্লাস এবং স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে তৈরি। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ইতিমধ্যেই এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ১৪টি জাদুঘরের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি ৩,২৩,০০০ বর্গফুট এলাকাজুড়ে নির্মিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু বুর্জ খলিফার কাছে অবস্থিত।
“পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ভবন” হিসাবে ইতিমধ্যেই তকমা পেয়ে গিয়েছে দুবাইয়ের এই মিউজিয়াম অফ দ্য ফিউচার। জানা গিয়েছে, এই গোটা ভবনটি তৈরি করতে সময় লেগেছে ৯ বছর। ভবনটি দেখে মুগ্ধ হবেন সকলেই। নির্মাণকাজে বরাবরই সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে দুবাই। ৭৭ মিটার দীর্ঘ এই অসাধারণ দেখতে মিউজিয়ামটি প্রযুক্তিগত ভাবে ভবিষ্যতের পৃথিবী কেমন হবে তার এক ব্যাখ্যা দিয়েছে। গোটা নির্মাণে কোনো স্তম্ভ নেই। রোবটের মাধ্যমে বিশেষভাবে তৈরি করা হাজারেরও বেশি টুকরো দিয়ে এই ভবনটি তৈরি করা হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 





















