ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাতিসংঘের তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ‘অত্যন্ত ভুল’ বলে চ্যালেঞ্জ করে শেখ হাসিনার চিঠি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালালো কর্মীরা ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত: গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৯৩৮ ছাড়াল আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জিয়ার আদর্শে দেশ গঠনের ডাক প্রধানমন্ত্রীর ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-এর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ভারত: সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু ফরিদপুরে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের পুনর্মিলনী উপলক্ষে ক্রিকেট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত চিড়িয়াখানায় ‘ডনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ, দেখতে দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড ভিড় ঈদের ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন নগরবাসী

রাশিয়ার ‘বিশ্বসেরা’ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সারমাত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আঘাত হানতে এবং পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম

গত বুধবারই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আঘাত হানতে এবং পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম ‘বিশ্বসেরা’ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সারমাতের সফল পরীক্ষা চালায় রাশিয়া। এবার শোনা যাচ্ছে ওই ক্ষেপণাস্ত্র এই বছরের শরৎকালেই মোতায়েন করার পরিকল্পনা করছে দেশটি।

রাশিয়ার রোসকসমস স্পেস এজেন্সি গত বুধবার সারমাত নামের পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ক্ষেপণাস্ত্রকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সারমাত মোট ১০ টন ওজনের পরমাণু ‘ওয়ারহেড’ বহন করতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্রটির নিজের ওজন দুইশ টন। এটি চলার পথ পরিবর্তন করতে সক্ষম, তাই এটিকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা কঠিন। এই ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপে আঘাত হানতে সক্ষম।

অনেক বছর ধরে চলছিল ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরির কাজ। বেশ কয়েকবার এর উৎক্ষেপণ পেছানোর পর এমন সময় এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালান হলো যখন ১৯৬২ সালে কিউবান মিসাইল সংকটের পর প্রথমবারের মতো ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে।

দিমিত্রি রোগজিন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র মস্কো থেকে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার পূর্বে সাইবেরিয়ার ক্রাসনোয়ারস্ক অঞ্চলে একটি ইউনিটের সঙ্গে মোতায়েন করা হবে।

রোগজিন আরও বলেন, এই ‘সুপার-অস্ত্র’ পরীক্ষা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। কারণ এটা পরবর্তী ৩০/৪০ বছরের জন্য রাশিয়ানদের পরবর্তী প্রজন্মেরও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবে।

ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর পুতিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাশিয়াকে যারা হুমকি দেয় এখন থেকে সেই শত্রুদের দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে হবে। ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল পরীক্ষার পর ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, সারমাত বিশ্বের যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাস্ত করতে সক্ষম।

পুতিনের ভাষায়, এই ক্ষেপণাস্ত্রের সমকক্ষ আর একটিও এখন পৃথিবীতে নেই এবং সামনের বহু বছরেও তা হবে না। এই ক্ষেপণাস্ত্র আসলেই একটি অদ্বিতীয় অস্ত্র। এটা রাশিয়ার যুদ্ধের সক্ষমতা অনেক বাড়াবে। যারা ক্ষিপ্তভাবে উগ্র ও আগ্রাসী কথাবার্তা বলে রাশিয়াকে হুমকি দেবার চেষ্টা করছে তাদের এখন থেকে দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে হবে।

প্রাচীন কালে রাশিয়া, ইউক্রেন এবং কাজাখস্তান অঞ্চলে বাস করা সারমাতিয়ান নামে একটি যাযাবর গোত্রের নামে এটির নামকরণ করা হয়েছে। ২০০০ সালে এই ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

দফায় দফায় এর নকশা ও কৌশলও পরিবর্তন করা হয়। এটা তৈরির খরচও বেড়েছে অনেকবার। ২০১৪ সালে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন সারমাত দক্ষিণ থেকে উত্তর মেরুতে উড়ে যেতে সক্ষম।

২০১৫ সালে এটি তৈরির কাজ শেষ হয় তবে এটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ বারবার পরিবর্তন হয়েছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এর একটি ‘প্রোটোটাইপ’ উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।

Tag :

জাতিসংঘের তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ‘অত্যন্ত ভুল’ বলে চ্যালেঞ্জ করে শেখ হাসিনার চিঠি

রাশিয়ার ‘বিশ্বসেরা’ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সারমাত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আঘাত হানতে এবং পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম

Update Time : ০৫:৩৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২

গত বুধবারই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আঘাত হানতে এবং পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম ‘বিশ্বসেরা’ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সারমাতের সফল পরীক্ষা চালায় রাশিয়া। এবার শোনা যাচ্ছে ওই ক্ষেপণাস্ত্র এই বছরের শরৎকালেই মোতায়েন করার পরিকল্পনা করছে দেশটি।

রাশিয়ার রোসকসমস স্পেস এজেন্সি গত বুধবার সারমাত নামের পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ক্ষেপণাস্ত্রকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সারমাত মোট ১০ টন ওজনের পরমাণু ‘ওয়ারহেড’ বহন করতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্রটির নিজের ওজন দুইশ টন। এটি চলার পথ পরিবর্তন করতে সক্ষম, তাই এটিকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা কঠিন। এই ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপে আঘাত হানতে সক্ষম।

অনেক বছর ধরে চলছিল ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরির কাজ। বেশ কয়েকবার এর উৎক্ষেপণ পেছানোর পর এমন সময় এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালান হলো যখন ১৯৬২ সালে কিউবান মিসাইল সংকটের পর প্রথমবারের মতো ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে।

দিমিত্রি রোগজিন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র মস্কো থেকে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার পূর্বে সাইবেরিয়ার ক্রাসনোয়ারস্ক অঞ্চলে একটি ইউনিটের সঙ্গে মোতায়েন করা হবে।

রোগজিন আরও বলেন, এই ‘সুপার-অস্ত্র’ পরীক্ষা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। কারণ এটা পরবর্তী ৩০/৪০ বছরের জন্য রাশিয়ানদের পরবর্তী প্রজন্মেরও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবে।

ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর পুতিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাশিয়াকে যারা হুমকি দেয় এখন থেকে সেই শত্রুদের দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে হবে। ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল পরীক্ষার পর ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, সারমাত বিশ্বের যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাস্ত করতে সক্ষম।

পুতিনের ভাষায়, এই ক্ষেপণাস্ত্রের সমকক্ষ আর একটিও এখন পৃথিবীতে নেই এবং সামনের বহু বছরেও তা হবে না। এই ক্ষেপণাস্ত্র আসলেই একটি অদ্বিতীয় অস্ত্র। এটা রাশিয়ার যুদ্ধের সক্ষমতা অনেক বাড়াবে। যারা ক্ষিপ্তভাবে উগ্র ও আগ্রাসী কথাবার্তা বলে রাশিয়াকে হুমকি দেবার চেষ্টা করছে তাদের এখন থেকে দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে হবে।

প্রাচীন কালে রাশিয়া, ইউক্রেন এবং কাজাখস্তান অঞ্চলে বাস করা সারমাতিয়ান নামে একটি যাযাবর গোত্রের নামে এটির নামকরণ করা হয়েছে। ২০০০ সালে এই ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

দফায় দফায় এর নকশা ও কৌশলও পরিবর্তন করা হয়। এটা তৈরির খরচও বেড়েছে অনেকবার। ২০১৪ সালে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন সারমাত দক্ষিণ থেকে উত্তর মেরুতে উড়ে যেতে সক্ষম।

২০১৫ সালে এটি তৈরির কাজ শেষ হয় তবে এটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ বারবার পরিবর্তন হয়েছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এর একটি ‘প্রোটোটাইপ’ উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।