অর্থ আত্মসাতের মামলায় আলোচিত ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতারের বিষয়ে ব্রিফিং শুরু করছে র্যাব।
তিনি বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সে জন্য তাদের আজকে (বৃহস্পতিবার) গ্রেফতার করে র্যাব হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
তিনি জানান, রাসেল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ইভ্যালির গ্রাহক সংখ্যা ৪৪ লাখেরও বেশি। ‘সাইক্লোন অফার’, ‘আর্থকোয়াক অফার’, ‘ক্যাশব্যাক অফার’, ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’, ‘প্রায়োরিটি স্টোর অফার’ এর মাধ্যমে ইভ্যালি স্বল্পতম সময়ে গ্রাহক সংগ্রহ করেছে। ‘ঈদ অফার’, ‘বৈশাখী অফার’ এর পাশাপাশি ‘টি-টেন’, ‘টি-ফাইভ’, ‘ট্রি-থ্রি’সহ বিভিন্ন প্যাকেজও ঘোষণা করেছিল ইভ্যালি।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘এসব লোভনীয় অফার সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করেছিল। বিশাল অফার, বিশাল ছাড়, ক্যাশব্যাক অফার দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষদের প্রলুব্ধ করতেন। যার ফলে দ্রুততম সময়ে তার বিশাল কাস্টমার হয়ে যায়। তার (রাসেলের) ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি ছিল, তৈরিকারক বা গ্রাহকদের চেইন নেটওয়ার্কের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া।’
শিশুদের নানা পণ্যের ব্যবসা ছেড়ে যৎসামান্য পুঁজি নিয়ে রাসেল ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করেন বলে র্যাবকে জানিয়েছেন।
কমান্ডার মঈন বলেন, ‘রাসেল জানায়, ব্যবসায়িক অপকৌশল ছিল নতুন গ্রাহকের উপর দায় চাপিয়ে দিয়ে পুরাতন গ্রাহকদের আংশিক আংশিক অর্থ ফেরত অথবা পণ্য ফেরত দিতেন; যা তার দায় ট্রান্সফারের দুরভিসন্ধিমূলক অপকৌশল চালিয়ে গিয়ে তিনি প্রতারণা করে আসছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্কে যত গ্রাহক তৈরি হয়, দায় তত বাড়তে থাকে। গ্রেপ্তারকৃত রাসেল জেনেশুনে নেতিবাচক স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান।’
বিভিন্ন পণ্যে বিশাল মূল্যছাড় দিতে গিয়ে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটির ‘বিশাল আকারের দায় তৈরি হয়’ বলে জিজ্ঞাসাবাদে র্যাবকে জানিয়েছেন মোহাম্মদ রাসেল; যার পরিমাণ ‘হাজার কোটি টাকা’।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইভ্যালির দায় ছিল ৪০৩ কোটি টাকা, যেখানে তাদের সম্পদ ছিল ৬৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন সংস্থার এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃত রাসেল র্যাবকে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানান মঈন।
খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘ইভ্যালি তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একটি লোকসানি কোম্পানি। কোনো ব্যবসায়িক লাভ এ যাবত করতে পারেন নাই মোহাম্মদ রাসেল। গ্রাহকদের অর্থে যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করতেন তিনি। ক্রমে ক্রমে তার দেনা বৃদ্ধি পেয়েছে।’
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর র্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, ‘কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বা দেশিয় বড় প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়সহ বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।’
অন্য আরো এক গ্রাহক বলেন, ‘ইভ্যালির রাসেলকে যথাযথ নজরদারির মধ্যে রেখে আরও কিছুদিন সময় দেয়া উচিত। একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে তাকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত বা পণ্য দিতে বাধ্য করা যেতে পারে। তাকে ধরে নিয়ে গেলে গ্রাহকরা পণ্য বা টাকা কিছুই পাবে না।’
অনলাইন ডেস্ক 




















