ঢাকা ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
২ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফিরে এসেছে মেটার ডেস্কটপ ভার্সন, কী হয়েছিল শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনা-আজিজ-বেনজীরসহ আসামি ৪০ জনের বেশি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা ফরিদপুরে ব্যক্তি অর্থায়নে নির্মিত কয়েকটি নান্দনিক স্থাপনা ভেঙে ফেলার নির্দেশ সড়ক বিভাগের ৬-৪ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে থমাস টুখেলের শিষ্যরা ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে লিখে দিয়েছে এক বিব্রতকর অধ্যায় কুয়েতে মার্কিন সামরিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ইরানের ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা বাড়ছে, ইসরায়েলে আসছে একাধিক রিফুয়েলিং বিমান! ভাঙ্গায় বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকি, আতঙ্কে পরিবার ফরিদপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর পাটক্ষেত থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

৬-৪ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে থমাস টুখেলের শিষ্যরা

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল এক অবিশ্বাস্য গোল উৎসবে। প্রথমার্ধে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মুখে পড়ে ইংল্যান্ড। তবে শেষ পর্যন্ত ১০ গোলের থ্রিলার ম্যাচে জয় হলো ইংল্যান্ডেরই। বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক ও জুদ বেলিংহামের শেষ মুহূর্তের গোলে ৬-৪ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে থমাস টুখেলের শিষ্যরা।

মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু বিরতির পর চারটি পরিবর্তন এনে ম্যাচে নতুন প্রাণ ফেরান ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম।

৪৮ মিনিটে মাইকেল অলিসের দুর্দান্ত পাস থেকে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। ছয় মিনিট পর এমবাপের অ্যাসিস্ট থেকে ব্র্যাডলি বারকোলা ব্যবধান কমিয়ে ৪-২ করেন। এরপর ৬৬ মিনিটে অলিসের আরেকটি নিখুঁত পাস ধরে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে আবারও গোল করেন এমবাপে। স্কোরলাইন তখন ৪-৩।

এই গোলের মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়েন ফরাসি অধিনায়ক। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার ২২তম গোল। একই সঙ্গে এবারের আসরে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও নিজেকে আরও এগিয়ে নেন তিনি।

ফ্রান্সের একের পর এক আক্রমণে তখন কাঁপতে থাকে ইংল্যান্ডের রক্ষণ। ওসমান ডেম্বেলে, অলিসে ও এমবাপে বারবার গোলের সুযোগ তৈরি করতে থাকেন। ৬৪ মিনিটে ডেম্বেলের শট ঠেকান ডিন হেন্ডারসন, ৬১ ও ৭৫ মিনিটে অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হন অলিসে।

চাপ সামলাতে ৭৯ মিনিটে জুদ বেলিংহাম ও এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে মাঠে নামান টুখেল। সেই পরিবর্তন কিছুটা ভারসাম্য ফেরায় ইংল্যান্ডের খেলায়।

৮৫ মিনিটে ডিজেড স্পেন্সকে বক্সের ভেতর ফাউল করেন মালো গুস্তো। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন বুকায়ো সাকা। ইংল্যান্ড তখন আবারও ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

তবে নাটক তখনও শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে দায়ো উপামেকানোর দুর্দান্ত ইন্টারসেপশন থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন বদলি ওসমান ডেম্বেলে। ব্যবধান আবারও কমে দাঁড়ায় ৫-৪।

ফ্রান্স যখন সমতার আশায় শেষ আক্রমণে উঠছে, তখনই ম্যাচের শেষ কথা বলে দেন জুদ বেলিংহাম। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে বক্সের ভেতরে তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার। তার গোলে স্কোরলাইন হয় ৬-৪ এবং নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের জয়।

এই গোলের মাধ্যমে বেলিংহাম এবারের বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ৭-এ উন্নীত করেন, যা এক আসরে কোনো ইংলিশ ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ৬-৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচে এমবাপে ইতিহাস গড়লেও শেষ হাসি হেসেছে থ্রি লায়ন্সরাই।

ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যাটট্রিক করেন বুকায়ো সাকা। এছাড়া একটি করে গোল করেন ডেকলান রাইস, এজরি কনসা ও জুদ বেলিংহাম। ফ্রান্সের হয়ে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে, আর একটি করে গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা ও ওসমান ডেম্বেলে।

রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা আর গোলবন্যায় ভরা এই ম্যাচটি নিঃসন্দেহে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াইগুলোর একটি হয়ে থাকবে।

Tag :
জনপ্রিয়

২ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফিরে এসেছে মেটার ডেস্কটপ ভার্সন, কী হয়েছিল

৬-৪ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে থমাস টুখেলের শিষ্যরা

Update Time : ০১:০১:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল এক অবিশ্বাস্য গোল উৎসবে। প্রথমার্ধে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মুখে পড়ে ইংল্যান্ড। তবে শেষ পর্যন্ত ১০ গোলের থ্রিলার ম্যাচে জয় হলো ইংল্যান্ডেরই। বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক ও জুদ বেলিংহামের শেষ মুহূর্তের গোলে ৬-৪ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে থমাস টুখেলের শিষ্যরা।

মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু বিরতির পর চারটি পরিবর্তন এনে ম্যাচে নতুন প্রাণ ফেরান ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম।

৪৮ মিনিটে মাইকেল অলিসের দুর্দান্ত পাস থেকে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। ছয় মিনিট পর এমবাপের অ্যাসিস্ট থেকে ব্র্যাডলি বারকোলা ব্যবধান কমিয়ে ৪-২ করেন। এরপর ৬৬ মিনিটে অলিসের আরেকটি নিখুঁত পাস ধরে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে আবারও গোল করেন এমবাপে। স্কোরলাইন তখন ৪-৩।

এই গোলের মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়েন ফরাসি অধিনায়ক। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার ২২তম গোল। একই সঙ্গে এবারের আসরে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও নিজেকে আরও এগিয়ে নেন তিনি।

ফ্রান্সের একের পর এক আক্রমণে তখন কাঁপতে থাকে ইংল্যান্ডের রক্ষণ। ওসমান ডেম্বেলে, অলিসে ও এমবাপে বারবার গোলের সুযোগ তৈরি করতে থাকেন। ৬৪ মিনিটে ডেম্বেলের শট ঠেকান ডিন হেন্ডারসন, ৬১ ও ৭৫ মিনিটে অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হন অলিসে।

চাপ সামলাতে ৭৯ মিনিটে জুদ বেলিংহাম ও এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে মাঠে নামান টুখেল। সেই পরিবর্তন কিছুটা ভারসাম্য ফেরায় ইংল্যান্ডের খেলায়।

৮৫ মিনিটে ডিজেড স্পেন্সকে বক্সের ভেতর ফাউল করেন মালো গুস্তো। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন বুকায়ো সাকা। ইংল্যান্ড তখন আবারও ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

তবে নাটক তখনও শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে দায়ো উপামেকানোর দুর্দান্ত ইন্টারসেপশন থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন বদলি ওসমান ডেম্বেলে। ব্যবধান আবারও কমে দাঁড়ায় ৫-৪।

ফ্রান্স যখন সমতার আশায় শেষ আক্রমণে উঠছে, তখনই ম্যাচের শেষ কথা বলে দেন জুদ বেলিংহাম। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে বক্সের ভেতরে তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার। তার গোলে স্কোরলাইন হয় ৬-৪ এবং নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের জয়।

এই গোলের মাধ্যমে বেলিংহাম এবারের বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ৭-এ উন্নীত করেন, যা এক আসরে কোনো ইংলিশ ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ৬-৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচে এমবাপে ইতিহাস গড়লেও শেষ হাসি হেসেছে থ্রি লায়ন্সরাই।

ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যাটট্রিক করেন বুকায়ো সাকা। এছাড়া একটি করে গোল করেন ডেকলান রাইস, এজরি কনসা ও জুদ বেলিংহাম। ফ্রান্সের হয়ে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে, আর একটি করে গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা ও ওসমান ডেম্বেলে।

রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা আর গোলবন্যায় ভরা এই ম্যাচটি নিঃসন্দেহে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াইগুলোর একটি হয়ে থাকবে।